

আন্তর্জাতিক ফুটবলের দলবদলে সবার নজর কেড়ে নেয় ইউরোপের লিগ। লা লিগায় কে কত ইউরোতে বিক্রি হলো, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কোন ফুটবলারকে কত পাউন্ডে কিনে বাজার গরম করল কোন ক্লাব, তাই নিয়ে মেতে থাকে মিডিয়াগুলো। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে ফরাসি লিগ ওয়ান। তা ছাড়া আগে থেকেই ফুটবলের বাজারে অভিজাত লিগের তকমা নিয়ে চলা সিরি-এ ও বুন্দেসলিগা তো আছেই। ফুটবলের আন্তর্জাতিক বাজার বলতে তাই সবাই ইউরোপকেই বোঝে। কিন্তু সেই ধারা বদলে দিতে বাজারে নেমেছে লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্লাবগুলো। ৪২৭ কোটি টাকার দলবদলে নজর কেড়েছেন গার্সন সান্তোস। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে দলবদলের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। এটাকে ব্রাজিলের ট্রান্সফার মার্কেটে বিস্ফোরণ বলা হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি চুক্তিটি করেছে ক্রুজেইরো। ২০২১ সালে ব্রাজিলের জার্সি পরার পর ১৪ ম্যাচ খেলা মিডফিল্ডার গার্সন সান্তোসকে নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে। কীভাবে এই টাকা খরচ হচ্ছে। জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে গার্সনকে আনতে বেলো হরিজোন্তের ক্লাবকে ৩ কোটি ইউরো গুনতে হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪২৭ কোটি টাকা। এর ফলে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে সবচেয়ে দামি ট্রান্সফারের রেকর্ড ভেঙে গেছে। আগে এই রেকর্ড ছিল ভিতর রকির নামে। বার্সেলোনা থেকে তাকে ২ কোটি ৫৫ লাখ রুপিতে কিনেছিল পালমেইরাস। গার্সনের সঙ্গে ক্রুজেইরোর চার বছরের চুক্তি হয়েছে।
বর্তমান সময়ে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল ক্লাবগুলোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক বা ট্রান্সফার ফিতে দলবদলের ক্ষেত্রে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোই আধিপত্য বিস্তার করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ থেকে অনেক নামি ব্রাজিলিয়ান তারকা তাদের নিজ দেশে ফিরে আসায় এই রেকর্ডের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। যাদের মধ্যে অন্যতম নেইমার।
২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড তালিকায় সবার ওপরে আছেন গার্সন। এরপর আছেন ভিতর রকি। পালমেইরাস তাকে আনতে খরচ করেছে ২৫.৫ মিলিয়ন ডলার। পলিনহো পালমেইরাসকে কিনতে মিনেইরো ১৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। শুধু ফুটবলারদের বাজারই বাড়েনি, লাতিন আমেরিকার ক্লাবগুলোতেও বিনিয়োগ আসছে। নেইমারের ক্লাব সান্তোসকে কিনে নেওয়ার দৌড়ে কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট আগ্রহ দেখিয়েছে। সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড যারা নিউক্যাসলের কর্ণধার এবং ব্লুকো যারা চেলসির অন্যতম কর্ণধার, তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছে সান্তোস কেনার ব্যাপারে। যারাই সান্তোস কিনুক, সেটা যে লাতিন আমেরিকান ফুটবলের মানচিত্রে বড় বদল আসবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মন্তব্য করুন