আমেনা হীরা
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্পের নতুন আদেশে লাখো বাংলাদেশির স্বপ্নভঙ্গ

মার্কিন অভিবাসী ভিসায় স্থগিতাদেশ
মার্কিন অভিবাসী ভিসায় স্থগিতাদেশে বাংলাদেশির স্বপ্নভঙ্গ। ছবি: কালবেলা
মার্কিন অভিবাসী ভিসায় স্থগিতাদেশে বাংলাদেশির স্বপ্নভঙ্গ। ছবি: কালবেলা

দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন নীতির নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে ১৪ জানুয়ারি থেকে। সেদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (গ্রিন কার্ড, ফ্যামিলি রিইউনিয়ন বা এমপ্লয়মেন্ট-ভিত্তিক স্থায়ী ভিসা) প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের কথা জানায়। তালিকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ব্রাজিলের মতো দেশ রয়েছে। এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি থেকে, যার ফলে বাংলাদেশ থেকে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আশায় থাকা লাখো পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার, হঠাৎই ভেস্তে যেতে বসেছে তাদের সাজানো-গোছানো পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করছে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ দেশকে। নতুন এই নীতি শুধু অভিবাসনকেই কঠিন করে তুলবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, কূটনীতি ও মানবিক অধিকারের ওপরও গভীরভাবে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্থগিতাদেশ সহজেই উঠছে না জানিয়ে তারা বলেন, এ আদেশকে সাময়িক বলা হলেও এটি সহজেই তুলবে না ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন আদেশের ফলে ‘যোগ্য’ অভিবাসী ছাড়া অন্যদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কঠিন হয়ে পড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের মূল্যায়ন শেষে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেও এটি বাংলাদেশিদের ঢালাওভাবে দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ কমাবে বলে মনে করছেন মার্কিন আইনজীবীরা।

যেসব দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেশটির সরকারি সাহায্যের (যেমন ওয়েলফেয়ার, মেডিকেড, ফুড স্ট্যাম্পস) ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের দাবি, এ দেশগুলো থেকে যাওয়া অভিবাসীদের ওভারস্টে (ভিসার মেয়াদ শেষেও থেকে যাওয়া), জালিয়াতি এবং পাবলিক বেনিফিট ব্যবহারের হার বেশি। অবশ্য এ তালিকায় থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ব্রাজিলের মতো ‘অপ্রত্যাশিত’ দেশের অন্তর্ভুক্তি অনেককেই অবাক করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দেশের অভিবাসীদের পাবলিক চার্জ (কোনো অভিবাসীর খাদ্য, আবাসন বা নগদ সহায়তার মতো সরকারি সাহায্য গ্রহণের সম্ভাবনা বেশি হলে স্থায়ী বসবাসের জন্য অযোগ্য ঘোষণা) ঝুঁকি কম, কিন্তু ট্রাম্পের ‘সিকিউরিটি ফার্স্ট’ অ্যাপ্রোচ এগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, থাইল্যান্ড থেকে যাওয়া অভিবাসীরা সাধারণত উচ্চশিক্ষিত এবং স্বনির্ভর; কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের মধ্যে ওভারস্টে এবং জালিয়াতির হার বেশি।

