

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ায়রি) দুপুর আড়াইটার দিকে পতেঙ্গার র্যাব কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজায় উপস্থিত ছিলেন র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সহকর্মী এবং স্থানীয় মানুষজন।
জানাজার পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত র্যাব পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে। মোতালেব হোসেনের পরিবার অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত। তার স্ত্রী স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানরা পিতা হারিয়েছে। আমরা তাদের ফেরাতে পারব না, তবে পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি। পরিবার যেন কোনোভাবে অসহায় না হয়, সে বিষয়ে র্যাব পাশে থাকবে।
একেএম শহিদুর রহমান জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে বলেন, এলাকাটি বর্তমানে সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। যারা এখানে অবৈধভাবে বসবাস করছে এবং অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব দ্রুতই সেখানে অভিযান চালানো হবে। ২০২৪ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত র্যাব অনেক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করেছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। প্রতিটি অভিযানে ঝুঁকি থাকে এবং সোমবারের ঘটনাটিও তেমন একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছিল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য তখন সদস্যরা গুলি চালানো থেকে বিরত ছিলেন।
ডিজি একেএম শহিদুর রহমান বলেন, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তা সংশোধন করে ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। হামলায় জড়িত কয়েকজনের নাম ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষায় র্যাব সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে। যে কোনো ঝুঁকি নিয়েই হোক, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, র্যাব সদস্যরা সাদা রঙের দুটি মাইক্রোবাসে চড়ে অভিযানে গেলে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। ফুটেজে মাইক্রোবাস ভাঙচুরের দৃশ্যও স্পষ্ট দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় অবৈধভাবে বসতি স্থাপন, পাহাড় কেটে প্লট বানানো, অস্ত্রের বিস্তার এবং স্থানীয়দের উপর চাঁদাবাজি একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় র্যাবের নজরদারি ও অভিযান অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
র্যাবের এই অভিযান শুধু সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নয়, একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অস্ত্র ও স্থাপনা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেও পরিচালিত হচ্ছে। যে কোনো ঝুঁকি থাকলেও র্যাব জনগণের সুরক্ষায় সর্বদা দায়িত্বশীল থাকবে। অভিযান সফল করতে আমরা সকল সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেব।
র্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমানের এ ঘোষণা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য র্যাব দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এলাকার অবৈধ কার্যক্রম, অস্ত্র ব্যবসা এবং সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে।
মন্তব্য করুন