দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং পতিত স্বৈরাচারের ফের ক্ষমতায় ফিরে আসার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ফের জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এক প্রশ্নে গতকাল শুক্রবার কালবেলাকে এ কথা বলেন তিনি।
মান্না বলেন, সাম্প্রতিককালে কিছু ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, চট্টগ্রামে ইসকন বাংলাদেশের এক প্রাক্তন নেতার (চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী) সফর, কিছু সাংগঠনিক তৎপরতা, তারপরে তার গ্রেপ্তার, তার জামিনের দাবিতে যেভাবে রাস্তা ঘেরাও এবং পিটিয়ে একজন আইনজীবীকে হত্যা পরিস্থিতিকে আরও গম্ভীর করে তুলেছে। যতটুকু জানা গেছে, এই বিক্ষোভের পেছনে এবং বিক্ষোভের মধ্যে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী জড়িত ছিল। এর আগে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র বিক্ষোভ, অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ, এগুলো মিলে একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে চিন্ময় ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার কেন্দ্র করে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাক্ট) করেছেন, তাদের (ভারত) মিডিয়াগুলো যেভাবে প্রচার চালাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, তারা বাংলাদেশে কল্পিত সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি দেখিয়ে কিছু করতে চায়।
মান্না আরও বলেন, ভারত এমনিতেই পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে এবং সেখান থেকে শেখ হাসিনা যে দেশদ্রোহী (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে) তৎপরতা চালাচ্ছেন, সেটির মদদ দিয়ে আমাদের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করছে না। সব মিলিয়ে এ জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত পড়লে জাতীয় ঐক্যের কথা তো আসবেই। আমার ধারণা, কথাটা এ রকম থিওরেটিক্যাল অর্থেই বিএনপি নেতারা বলেছেন। নতুন করে একটা জাতীয় ঐক্য তৈরি করে আবার আন্দোলনে যেতে হবে—এমন চিন্তা থেকে কথাটা বলা হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়নি। কারণ, সে ধরনের কোনো তৎপরতা এখনো পর্যন্ত লক্ষ করিনি।
ঐক্য সৃষ্টিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, প্রতিবন্ধকতা কেবল মানসিকতায় থাকতে পারে, অন্য কিছুতে দেখছি না। যদি ধরি, এখন যারা সরব ও সক্রিয় আছেন, বিএনপি, জামায়াত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্ল্যাটফর্ম, গণতন্ত্র মঞ্চ ও সরকার—এদের মধ্যে অনেক ব্যাপারে ভিন্নতা আছে। একটা ঐক্যমোর্চার নামে সবাই মিলে এক জায়গায় জড়ো হয়ে নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি করা কিংবা ঝগড়াঝাটি করার তো দরকার নেই।