ট্রাম্প প্রশাসন মূলত এ মেয়াদে ক্ষমতায় এসে পাবলিক চার্জ রুলকে বিস্তৃত করেছে। ১৮৮২ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টে এ ধারা ছিল; কিন্তু ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির প্রথম মেয়াদে এটাকে প্রসারিত করেছিলেন। তার প্রশাসনের দাবি, কিছু কিছু দেশের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সাহায্য (ওয়েলফেয়ার, মেডিকেড, ফুড স্ট্যাম্পস, হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্স ইত্যাদি) নির্ভর হয়ে দেশটির করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তারা বলছে, ‘অভিবাসীরা আমেরিকানদের সম্পদ নিয়ে যাচ্ছে’। তাই পাবলিক চার্জ রুলের অধীনে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি বন্ধ। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে (২০১৭-২০২১) এ নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত করেছিলেন। তখন স্বাস্থ্য, বয়স, শিক্ষা, ইংরেজি দক্ষতা, আর্থিক সামর্থ্য, পরিবারের আকার সবকিছু বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হতো যে কেউ পাবলিক চার্জ হবে কি না। এমনকি কোনো অভিবাসী যদি ভবিষ্যতে মেডিকেড বা ফুড স্ট্যাম্পস নিতে পারে বলে মনে হয়, তাহলেও ভিসা বাতিল হতে পারত। বাইডেন প্রশাসন এ কঠোরতা কমিয়ে দিয়েছিল; কিন্তু ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে এটা ফিরিয়েই শুধু আনেননি, করেছেন আরও কঠোর। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে জনকল্যাণমূলক সেবাপ্রাপ্তির চেষ্টা করেন। এমন প্রেক্ষাপটে জনকল্যাণমূলক খরচ বিলিয়ন ডলার কমানোসহ দেশটির অনেক নাগরিক এটাকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং চাকরির নিরাপত্তার জন্য যথার্থ বলছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে দেশটির অর্থনীতি এবং শ্রমবাজার সুরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘এই ভিসা স্থগিতাদেশের পেছনে একটা স্পষ্ট অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজার-সংক্রান্ত যুক্তি কাজ করছে। এই ৭৫টি দেশ, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে, মূলত এসব দেশ যারা অভিবাসন করে, তারা প্রায়ই অল্প বেতনে যে কোনো ধরনের কাজ করতে রাজি হয়ে যান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিম্নমানের শ্রমিকের প্রবাহ বাড়ে, যা স্থানীয় নিম্ন-দক্ষতার কর্মীদের জন্য প্রতিযোগিতা তৈরি করে এবং মজুরির হার নিচে নামিয়ে দেয়। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে পাবলিক চার্জ নীতির আলোকে দেখছে অর্থাৎ, এই অভিবাসীরা সরকারি সাহায্য নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু আসলে এটা একটা স্মার্ট ফিল্টার: তারা পেশাদার, উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসীদের (যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ) আসতে দিতে চায়, কিন্তু ‘ঢালাও’ বা অল্প বেতনের শ্রমিক হিসেবে নিম্ন-দক্ষতার অভিবাসীদের আসতে দেবে না। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করা যায়, যদিও এটা বৈষম্যমূলক এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটা ধাক্কা। বাংলাদেশের মতো দেশ থেকে যারা এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যায়, তাদের জন্য এটা স্বপ্ন ভাঙার নতুন অধ্যায়।’

অভিবাসী হতে পারেন যারা: যুক্তরাষ্ট্র শুধু পারিবারিক সম্পর্ক, কর্মসংস্থান, দত্তক গ্রহণ, বিশেষ শ্রেণি ও ডাইভারসিটির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেয়। বিশেষ শ্রেণির আওতায় পড়বেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দপ্তরের হয়ে কাজ করা সাবেক কর্মীরা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের যোগ্যতার কঠোর শর্তপূরণ সাপেক্ষে অ্যানুয়াল ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের আওতায় অভিবাসী ভিসা দেওয়া হয়। ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদনের যোগ্য হন, কোনো মার্কিনির স্বামী বা স্ত্রী, বাগদত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং সেখানে বসবাস করেন—এমন ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং দত্তক নিতে চাওয়া কেউ। এ ছাড়া পেশাজীবী এবং ইরাক ও আফগানিস্তানে দোভাষী কিংবা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা অভিবাসী ভিসার আওতায় পড়েন।

