

নির্বাচন থেকে সরে যেতে দলের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ এবং সর্বশেষ সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কার করা হলেও বিএনপির ‘অভিমানী’ নেতাদের কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত রয়ে গেছেন নির্বাচনের মাঠে। গতকাল মঙ্গলবার শেষ দিনেও বেশ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এসব নেতাকে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে দলটি। আর বিএনপির ‘বিদ্রোহীরা’ মনে করছেন, দল থেকে যে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বা জোটের যে প্রার্থীকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে, তার চেয়ে তাদের নিজের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাদের দাবি, মূলত নিজ এলাকার মানুষের অনুরোধেই তারা ভোট করছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতাদের ফোকাস না করলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই এগোচ্ছেন বিদ্রোহীরা। তাই জয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
অবশ্য বিএনপি বলছে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিএনপির যেসব নেতা ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে’ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে রয়ে গেছেন, তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। বিএনপির প্রত্যাশা, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে বা সমঝোতার ভিত্তিতে জোটকে যেসব আসন ছেড়ে দিয়েছে, নেতাকর্মীরা তাকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে তৃণমূলে এরই মধ্যে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের যেসব নেতা এই নির্দেশনা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দল। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি।
নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ধানের শীষ ও জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হওয়ায় গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দুজনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এর আগে আরও অন্তত ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কালবেলাকে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিএনপির যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কেউ কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন, সমঝোতা করেছেন, পার্টির নির্দেশ মেনেছেন। যারা দলের সিদ্ধান্ত মানেননি, তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে—সেটি আমরা করেছি। এর বেশি তো আর কিছু করার নেই। সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পরে তো তাদের ব্যাপারে আমাদের দায়-দায়িত্ব থাকে না। তবে এদের সংখ্যা খুব বেশি নয়।
বিএনপির তৃণমূল নেতারা জানান, দলের নেতারা ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থাকায় স্থানীয় ইউনিটগুলোতে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে নির্বাচনী সমন্বয়ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, নিবন্ধিত শরিকরা তাদের নিজস্ব প্রতীকে এবং অনিবন্ধিত শরিকরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন। বিজয় নিশ্চিত করতে কৌশলের অংশ হিসেবে শরিক কয়েকটি দলের নেতাদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী করা হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, জোটের আট শীর্ষ নেতা ধানের শীষে ভোট করছেন। অন্যদিকে, নিবন্ধিত ছয়টি দলের নয়জন নেতা তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আসন ছেড়ে দেওয়া ১২টি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দলগুলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক।
ধানের শীষ না পেয়ে শতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের অনেককে ধানের শীষ বা বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিজয়ে ‘প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই প্রতিটি আসনে দলের একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে বিএনপি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেন্দ্রের নির্দেশনায় অঞ্চলভিত্তিক বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা চালান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়। সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকায় ডেকে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেন, একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দেন।
দেখা গেছে, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার পর অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান অন্যতম।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে জয়পুরহাট-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রয়াত শহীদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি), মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভোলা-১ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর। এ আসনটি জোট শরিক বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
তবে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরও স্বতন্ত্র হিসেবে ঢাকা-১২ থেকে দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব এবং ঢাকা-১৪ থেকে দারুস সালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএ সিদ্দিক সাজু নির্বাচনে রয়ে গেছেন। এরই মধ্যে দুজনকেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে ঢাকা-১২ আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। আর ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম তুলিকে ধানের শীষের প্রার্থী করেছে দলটি।
জানতে চাইলে সাইফুল আলম নীরব কালবেলাকে বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান, এখানেই বড় হয়েছি, এই এলাকায় ৪৩ বছর রাজনীতি করি। এই মাটির টানে, এই জনগণের টানে আমি ঢাকা-১২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমার বিশ্বাস, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ জিয়ার সৈনিক, শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করি। আমি খালেদা জিয়ার সৈনিক, তারেক রহমানের সৈনিক। আমি বিএনপিতে আছি, বিএনপিতে থাকব, বিএনপির সৈনিক।’
পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে ধানের শীষ না পেয়ে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন হাসান মামুন। দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় কেন্দ্রীয় এই সদস্যকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এ জন্য গতকাল ফিরোজকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘মব সৃষ্টিকারীদের হাতে ভোট নেই, ভোট সাধারণ মানুষের হাতে। মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্মান ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে যারা চেষ্টা করে, যারা সুখে-দুঃখে সব সময় মানুষের পাশে থাকে—সেটা বিবেচনায় নিয়ে মানুষ তাদেরকেই ভোট দেয়। সে কারণে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যারা আমাকে বিজয়ী করবেন, সেই সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন, করণীয় ঠিক করবেন।’
সাইফুল ইসলাম ফিরোজও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দলের জন্য কাজ করেছি। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে—যিনি বিএনপির কেউ নন। তিনি অন্য এলাকার, সাধারণ মানুষও তার সঙ্গে নেই। নেতাকর্মী-সমর্থকদের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।’ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে কালীগঞ্জে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী-সমর্থকদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, এখনও আছি। কারণ, তারাই আমার ভরসা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই আমাকে স্বতন্ত্র নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবেন।’
মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জ সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান আতা। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলার দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে থাকায় গতকাল তাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এই আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
জানতে চাইলে আতাউর রহমান আতা বলেন, ‘আমি বিগত ১৬ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তারপরও মাঠে থেকে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। দল একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি সেটি মেনে নিতে পারিনি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় দল আমাকে বহিষ্কার করতেই পারে। দলের কাজ দল করেছে, আমার কাজ আমাকে করতে হবে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। এই দলে বহিষ্কার মানেই শেষ নয়। অনেকেই বহিষ্কারের পর আবার প্রমোশন পেয়েছেন। আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন, আলহামদুলিল্লাহ।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ কারণে বিএনপি তাকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করেছে। তবে রুমিন ফারহানা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। কিন্তু সে আসনে বিএনপির প্রার্থীও রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে মীর শাহে আলমের চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমার আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়ে গেছেন। এখন কোনো সমাধানের সুযোগ নেই। তারা তাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমাকে উপেক্ষা করেছে।’
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। জোটকে কেন দেয়নি, তা দলই বলতে পারবে। দলকে বিজয়ী করতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করব।’
ঋণখেলাপি হওয়ায় বগুড়া-২ আসনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন মান্না। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত ঋণ পুনঃতপশিল করায় উচ্চ আদালতের আদেশে প্রার্থী হওয়ার পথ খোলে তার। তবে ২ জানুয়ারি স্বাক্ষর জটিলতায় বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, পরে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান মান্না। সে সময় শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তখন থেকেই ভোটারদের মনে সংশয় ছিল, পরবর্তী সময়ে তাকে প্রত্যাহার করে মান্নাকে সমর্থন দেওয়া হতে পারে। কিন্তু তা করা হয়নি এবং গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কেউ প্রত্যাহার করেননি। মান্না ঢাকা-১৮ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন।
মন্তব্য করুন