বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সম্পাদকীয়
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩, ১১:৫২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকায় জলাবদ্ধতা রোধে তিন হাজার কোটি টাকা জলে

তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রতিবছরই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলেই নগরীর অলিগলি ও ছোট পরিসরের রাস্তাগুলোতেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। একটু ভারি বর্ষণেই ব্যাহত হয় রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এ ঘটনা যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ নগরবাসীর এ তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্ত করতে বছর বছর নেওয়া হয় নানা প্রকল্প। ব্যয় করা হয় কোটি কোটি টাকা। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, এ মৌসুমে চিত্রটির কোনোই পরিবর্তন হয় না।

মঙ্গলবার কালবেলায় ‘জলাবদ্ধতা রোধের তিন হাজার কোটিই জলে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে যে বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে হতাশাব্যঞ্জক। প্রতিবেদন অনুসারে, রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে গত এক যুগে বিভিন্ন সংস্থা খরচ করেছে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিপুল এ অর্থ ব্যয় এবং একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি না মেলায় সব মহলে একটি প্রশ্ন দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে, বর্ষায় রাজধানীবাসীর এ ভোগান্তি থেকে কি মুক্তি নেই?

আমরা জানি, ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংস্থার হাতে ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৮৮ সালে দায়িত্বটি পায় ঢাকা ওয়াসা। এরপর দীর্ঘ সময় মহানগরীর প্রধান ড্রেন লাইনগুলো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তাদের কাছে আর শাখা লাইনগুলোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তবে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ওয়াসার দায়িত্বে থাকা সব নালা ও খাল হস্তান্তর করা হয়েছে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে। এরপর দুই সিটি করপোরেশন খালগুলো দখলমুক্ত করে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। তাতে প্রথম দিকে নগরবাসী কিছুটা সুফল পেলেও, তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। এর বাইরেও একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে আরও ১৭টি খাল।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধু প্রকল্পের মাধ্যমে টাকার অঙ্ক বাড়ালেই জলাবদ্ধতা নিরসন হবে না। পানি কোন পথ দিয়ে নামবে সেই কাজ আগে করা উচিত। সেইসঙ্গে উন্নয়নকাজ করার পর তা আর রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে খাল ও ড্রেনের মুখ আবার ভরাট হয়ে যায়। সেই দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার পাঁচ মেয়রের শপথ অনুষ্ঠানে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নির্বাচিতদের উদ্দেশে যার যার এলাকায় সবার সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতো দেশের জনগণেরও একই প্রত্যাশা, তারা যেন নিজ নিজ এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ আন্তরিক হন।

আমরা মনে করি, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ও স্বচ্ছ হতে হবে। জনগণের টাকা যাতে সঠিক ও কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিতকরণ জরুরি। কারণ ঢাকা শহরের এ গণদুর্ভোগ নিরসনে যে বৃহৎ পরিমাণ টাকা খরচ হয়, তার পর্যাপ্ত সুফল তো তারা পানই না, উপরন্তু খাল, নর্দমা, ড্রেন সংস্কার, উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের নামে নতুন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থব্যয়ের ক্ষেত্রেও নেই কোনো স্বচ্ছতা।

আমাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ নিরসনে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্প বরাদ্দের অর্থ তছরুপকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আলভারেজকে নিয়ে রিয়ালের ‘মেগা বিড’, প্রত্যাখ্যানের ঘোষণায় চমকে দিল অ্যাটলেটিকো 

সম্পদ-দলীয় প্রতীক সবই হারাচ্ছেন মমতা!

বিমান বাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড্যাব

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চোখে আলো ফিরেছে ৮৪ জনের

বাজেটে মোবাইল, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিপণ্যে বড় সুখবর

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

১০

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

১১

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

১২

বাংলার নদী, বাংলার জীবন : ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা

১৩

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

১৫

ল্যাবএইডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

১৭

কক্সবাজারে ১৯ রোহিঙ্গা আটক

১৮

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় পিছু হটল ইসরায়েলি বাহিনী

১৯

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

২০
X