কত বাংলাদেশি যান যুক্তরাষ্ট্রে: যুক্তরাষ্ট্র ২০২২-এর অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ৫৯ হাজার ২৫৪টি ভিসা ইস্যু করে। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৬৭৪টি ছিল নন-ইমিগ্র্যান্ট এবং ১৪ হাজার ৫৮০টি ছিল ইমিগ্র্যান্ট ভিসা। নতুন সিদ্ধান্তে মূলত সমস্যায় ফেলবে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে দেশটিতে আইনগতভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৯০ জন বাংলাদেশি। পরের বছর এটি কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ১০ জনে। করোনাকালে ভিসা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ২০২১ সালে অনুমতি পান ৬ হাজার ১৮০ জন বাংলাদেশি। এরপর আবার বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে ১০ হাজার ১৪০ জন এবং ২০২৩ সালে ১৮ হাজার ২৪০ জন বাংলাদেশি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান। যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে যারা নাগরিকত্ব নেন, তাদের অনেকেই আয়ের একটি অংশ বাংলাদেশে পাঠান। যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় নিয়োজিত এমন একাধিক পেশাজীবী কালবেলাকে বলেন, দেশটিতে অভিবাসনের জন্য বাংলাদেশি কোনো কোনো পরিবারের ১৫-১৬ জনেরও আবেদন জমা আছে। এ হিসাবে কয়েক লাখ বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা ধাপে ধাপে দেশটিতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারপারসন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান অ্যাটর্নি এট ল মঈন চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘এটা (ভিসা স্থগিতাদেশ) একটা অমানবিক সিদ্ধান্ত। এখন বিয়ে করলে স্ত্রী আসতে পারবেন না। আবার অনেকেই বাংলাদেশে কর্মজীবন শুরু না করে অপেক্ষায় থাকেন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, তাদের অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন। ভিসা দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলে জটিল সমস্যা তৈরি করবে।’

বাংলাদেশ কেন তালিকায়: ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভিসা স্থগিতাদেশ দেওয়া দেশগুলোর থেকে আসা অভিবাসীরা ‘অ্যাক্সেপটেবল রেট’ বা গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে বেশি সরকারি সাহায্য নেয়। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশের আলোকে অভিবাসীদের অবশ্যই স্বনির্ভর হতে হবে, না হলে আসতে পারবে না। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটা বৈষম্যমূলক। বৈধ অভিবাসনকে প্রায় বন্ধ করে দিচ্ছে, যা অবৈধ অভিবাসন বাড়াতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষতিও হবে। আমেরিকান অ্যাটর্নি অ্যাট ল মঈন চৌধুরী এই স্থগিতাদেশকে একটা ‘স্ব-সৃষ্ট ফল’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেকেই আগে এই সুবিধা নিয়েছে এবং কল্যাণমূলক খাতের অর্থ ভোগ করেছে, ফলে আমাদের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের জনগণের জন্যই এমন ভোগান্তি ভোগ করছি।’ তার মতে, এটা বাংলাদেশি কমিউনিটির কারও কারও দায়িত্বহীনতার ফল, যা এখন সবাইকে প্রভাবিত করছে। অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে কাজ না করে অনেকেই জনকল্যাণমূলক তহবিলের অর্থের আশায় থাকে। যার অন্যতম কারণ অদক্ষ হওয়া।

মঈন চৌধুরী বলেন, ‘এই ভিসা স্থগিতাদেশের পেছনে একটা স্পষ্ট বাস্তবতা কাজ করছে। বাংলাদেশের অনেক অভিবাসী কল্যাণমূলক খাতের অর্থ গ্রহণ করে ভোগ করেছে, যা করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। আমরা বাংলাদেশিরা নিজেদের জনগণের জন্যই এই সিদ্ধান্তে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। কিছু লোকের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং সুযোগের অপব্যবহারের ফলে এখন সবাইকে একসঙ্গে শাস্তি পেতে হচ্ছে। এটা একটা সতর্কবার্তা যে, অভিবাসনের পথে স্বনির্ভরতা এবং দায়িত্বশীলতা না থাকলে এমন কঠোর নীতি আসতেই পারে। আমাদের কমিউনিটিকে এখন আরও সচেতন হয়ে উঠতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন সাধারণীকরণ এড়ানো যায়।’

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব: অর্থনৈতিক দিক থেকে এই স্থগিতাদেশ বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের কাছ থেকে বছরে বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের জিডিপির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন সিদ্ধান্তে অভিবাসন কমলে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহও কমতে পারে, যা পরিবারের আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে। অনেক বাংলাদেশি যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আশায় বিনিয়োগ করেছেন বা চাকরির সুযোগ খুঁজছেন, তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। এতে মানসিক চাপ, হতাশা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

