কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জানা গেল যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলের কারণ

স্মরণকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানলগুলোর একটিতে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া। ছবি : সংগৃহীত
স্মরণকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানলগুলোর একটিতে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্মরণকালের অন্যতম বিধ্বংসী দাবানল চলছে, যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং ১০ হাজারেরও বেশি স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শীতকালেও লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যা একেবারে শহরটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা দিন-রাত চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, বৈরী আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব আগুনের তীব্রতাকে আরও বাড়াতে পারে। ফলে আগুন নেভানোর চেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির জন্য প্রধান কারণ হচ্ছে শুষ্ক আবহাওয়া এবং শক্তিশালী ঝড়ো বাতাস।

দাবানলের সূত্রপাত কীভাবে?

গত অক্টোবর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে মাত্র ০ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা এই অঞ্চলে অত্যন্ত কম। এই পরিস্থিতি শুষ্কতা বাড়িয়ে দেয় এবং এর সঙ্গে যোগ হয়েছে স্যান্টা অ্যানা নামে পরিচিত একটি শক্তিশালী ঝড়ো বাতাস, যা সমুদ্র থেকে আসে। স্যান্টা অ্যানা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬০-৮০ মাইল হতে পারে, কখনো কখনো এটি ১০০ মাইল বেগেও চলে, যা দাবানলের আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।

বিবিসি জানাচ্ছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ এই সপ্তাহে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই এবং বাতাসের গতি আবারও বাড়তে পারে।

মানুষ এবং অন্যান্য কারণ

এখন পর্যন্ত দাবানল সৃষ্টির জন্য প্রধানত বিরূপ আবহাওয়াকেই দায়ী করা হচ্ছে, তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, মানুষেরও কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ছড়িয়ে থাকে, তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। বিদ্যুতের লাইনও আগুন ছড়ানোর একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞ দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অগ্নি নির্বাপণ দপ্তরের নতুন নীতির কারণে দাবানল মোকাবিলায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে ট্রাম্প সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা জলবায়ু পরিবর্তনকে দাবানলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা

ক্যালিফোর্নিয়া এবং পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ অঞ্চল গত এক দশক ধরে খরা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, যা দাবানল বৃদ্ধির প্রধান কারণ। দুই বছর আগে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও অঞ্চলটি এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বর্ধিত তাপমাত্রা দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, বর্ধিত তাপমাত্রা এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে দাবানলের বিস্তার ও ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে।

এভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালেও দাবানলের ভয়াবহতা বাড়ার জন্য দুটি প্রধান কারণ রয়েছে- প্রথমত, শক্তিশালী ঝড়ো বাতাস এবং শুষ্ক আবহাওয়া, দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব।

তথ্য সূত্র : বিবিসি

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাজিলের অর্ধশতাধিক পতাকা খুলে নিল আর্জেন্টিনা সমর্থক

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়, তবুও প্রিয় দলের পাশে তারকারা

অভাব-অনটন থেকে মুক্তির ৮ আমল

নাহিদের আগুনে বোলিংয়ে ১৪১ রানেই অলআউট জিম্বাবুয়ে

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা ইসি মাছউদের

পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সিদ্ধান্ত, আসতে পারে পরিবর্তন

মুক্তি পাচ্ছেন ব্রিটেনের দীর্ঘতম কারাবন্দি নারী

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রবিনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি 

জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সিভির বাইরে নতুন বাস্তবতা: বাংলাদেশের কর্মবাজারে প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগের নতুন অধ্যায়

১০

‘আমার লাশ যেন এফডিসিতে না যায়’—রোজিনার হৃদয়ভাঙা আবেদন

১১

ব্রাজিল হারলেও ভালোবাসা অটুট, আবেগে ভাসলেন তটিনী

১২

ময়মনসিংহে রুবেল হত্যা: বাড়িওয়ালাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

১৩

কমেছে জ্বালানি তেলের দাম, স্বাভাবিক হচ্ছে বিশ্ববাজার

১৪

রাঙামাটিতে বাড়ছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি

১৫

অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে উদ্ধার রহস্যময় মহাকাশের বল, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

১৬

তেল উৎপাদন বাড়াতে পারে ওপেক প্লাস

১৭

খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে নিহত ৩

১৮

ইকরার আত্মহত্যা: জামিন মেলেনি অভিনেতা জাহের আলভীর

১৯

সুপার টাইফুনের আঘাতে লন্ডভন্ড মার্কিন দ্বীপপুঞ্জ

২০
X