রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
আবদুল লতিফ লায়ন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:১১ এএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:২২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর চালু থাকলেও বন্ধ আমদানি

বকশীগঞ্জ
ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর চালু থাকলেও বন্ধ আমদানি

ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা জামালপুরের একমাত্র স্থলবন্দরটি বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুরে। প্রায় চার মাস আমদানি বন্ধ রয়েছে বন্দরটিতে। এতে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, নানা সমস্যার কারণে আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি অর্থবছর এ বন্দরের শুল্ক বিভাগ থেকে ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কোনো আমদানি না হওয়ায় ১ টাকাও রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের জুন থেকে আমদানি বন্ধ রয়েছে ধানুয়া কামালপুরে।

১৯৭৪ সালে ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে লোকাল কাস্টমস (এলসি) স্টেশনটি চালু হয়। ধানুয়া কামালপুর এলসি স্টেশনটি ২০১৫ সালের মে মাসের দিকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপ নেয়। পাথর, আদা, সুপারিসহ প্রায় ৩৪ পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে এ বন্দর দিয়ে। বেশিরভাগ সময় মেঘালয় রাজ্য থেকে পাথর আমদানি হয়। একসময় প্রতিদিন প্রায় কয়েকশ ট্রাক পাথর নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করত এই বন্দর দিয়ে।

শ্রমিক সোহেল মিয়া বলেন, আমি পাথর ভাঙার কাজ করি। এখন পাথর ভাঙা নাই, বিভিন্ন জায়াগায় গিয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করি। বউ-বাচ্চা নিয়ে কীভাবে চলব, এই নিয়ে চিন্তায় আছি। সোহেল মিয়ার মতো আরও অনেক শ্রমিকেরই এই অবস্থা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রামের রৌমারী বন্দরে স্কেল দিয়ে পাথর পরিমাপ করা হয়। ফলে ওই বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করে বেশি মুনাফা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। আর এখানে ওয়ে ব্রিজের মাধ্যমে পাথর পরিমাপ করে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় হয়। তাই ব্যবসায়ীরা এই বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

জাবেদ ট্রেডার্সের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভারতের সড়ক ভালো না হওয়ায় সেখান থেকে ১২ টনের বেশি পণ্য আনার অনুমতি নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাস্টমস বলছে, ন্যূনতম ২৫ টন পণ্য আনতে হবে। আমাদের পণ্য আসে ১০ থেকে ১৭ টন। এর বিপরীতে চাওয়া হচ্ছে ২৫ টনের কর। ২৫ টনের কর কেন দেব। আমাদের দাবি, এখানে স্কেল আছে। ওজন দেওয়ার পর যে পরিমাণ কর আসবে, সেটাই দেব।

ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের ইনচার্জ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, বন্দরে সব কার্যক্রম সচল আছে। আমরা আমদানি-রপ্তানিকারকদের সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এখন কেউ পণ্য আনছে না, এটা তাদের বিষয়। বন্দরের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।

ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের শুল্ক বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, এখানে বন্দর চালু হওয়ার পর আমদানিকারকদের খরচ বেড়েছে, লোডিং-আনলোডিং চার্জ, লেবার চার্জ, স্কেল চার্জ দিতে হয়। অন্যদিকে রৌমারী স্টেশনে বন্দর নেই। তাই আমদানিকারকদের এই চার্জগুলো দিতে হয় না। এই কারণেই আমদানিকারকরা হয়তো ধানুয়া কামালপুর ব্যবহার করছেন না। এই বন্দর দিয়ে আমদানি চালুর বিষয়ে আমদানিকারক, স্টেকহোল্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে জাপা অফিসে ভাঙচুর

প্রতিটি জেলা থেকে ট্যালেন্ট হান্ট চালু করবে বিএনপি : আমিনুল হক 

ফুল হয়ে ফোটে খাদ্য-অর্থের অভাব মেটাচ্ছে শাপলা

এফইজেবি’র নতুন সভাপতি মোস্তফা কামাল, সম্পাদক হাসান হাফিজ

নুরের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানালেন চিকিৎসকরা

মন খারাপ হলে আমি একা একা কাঁদি: তানজিকা আমিন

বিএনপি নেতা মিল্টনের নেতৃত্বে সন্দ্বীপে ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ

নুরের খোঁজ নিলেন আমান উল্লাহ আমান

ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে, টালবাহানা চলবে না : বাবলু

সংস্কার না হলে আমাদের পরিণতিও নুরের মতো হবে : হাসনাত

১০

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে

১১

২৮ বছর পর মা-বাবাকে ফিরে পেল সন্তান

১২

মানুষের ভোট মানুষকে ফিরিয়ে দিতে চাই : টুকু

১৩

মাটি দিয়ে সাদাপাথর আড়ালের চেষ্টা, ৫০ হাজার ঘনফুট উদ্ধার

১৪

দুই হাজার ট্রেইনি কনস্টেবল নিয়োগ দিচ্ছে পুলিশ, কোন জেলায় কতজন নেবে

১৫

ছিনতাইকারীর হাতে রক্তাক্ত সাংবাদিক, আটকের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ

১৬

লন্ডনের রাস্তায় ভারতীয় ছাত্রীর কাণ্ড, ভিডিও ভাইরাল

১৭

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পিএমআই বাংলাদেশের আয়োজন

১৮

টানা ২ দফায় স্বর্ণের দাম কত বাড়ল?

১৯

চাকসু নির্বাচন / ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক, পজিটিভ হলেই প্রার্থিতা বাতিল

২০
X