ড. জাহিদ হোসেন
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

দারিদ্র্যই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষণ
দারিদ্র্যই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি (ট্যারিফ) এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দরপতন বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি করেছে। এ সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আর্থিক খাতের সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।

অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো ছোট নয়। সম্প্রতি পিপিআরসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা গত তিন বছরে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ, খাদ্যের মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানে বৈষম্য। অর্থাৎ মানুষের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি। ফলে বহু মানুষ এখন দারিদ্র্যের কিনারায় অবস্থান করছে। তথ্য অনুযায়ী, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২৮ শতাংশ হলেও অল্প একটি ধাক্কা এলে আরও বড় অংশ দারিদ্র্যের নিচে চলে যাবে। আমার মতে, এটাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে সবকিছুর মধ্যেও নতুন কিছু সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির কারণে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী চীন ও ভারতের পণ্য রপ্তানিতে খরচ বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের ওপর ট্যারিফ কম, যা মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড বা মিয়ানমারের মতো দেশগুলো আমাদের মতোই সুযোগ পাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা করার সম্ভাবনা বেড়েছে।

আরেকটি সুযোগ এসেছে ডলারের দর কমে যাওয়ায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্যের দাম নির্ধারণ হয় ডলারে। ডলারের মান কমে গেলে অনেক দেশের স্থানীয় মুদ্রায় বাংলাদেশের পণ্য তুলনামূলক সস্তা হয়ে পড়ে। এতে দক্ষিণ কোরিয়া বা ইউরোপের মতো বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডলারের এই দরপতন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চাহিদা বৃদ্ধির একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

সুযোগ থাকলেই হবে না, তা কাজে লাগাতে প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি ও সুশাসন। বন্দরে জট, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে ঘুষ, এনবিআরের অদক্ষতা—এসব সমস্যা রপ্তানিকারকদের ভোগাচ্ছে। আবার শ্রমিক অসন্তোষও বড় বাধা। অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের এক মাসের বেতন তিন মাস পর দেওয়া হয়। ফলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা। শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত দেওয়া, লজিস্টিক খাতের জটিলতা কমানো এবং কাস্টমস প্রক্রিয়াকে সহজ করা গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বাজারে বাড়তি চাহিদা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তা না হলে সুযোগগুলো সম্ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ড. জাহিদ হোসেন

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৫০

বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতানো সঞ্জয়ের অজানা তথ্য 

গাজীপুরে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

চুক্তিতে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প : ইরান

‘দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করবে যুবদলের নতুন নেতৃত্ব’

বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন প্রয়াত কারিনা কায়সার

জয়া আহসানের নতুন সিনেমা মুক্তির ঘোষণা

আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ

কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয় যুবক আরিফকে

বিশ্লেষণ / লেবাননকে পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান

১০

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী / ‘বিরোধী দলের প্রধান কাজ দেশকে অশান্ত করা’

১১

টিজারে বিজয় সেতুপতির হুঁশিয়ারি

১২

সাবেক এমপির মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

১৩

ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশি বেনাপোল দিয়ে ফেরত

১৪

‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন ডা. শফিকুর রহমান

১৫

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হলে লেবাননেও সংঘাত থামতে পারে

১৬

শাহবাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বিড়াল, ২৫ মিনিট বন্ধ ছিল মেট্রোরেল

১৭

নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর

১৮

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

১৯

২০২৫ সালে ৫৬% বেসামরিক মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরায়েল

২০
X