

‘এলিট’ খেলা শুটিংকে সম্ভাবনার পথে আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন আব্দুস সাত্তার নিনি, আতিকুর রহমান, সাবরিনা সুলতানা, শারমিন আক্তার রত্না, আব্দুল্লাহেল বাকীর মতো খেলোয়াড়রা। সম্ভাবনার পথ বড় হওয়ার পরই উল্টোরথে হাঁটা শুরু—সংগঠকদের ‘প্রতিহিংসা’ এবং নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে সেই শুটিং এখন মৃত্যুপথযাত্রী!
১৯৯০ সালে কমনওয়েলথ গেমসে আব্দুস সাত্তার ও আতিকুর রহমান একটি করে স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ১৯৯৭ সালের কমনওয়েলথ শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জিতে খেলাটিকে ধারাবাহিকতার পথে রাখেন সাবরিনা সুলতানা। ২০০২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জয় করা আসিফ হোসেন খান ছিলেন শুটিং সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখার অগ্রনায়ক। পরবর্তী সময়ে শারমিন আক্তার রত্না, সৈয়দা সাদিয়া সুলতানা কমনওয়েলথ শুটিং, এসএ গেমস এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে সাফল্য এনে দেন। আব্দুল্লাহেল বাকী ও শাকিল আহমেদও কমনওয়েলথ গেমস শুটিং থেকে দেশকে পদক এনে দিয়েছেন।
উল্লিখিত সাফল্যের বাঁকে বাঁকে ছিল নানা জটিলতা। বড় জটিলতার সূত্রপাত মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে। শুটিং ফেডারেশনের নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি করতে নন্দনের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছিল। সে চুক্তির বৈধতা নিয়ে মামলা করায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আয়ের পথ। আসলে ওটা ছিল ‘মসনদের লড়াই’। সে লড়াই বাংলাদেশ শুটিং সম্ভাবনার গলা টিপে ধরেছিল। বিভিন্ন সংগঠক মসনদ ধরে রাখতে নিজেদের পদ-পদবি ব্যবহার করে অস্ত্র-গুলি আমদানির পথটা কঠিন করে দিয়েছিলেন। যে কারণে নষ্ট হয়েছে শুটিংয়ের ক্লাব কালচার। ব্যয়বহুল এ খেলার খরচের চাপ সামলাতে না পেরে অনেক ক্লাব বন্ধ হয়ে গেছে। বিকেএসপি থেকে বের হওয়া শুটারদের অনেকেই এখন গন্তব্যহীন।
আসিফ, রত্না, বাকীরা যখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে, তখনই সংগঠকদের মসনদের লড়াইয়ের কারণে পথ হারান। তার পরও শাকিল আহমেদ-কামরুন নাহার কলির মতো প্রতিভাবানরা উঠে এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমান শুটিংয়ের গুমোট পরিবেশ এবং ধারাবাহিক প্রতিহিংসায় খেলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মসনদের লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার ছিল ‘কোড অব কন্ডাক্ট’, যার দোহাই দিয়ে শুটারদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। যে কারণে অতীতে আসিফ হোসেন খান, শারমিন আক্তার রত্নারা নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। চর্চাটা এখনো চলছে—সম্প্রতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে কামরুন নাহার কলিকে।
‘অতীতে বিভিন্ন সময় যারা শুটিং ফেডারেশনের শীর্ষ পদে বসেছিলেন, তাদের বেশিরভাগই শুটিং এবং শুটারদের নিয়ে ভাবেননি। তাদের ভাবনায় ছিল নিজেদের মসনদ ঠিক রাখা। তা করতে গিয়ে সংগঠকরা নানা জটিলতা তৈরি করেছেন, যা বাংলাদেশ শুটিং সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করেছে’—আক্ষেপ নিয়ে কালবেলাকে বলছিলেন সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না। সময়ের অন্যতম সেরা শুটার কামরুন নাহার কলি বলছিলেন, ‘যৌন হয়রানি এবং মানসিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও শুটাররা কোনো কথা বলতে পারবেন না—এমন আইন তো বর্বরতার প্রতীক। এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’
শুটিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শারমিন আক্তার রত্না বলছিলেন, ‘শুটিংয়ের জন্য অস্ত্র ও গুলি আমদানির মাধ্যমে একটা সময় ক্লাবগুলো আয় করত, যা দিয়ে অনেক ক্লাব নামিদামি শুটারদের নিজ নিজ ক্লাবে খেলাত, অনুশীলনের সুযোগ দিত। কিছু সংগঠক নিজেদের পদ-পদবি ব্যবহার করে শুটিংয়ের ক্রীড়া সামগ্রী আমদানির আইন সংস্কারের নামে ক্লাবগুলোকে কার্যত হত্যা করেছেন, যে কারণে উদীয়মান শুটারদের কিছু সার্ভিসেস দলে সুযোগ পাচ্ছেন, বাকিরা ক্লাববিহীন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যয়বহুল এ খেলার চাপ সামলাতে না পেরে অনেক প্রতিভা ঝরে যাচ্ছে। শুটিংয়ের সামনে আরও খারাপ দিন আসছে।’
মন্তব্য করুন