রোজার আগেই গরম হয়ে উঠেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার। এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা পর্যন্ত। এ সময় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
৩০-৪০ টাকার টমেটোর কেজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ২০ টাকা বেড়ে বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় উঠেছে। আলুর কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছে। মোটা ডাল বা অ্যাঙ্কর ডালের কেজি ৯০ টাকা, যা এক মাস আগে ৭০ টাকায় পাওয়া যেত। ছোলার কেজি মানভেদে ৯৫ থেকে ১৩০, সাধারণ মানের খেজুরের কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। চিনিতে শুল্ক কমলেও দাম না কমে ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৩ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও বেশিরভাগ দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এতে আগের দাম ৭০ টাকাতেই চিনি কিনতে পারবে টিসিবির উপকারভোগী ১ কোটি কার্ডধারী পরিবার। যদিও বুধবার টিসিবি চিনির মূল্য কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে ১০০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে।
জানা গেছে, গরিব, দুঃখী মানুষের কষ্টের অনুভূতি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মুসলিম সম্প্রদায় হিজরি সনের এ মাসব্যাপী সংযম পালন করে। তবে সংযমের কথা বলা হলেও এ মাসেই সব থেকে বেশি ব্যয়ের রেকর্ড গড়ে ওঠে। সেহরি ও ইফতারকেন্দ্রিক সব থেকে বেশি ভোগের তথ্য এ মাসেই বেশি। পণ্যের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির প্রবণতাও রোজার মাসেই বেশি। ফলে বিপাকে পড়েন সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। তবে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকারের তর্জন-গর্জন শুরু হয় এক মাস আগে থেকে। এ বছর পণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড়ও দিয়েছে সরকার। তার পরেও বাজারে বেড়েছে চিনি, খেজুর ও চালের দাম। তবে শুল্ক কমানোর প্রভাবে সরবরাহকারী কোম্পানি ভোজ্যতেলের লিটারে ১০ টাকা করে কমিয়েছে। যদিও নির্ধারিত দামে ভোক্তা তেল কিনতে পারছে না।
সমালোচকরা বলছেন, এখন আর রোজার মাসে নয়, রোজার আগেই বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। ফলে রোজার মাসে ব্যবসায়ীরা বুক ফুলিয়ে বলে থাকে রোজায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। আমরা কথা রেখেছি।
এ দিকে রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলোতে শাক-সবজির দাম ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল প্রতি পিস ফুল ও বাঁধাকপির দাম ১০ টাকা বেড়ে আকারভেদে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে আগের দামেই ৪০ টাকা কেজি দরে আছে মুলা, পেঁপে ও সালগম। ১৫ থেকে ২০ দিনের ব্যবধানে প্রতি পিস লাউয়ে প্রায় ৫০ টাকা কমে এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় উঠেছে। কাঁচা মরিচ কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন সবজি পটোল, বরবটি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গার কেজি ৬০ টাকা, ঝিঙ্গার কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিমের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলার কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, লতির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ১২০ টাকা ও কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে টিসিবির অনুষ্ঠানে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, আমরা কখনই চাই না পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে বাজারের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে। বাজারে যদি সাধারণ গতি থাকে, সুষ্ঠুভাবে চলে, আমি বিশ্বাস করি বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া যাবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। তবে সেটা না হলে আমরা সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেব। এ রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে।