আবারও আলোচনায় বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তবে এবার পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধের জেরে মুখোমুখি অবস্থানে তারা। বাবা-ছেলের বিরোধ পৌঁছেছে থানা পর্যন্ত। গত শনিবার রাতে হাটহাজারী থানায় নাছিরের পক্ষে মামলা করেন ডালিয়া নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ারের কেয়ারটেকার নুরুল ইসলাম। এতে মীর হেলাল ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামি আরও ২০-২৫ জন।
এর আগে হাটহাজারীর ঐতিহ্যবাহী পুণ্ডরীক ধামের জায়গা-সম্পত্তির দখল নিয়েও আলোচনায় আসেন মীর নাছির ও তার ছেলে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সংবাদ সম্মেলনও করেছে। পরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে মীর হেলাল দাবি করেন, এটা বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা এবং অসত্য, ভিত্তিহীন।
ছেলের বিরুদ্ধে বাবার মামলার সত্যতা স্বীকার করে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, মীর নাছিরের পক্ষে ডালিয়া নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ারের কেয়ারটেকার নুরুল ইসলাম থানায় মামলা করেছেন। মীর হেলালসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, এটা আমার মায়ের সম্পত্তি। বাবা এককভাবে কীভাবে ভাড়া দেবেন। আমার বোন আছেন, আমি আছি; সবাই মিলে তো ভাড়া দেব। এটাই স্বাভাবিক। এটা নিয়ে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর কী হলো, সেটা জানি না।
মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সঙ্গে তার ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি ডালিয়া নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ারটি মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, তারেক নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ভাড়া দেন। এতে মীর হেলাল ক্ষিপ্ত হন বাবার ওপর। চলতি মাসের ১৫ ও ১৭ জুলাই দুই দফায় হাসপাতাল অংশের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন তিনি। পরে মীর নাছির তালা খুলে দিলে গত বৃহস্পতিবার রাতে মীর হেলালসহ তার সঙ্গীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে চাঁদার টাকা পরিশোধ না করে টাওয়ার ভাড়া দেওয়ায় হুমকি ধমকি দেন এবং ফের তালা ঝোলান।
মন্তব্য করুন