মোংলা-বাগেরহাট জেলার সর্বদক্ষিণে উপকূলীয় সুন্দরবনবেষ্টিত উপজেলা যেখানে দেশের একটি বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরের কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। চিংড়ি, সাদা মাছ তথা জলকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকাই এখানকার মানুষের প্রধান উপজীব্য। বন্দরবেষ্টিত পশুর নদী পূর্বদিকে বাঁক নিয়ে মোংলা উপজেলাকে দ্বিখণ্ডিত করেছে। মূল প্রশাসনিক অবকাঠামো ও দপ্তরগুলো পশুর নদীর দক্ষিণে মূল ভূখণ্ডের বাইরে দ্বীপ-ভূমিতে অবস্থিত। অন্যদিকে মোংলা বন্দর ও ইপিজেড অর্থাৎ রপ্তানি প্রক্রিয়ার সব কর্মযজ্ঞ নদীর এপাড়ে দ্বিগরাজ নামক স্থান জুড়ে বিস্তৃত। বন্দর মূলত পশ্চিম দিকে রূপসার সম্মুখভাগে পশুর নদীর কূল ঘেঁষা, যা বিপরীতে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলাকে নির্দেশ করে। পশুর নদীর দক্ষিণে উপজেলা প্রশাসন ও জনসবতি আর নদীর উত্তরে মোংলা বন্দরের কর্মযজ্ঞ। বেশিরভাগ শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা নদীর দক্ষিণে দ্বীপখণ্ড থেকে সকালে ট্রলার পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসেন এবং দিনশেষে আবার ট্রলার পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরেন। ট্রলার পাড়ি দেওয়ার সময় অনেকেই জোয়ারের উত্তাল ঢেউয়ে আতঙ্কে থাকেন। একটি মাত্র ফেরি বাস, প্রাইভেট কার আর পণ্য পরিবহনে ব্যস্ত। একটি জনবহুল রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যস্ত এলাকা একটি নদী দ্বারা দ্বিখণ্ডিত হলে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কিংবা জটিলতা হওয়াটা একবারেই স্বাভাবিক। পাশাপাশি ট্রলার পাড়ি দেওয়ার সময় দুর্ঘটনার ঘটনা হতে পারে সারা জীবনের কান্না। গেল বছর ঘূর্ণিঝড় রিমেলের ১০ নম্বর বিপদ সংকেতের মধ্যে ৮০ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। সবকিছুর মধ্যে একটি ভাসমান সেতুর আশ্বাসবাণী শোনা গেলেও এটি এখন অনেকটাই দীর্ঘশ্বাস। সারা দেশ যেখানে সেতু চলাচলের বাস্তবতায়, সেখানে মোংলাবাসীর এ স্বপ্ন কেন অধরা?
মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান
মোংলা, বাগেরহাট