আমজাদ হোসেন হৃদয়
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ০৮:০৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
এনসিপির সমাবেশ ৩ আগস্ট

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে আসতে পারে কঠোর কর্মসূচি

এনসিপির লোগো। ছবি : গ্রাফিক্স কালবেলা
এনসিপির লোগো। ছবি : গ্রাফিক্স কালবেলা

‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শেষে আগামীকাল ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পূর্বঘোষিত সমাবেশ হতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। সমাবেশে দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হবে ২৪ দফা ইশতেহার। একই সঙ্গে আজ শনিবারের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে এনসিপির পক্ষ থেকে খসড়া ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে এবং কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এনসিপি সূত্রে জানা যায়, পাঁচ জেলা বাদে দেশের ৫৯টি জেলায় জুলাই পদযাত্রা সম্পন্ন করেছে এনসিপি। এসব কর্মসূচি থেকে পাওয়া বার্তা তুলে ধরা হবে ৩ আগস্টের সমাবেশে। সমাবেশে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে দেড় লাখ মানুষের জনসমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা আছে তাদের। সমাবেশে রাজনৈতিক দলগুলোকে দাওয়াত না দিলেও জুলাই আহত এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জুলাইকেন্দ্রিক সংগঠনগুলোকে দাওয়াত দেওয়া হতে পারে।

সমাবেশের বিষয়ে এনসিপির কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সেলের সম্পাদক অনিক রায় গতকাল শুক্রবার কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। আগামীকালের (আজ শনিবার) মধ্যে কোনো অগ্রগতি না পেলে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করব আমরা। এ ছাড়া আমরা আমাদের দলীয় ইশতেহার পাঠ করব। নতুন বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে দেখতে চাই, এনসিপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে গঠন করতে চাই—সেসব প্রাধান্য পাবে ইশতেহারে।’

ইশতেহার তৈরির দায়িত্বে থাকা নেতারা জানান, এনসিপির ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে সেকেন্ড রিপাবলিক, গণপরিষদ নির্বাচন এবং নতুন সংবিধানকে। সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা ও গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সংবিধান রচনার সংকল্প তুলে ধরবেন তারা। যেটি তাদের ঘোষণাপত্রেও উল্লেখ করতে দেখা যায়। এ ছাড়া পরিবারতন্ত্রের অবসান, সিন্ডিকেট ও গোষ্ঠীস্বার্থ নির্মূল, ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্নির্মাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রগতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জাতীয় অর্থনীতির পুনর্গঠন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূল ধারায় অন্তর্ভুক্তি করাকে প্রাধান্য দিচ্ছে দলটি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক বলেন, ২৪-কে ধারণ করে ২৪ দফা দেওয়া হবে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরা হবে।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মো. ওয়াহিদুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, জুলাই পদযাত্রায় আমরা গণমানুষের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় পেয়েছি, সেগুলো সমাবেশে তুলে ধরব। বিচার, সংস্কারের দাবি এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরব আমরা। সমাবেশে এক থেকে দেড় লাখ মানুষের সমাগম করার চিন্তা আছে আমাদের।

এদিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সমাবেশস্থল হিসেবে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে এনসিপিতে। একই স্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও সমাবেশ ডাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে এনসিপিকে শহীদ মিনার ছেড়ে নিজেদের সমাবেশ শাহবাগে সরিয়ে নিয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছে ছাত্রদল। এনসিপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে কৃতজ্ঞতা। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব কালবেলাকে বলেন, ছাত্রদলকে আমরা বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। সম্প্রীতির রাজনীতির উদাহরণ তৈরি করেছে তারা। আমরা পূর্বঘোষিত শহীদ মিনারেই কর্মসূচি করব। ৩ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করব আমরা।

এর আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সমাবেশে বলেন, ‘আমরা শহীদ মিনারে ইশতেহার ঘোষণা করব, সেখানে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মুক্তির কথা থাকবে। সেখানে নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের রূপরেখা থাকবে। আমরা এখন লড়াই করছি দেশ গঠনের, নতুন বাংলাদেশ গঠনের। যেখানে আর বৈষম্য থাকবে না, যেখানে আর ফ্যাসিবাদ থাকবে না। যেখানে অন্যায় ও চাঁদাবাজ থাকবে না।’

এদিকে, চব্বিশের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির অঙ্গীকার রেখে ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের’ একটি খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এনসিপি এই ঘোষণাপত্রে মতামত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

২৬ দফার এ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থার যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

‘এবং বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। বিশেষত, সংবিধানের প্রস্তাবনায় এর উল্লেখ থাকবে এবং তপশিলে এর ঘোষণাপত্র সংযুক্ত থাকবে।” এ ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট থেকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলের মুনাফার হার নির্ধারণ

খামেনিকে বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গীকার করলেন ইরানের নির্বাসিত নেতা

এবার ম্যাচ বয়কটের হুমকি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা

জামায়াত-এনসিপিসহ ৪ দলকে সতর্ক করল ইসি

অর্ধশতাধিক আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, কারণ জানাল খেলাফত মজলিস 

মোটরসাইকেলে ভারতীয় সেনাদের ব্যতিক্রমী কসরত

আগামী দিনে জাতির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান : মান্নান

এবার ভারত মহাসাগরে বিতর্কিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জে নজর ট্রাম্পের

চেতনানাশক মিশ্রিত জুস খাইয়ে লুট, গ্রেপ্তার ৫

১০

এভাবেই তো নায়ক হতে হয়!

১১

জঙ্গল সলিমপুরে শিগগিরই অভিযান : র‍্যাব ডিজি

১২

সমর্থকরা আটকে রাখলেন প্রার্থীকে, ভিডিও কলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

১৩

জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

১৪

ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে জমিয়তের বৈঠক

১৫

আইসিসি থেকে মিলল সুখবর

১৬

যে নিয়মে বাড়িভাড়া বাড়াতে হবে মালিককে

১৭

কড়াইল বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট ও ক্লিনিক স্থাপনের আশ্বাস তারেক রহমানের

১৮

আমরা বুড়ো হয়ে গেছি—চঞ্চলকে বললেন পরী

১৯

রূপায়ণ সিটির বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত

২০
X