কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৩৯ এএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:০৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয়

অপছায়ামুক্ত হোক প্রশাসন

অপছায়ামুক্ত হোক প্রশাসন

বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দল যখন সরকারের দায়িত্বে থাকে, রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা প্রদর্শন ও প্রয়োগের অভিযোগ নতুন নয়। বলা যায়, এ প্রবণতা বা চর্চা স্বাধীনতার পর থেকেই চলে আসছে। তবে বলা বাহুল্য, গত দেড় দশকে আওয়ামী সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এ অপচর্চাটি যে উচ্চতায় পৌঁছে, তা কল্পনাতীত।

গতকাল সোমবার কালবেলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দেশের প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে জিম্মি ছিল রাজনীতির কাছে। প্রায় সব প্রকল্পই অনুমোদন হয় রাজনৈতিক প্রভাবে। এমনকি উন্নয়নের বয়ান গভীর করতে ভূমিকা রাখে উন্নয়ন প্রশাসন। শুধু তাই নয়, এ বয়ানের বিরুদ্ধাচরণে নেওয়া হয় ব্যবস্থা। অনেক ক্ষেত্রে আমলাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাও প্রভাব ফেলে। গত রোববার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের একনেক সম্মেলন কক্ষে জাতীয় শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের ভাষ্যে, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়তে হয়। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ছিল প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা। অনেক ক্ষেত্রে আবার ইচ্ছা করে দুর্বল প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ভুলভাবে টেকসই দেখানো হয় অনেক প্রকল্প। জবাবদিহির অভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে করা হয় লুটপাট। উন্নয়ন প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ত্রিমুখী সংযোগের কারণে হয় দুর্নীতি। অনেক আমলা রাজনৈতিক অভিলাষের কারণে এ ধরনের কাজে জড়িত ছিলেন। তারা বিভিন্ন ধরনের কাজ করে রাজনৈতিক লোকদের উপকৃত করেন। পেশাগত সমিতিগুলোর সুরক্ষা না দেওয়ার ব্যাপারে শ্বেতপত্র কমিটির এমন প্রশ্নের উত্তরে আমলাদের ভাষ্য, আমলাতন্ত্রের পেশাগত কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। সংগঠনগুলোর দলীয়করণ করা হয়। সংগঠনের নেতারা সুবিধাবাদী রাজনীতির অংশ হয়ে যান। ফলে যৌথভাবে ভূমিকা পালনের অবকাশ ছিল না। ফলে তারা পেশাদারিত্ব ও দলগতভাবে কাজ করতে পারেননি। এ কারণে প্রকল্পে অনিয়ম হয়। এ সময় দেবপ্রিয় বলেন, এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা গণতন্ত্রের অভাব। রাজনীতির জন্য গণতান্ত্রিক চর্চাটা গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র ফিরলে অনিয়মও কমবে। তার ভাষ্যে, উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আগেই জমি কিনে বেশি দামে প্রকল্পের কাছে বিক্রি করা হয়। তারা জানত, এখানে জমি কিনলে তিনগুণ দামে বিক্রি করা যাবে। এভাবে টাকা লুটপাট হয়। প্রকল্পের যন্ত্রপাতি কেনার টেন্ডার এবং ঠিকাদারদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও হয় অপকর্ম। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প শেষ না করেও সমাপ্ত হয়। দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাটের এ চিত্র অত্যন্ত দুঃখজনক।

আমরা মনে করি, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যে আকাঙ্ক্ষা জেগেছে, তা বাস্তবে রূপ দিতে হলে, সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশাসন বিভাগেও ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। কেননা রাষ্ট্রের প্রায় সব জায়গার মতো দীর্ঘ সময়ে এ ক্ষেত্রেও তৈরি হয় দীর্ঘ অচলাবস্থা ও জিম্মিদশা। গণতান্ত্রিক চর্চা জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে পেশাগতভাবে একটি দক্ষ আমলাতন্ত্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়, যা সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চাওয়া, আমলারা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবেন, দায়িত্বশীল হবেন এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন—এটি নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক অপচ্ছায়ার এ জিম্মিদশা কাটুক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর কোনো স্বৈরাচার না চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে : আসিফ মাহমুদ

আর কোনো স্বৈরাচার না চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে : আসিফ মাহমুদ

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

কে এই তামিম রহমান?

চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, পৃথিবীতে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির আশঙ্কা

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সার্ভেয়ার সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি আব্বাস, সম্পাদক নুরুল আমিন

ড্যাফোডিলের ১৩তম সমাবর্তনে চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান

স্ত্রী-সন্তানের কবর ছুঁয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সাদ্দাম

উন্নয়ন ও সেবায় কেউ পিছিয়ে থাকবে না : আবু আশফাক

ফুটসাল চ্যাম্পিয়নদের বরণে প্রস্তুত ছাদখোলা বাস

১০

উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন তারেক রহমান, থাকছে যেসব কর্মসূচি

১১

৬৯ হাজার রোহিঙ্গা পাচ্ছে পাসপোর্ট, কারণ জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১২

পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘গৃহযুদ্ধ’!

১৩

একটি দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে : মাহদী আমিন

১৪

উৎসবমুখর পরিবেশে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

১৫

গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

১৬

আবারও স্বর্ণের দামে রেকর্ড

১৭

এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাইয়ে ১১ সদস্যের কমিটি

১৮

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যে অভিযোগ দিল জামায়াত

১৯

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে তরুণদের নেতৃত্ব জরুরি : মেয়র ডা. শাহাদাত

২০
X