মুফতি আরিফ খান সাদ
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৫, ০৯:০৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রোজায় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়

রোজায় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়

রমজান পুণ্য অর্জন ও ক্ষমা প্রার্থনার মাস। বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে প্রভুর সান্নিধ্য লাভের মোক্ষম সময়। এ মাসে প্রতিটি ভালো কাজের জন্য ১০ গুণ বেশি সওয়াবের ঘোষণা রয়েছে। একই সঙ্গে রোজাদার ব্যক্তির অতীত গুনাহ মাফেরও কথা বলা হয়েছে হাদিসে। রোজাদার ব্যক্তির সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো আল্লাহর কাছে চাওয়া তার দোয়া কবুল করা হয়। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সিয়াম পালনকারীর দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা: ৩/৭)। অন্য হাদিসে এসেছে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—১. রোজাদারের দোয়া ইফতার করা পর্যন্ত; ২. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর দোয়া; ৩. মাজলুমের দোয়া। (মুসনাদে আহমদ: ৯৭৪৩)।

পবিত্র কোরআনে সুরা বাকারায় ধারাবাহিকভাবে রমজান ও রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। এর অব্যবহিত পরই আল্লাহ তার নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে, (তাদের বলো) আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করি, যখন তারা আমার কাছে প্রার্থনা করে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)। এ থেকেও বুঝে আসে—রমজান মাসে দোয়ার বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে।

দোয়া বা প্রার্থনায় মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা নিহিত। আল্লাহতায়ালা ওই মুহূর্তটিকে অধিক পছন্দ করেন যখন বান্দা মানবসভ্যতার চরম বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ ও সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তার কাছে মাগফিরাত ও নাজাত কামনা করে। নবী করিম (সা.) রমজান মাসে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে বলেছেন, এ মাসে তোমরা চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো, তন্মধ্যে দুটি কাজ এমন, যা দ্বারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা যাবে। আর অন্য দুটি এমন যা থেকে তোমরা মুখাপেক্ষীহীন হতে পারবে না। প্রথম দুটি হলো—১. বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’র জিকির করা; ২. আল্লাহর কাছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি কাজ না করে আমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো—১. জান্নাত চাওয়া, ২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।

ইফতারের পূর্বমুহূর্তের দোয়ার বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই ইফতারের সময় সিয়াম পালনকারীর দোয়া কবুল হয়।’ (বায়হাকি)। অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘ইফতারের সময় আল্লাহ বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর রমজানের প্রতি রাতেও। সিয়াম পালনকারী প্রত্যেক বান্দার দোয়া কবুল হয়।’ (মুসনাদ আহমদ)। হাদিসে কুদসিতে আছে, রোজা কেবল আল্লাহর জন্য, তাই রোজার পুরস্কার আল্লাহ নিজেই দেবেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বান্দাদের বারবার তার কাছে চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার: ৫৪)।

পবিত্র রমজানের দিন-রাত ইবাদত বন্দেগি ও ক্ষমা প্রার্থনার দিনরাত। তাই নির্ধারিত ইবাদত ছাড়াও সুযোগ পেলেই আল্লাহর দরবারে দোয়া-মোনাজাতে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা চাই। আমাদের কোন দোয়া কখন কবুল হয় বলা তো যায় না। আল্লাহ আমাদের রোজা কবুল করুন, অতীত জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দিন।

লেখক: মুহাদ্দিস ও ইসলামী চিন্তাবিদ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার বিএনপি থেকে বহিষ্কার সাবেক প্রতিমন্ত্রী

নির্বাচনী প্রচারণায় যা যা করতে পারবেন প্রার্থীরা

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ

অস্ত্র কেনা ও মজুত নিয়ে আলোচনার ভিডিও ভাইরাল

শাবিপ্রবি ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

কেউ মিথ্যা বলছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

রাজধানীর স্কুলে শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

জমি নিয়ে বিরোধে ৩ বছরের শিশুকে হত্যা

পাকিস্তানে তেল-গ্যাসের বিপুল মজুত আবিষ্কার

১০

নির্বাচনী প্রচার শুরু আজ, কোথায় কখন কর্মসূচি

১১

বারবার গলা পরিষ্কার করা কী বড় কোনো সমস্যার লক্ষণ

১২

বিএনপি থেকে বহিষ্কার তাপস

১৩

নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেব : সাঈদ আল নোমান

১৪

ইসলামী যুব আন্দোলনে যোগ দিলেন জামায়াত নেতা

১৫

আমি মানুষের সেবা করতে এসেছি : বাবর

১৬

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সিদ্ধান্ত বদলালেন ট্রাম্প

১৭

সকালের নাশতা বাদ দিলে যা হতে পারে

১৮

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৯

অফিসার নিচ্ছে লংকাবাংলা

২০
X