ছাত্রলীগের বাধায় বন্ধ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা হোস্টেলের আসবাব ফিটিং ও সেটিংয়ের কাজ। হোস্টেলগুলোতে আসবাব স্থাপনে ঢাকা থেকে দুই দফা টেকনিশিয়ান পাঠানো হয়। কিন্তু ছাত্রলীগ
কর্মীরা তাদের হুমকি দিয়ে কাজে বাধা দেয়। এ ছাড়া তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ফলে এসব কাজ বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গত ৯ জুলাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগ করেন গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীরা বাধা দিয়ে সরকারি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।
এতে আরও বলা হয়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পের অধীনে হোস্টেলে আসবাবপত্র সরবরাহ ও স্থাপন করার কথা। এসব কাজ সম্পন্ন করতে গত ১২ মে ঢাকা থেকে আসবাবপত্র ফিটিংয়ে টেকনিশিয়ান আসেন। এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের কাজ করতে বাধা দেন। ফলে কাজ বন্ধ রেখে টেকনিশিয়ানরা ঢাকা ফিরে যান। কাজের স্বাভাবিক গতি ফেরাতে ২৩ মে কলেজ অধ্যক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক এবং ছাত্রলীগের নেতাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে ঢাকা থেকে আবারও টেকনিশিয়ান পটুয়াখালীতে এলে গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টায় মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয়ে ফোন করে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং কাজ না করতে হুমকি দেয়। এখানেই শেষ নয়। ঈদুল আজহার পরে আবার কাজ শুরু করতে গেলে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কর্মীরা টেকনিশিয়ানদের আবাসিক হোটেলে গিয়ে মারধর করে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং কলেজে না ঢুকতে হুমকি দেয়। এতে তারা ভীত হয়ে পড়েন। তারা হোটেলে থাকতেও রাজি হয়নি।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষক জানান, কলেজ ছাত্রলীগ অনেকদিন ধরেই বেপরোয়া। তারা কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত। কলেজ প্রশাসন থেকে শুরু করে কেউই তাদের কিছু বলতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহস করে না।
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পটুয়াখালী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফাদুল ইসলাম। তিনি মন্তব্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে ছাত্রলীগের প্যাডে লিখিত বিবৃতি পাঠান। এতে উল্লেখ করা হয়, আসবাবগুলো নিম্নমানের হওয়ায় তারা টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কোনো ধরনের হুমকি বা অসদাচরণ করা হয়নি। তাদের নাম ব্যবহার করে কেউ তাদের হুমকি বা এ ধরনের কিছু করে থাকলে তার দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না।
জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা ভীষণ দুষ্টু। তারা হোস্টেলের কাজ বন্ধ করেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিসিন, গাইনিসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং হোস্টেল সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযুক্তদের হাজির হতে নির্দেশ দিলে অসুস্থতার অজুহাতে তারা উপস্থিত হয়নি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে। তবে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।