এই স্থগিতাদেশ শুধু ইমিগ্র্যান্ট ভিসাকে প্রভাবিত করেছে। নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা যেমন স্টুডেন্ট, ট্যুরিস্ট, বিজনেস এখনো চলবে। তাই ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ বা অন্যান্য ভ্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব। আমেরিকান অ্যাটর্নি অ্যাট ল মঈন চৌধুরী এই স্থগিতাদেশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি জন্য ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘এই ভিসা স্থগিতাদেশ বাংলাদেশের ওপর অনেক বড় প্রভাব ফেলবে। এটা শুধু কয়েকজনের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ভাঙার ঘটনা নয়, এটা আমাদের দেশের অর্থনীতি ও পরিবারের জন্য একটা গভীর ধাক্কা। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে আমেরিকার অংশটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর প্রায় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স যায়, যা আমাদের জিডিপির একটা বড় অংশকে ধরে রাখে। এই স্থগিতাদেশের কারণে নতুন অভিবাসন কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমবে। যা পরিবারের আয়, সন্তানের শিক্ষা, বাড়িঘরের খরচ, এমনকি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।’

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অনেকেরই বাংলাদেশে থাকা পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস রেমিট্যান্স—এমনটি জানিয়ে মঈন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, তারা তো ভালো করেই জানি যে অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই রেমিট্যান্স। আরও বড় কথা হলো, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অনেক বাংলাদেশি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। যারা ভেবেছিলেন কয়েক বছর পর স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা বাবা-মাকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসবেন, একসঙ্গে বসবাস করবেন। সেই স্বপ্নও এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত। এটা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, এটা মানসিক ও পারিবারিক ক্ষতি, যা টাকায় পরিমাপ করা যাবে না।’

এই স্থগিতাদেশকে অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ দেখছেন ‘ব্লেসিং ইন ডিসগাইজ’ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের ব্রেন ড্রেইন (মেধার স্থানান্তর) রোধ করবে। অনেকে বিদেশে পাড়ি দিয়ে ভিন্ন দেশের জন্য কাজ করছেন। দেশে ট্যালেন্ট (মেধাবী) কমছে। আমরা তাদের দেশে কাজে লাগাতে পারি। অভিবাসনের ওপর নির্ভর না করে স্বাবলম্বী হওয়া উচিত। এটা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথ খুলে দিতে পারে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলের মুনাফার হার নির্ধারণ

খামেনিকে বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গীকার করলেন ইরানের নির্বাসিত নেতা

এবার ম্যাচ বয়কটের হুমকি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা

জামায়াত-এনসিপিসহ ৪ দলকে সতর্ক করল ইসি

অর্ধশতাধিক আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, কারণ জানাল খেলাফত মজলিস 

মোটরসাইকেলে ভারতীয় সেনাদের ব্যতিক্রমী কসরত

আগামী দিনে জাতির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান : মান্নান

এবার ভারত মহাসাগরে বিতর্কিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জে নজর ট্রাম্পের

চেতনানাশক মিশ্রিত জুস খাইয়ে লুট, গ্রেপ্তার ৫

১০

এভাবেই তো নায়ক হতে হয়!

১১

জঙ্গল সলিমপুরে শিগগিরই অভিযান : র‍্যাব ডিজি

১২

সমর্থকরা আটকে রাখলেন প্রার্থীকে, ভিডিও কলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

১৩

জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

১৪

ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে জমিয়তের বৈঠক

১৫

আইসিসি থেকে মিলল সুখবর

১৬

যে নিয়মে বাড়িভাড়া বাড়াতে হবে মালিককে

১৭

কড়াইল বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট ও ক্লিনিক স্থাপনের আশ্বাস তারেক রহমানের

১৮

আমরা বুড়ো হয়ে গেছি—চঞ্চলকে বললেন পরী

১৯

রূপায়ণ সিটির বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত

২০
X