

দীর্ঘদিন ধরে বারবার গলা পরিষ্কার করার বা গলা খাঁকারি দেয়ার অভ্যাস অনেকের জন্যই বিরক্তিকর। অনেক সময় এটি কোনো সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ভেতরের কোনো শারীরিক জটিলতা। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে যে, দীর্ঘদিন গলা পরিষ্কার করার অভ্যাস কি খাদ্যনালীর ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা। এতে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন গলা পরিষ্কার করার বা গলা খাঁকারি দেয়ার অভ্যাসের সঙ্গে খাদ্যনালীর ক্যানসারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই লক্ষণটি এমন একটি সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে, যা দীর্ঘদিন অবহেলা করলে ভবিষ্যতে জটিল আকার নিতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার গলা পরিষ্কার করা অনেক সময় খাদ্যনালীর উপরের অংশে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালাপোড়ার কারণে হয়ে থাকে। এই জ্বালাপোড়ার একটি সাধারণ কারণ হলো সাইলেন্ট এসিড রিফ্লাক্স।
এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ল্যারিঙ্গোফ্যারিঞ্জিয়াল রিফ্লাক্স বলা হয়। এ অবস্থায় পাকস্থলীর এসিড উপরের দিকে উঠে গলা ও স্বরযন্ত্রে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। তবে এতে বুক জ্বালার মতো পরিচিত উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে।
যদি দীর্ঘদিন এই রিফ্লাক্সের চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে বারবার খাদ্যনালীর ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক বছরের এমন জ্বালাপোড়া থেকে ব্যারেটস ইসোফেগাস নামের একটি অবস্থা তৈরি হতে পারে। এতে খাদ্যনালীর কোষের গঠনে পরিবর্তন আসে।
ব্যারেটস ইসোফেগাস নিজে ক্যানসার নয়। তবে এটি থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে থাকা উপসর্গগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই সমস্যায় যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো
- বারবার গলা পরিষ্কার করা
- কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা কর্কশ হয়ে যাওয়া
- গলায় কিছু আটকে আছে এমন অনুভূতি
- শুকনো কাশি বা মুখে টক স্বাদ অনুভব করা
এই লক্ষণগুলো থাকলেও অনেক সময় বুক জ্বালার অনুভূতি নাও থাকতে পারে।
এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন উপকারি হতে পারে। যেমন
- অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়া
- ঝাল, টক ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
- খাবার খাওয়ার অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর শুতে যাওয়া
- ঘুমানোর সময় মাথা কিছুটা উঁচু করে রাখা
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং মদ্যপান সীমিত করা
দীর্ঘদিন ধরে গলা পরিষ্কার করার অভ্যাসকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। এটি সরাসরি খাদ্যনালীর ক্যানসারের লক্ষণ না হলেও, এর পেছনে থাকা সাইলেন্ট এসিড রিফ্লাক্স ভবিষ্যতে জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে। সময়মতো জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। শরীরের যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তিকে গুরুত্ব দেওয়া সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মনে রাখবেন, এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক। কোনো শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্য করুন