মুফতি আরিফ খান সাদ
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৫, ০২:৫১ এএম
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৫, ০৮:৩৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বৈষম্যমুক্ত জীবনের শিক্ষা দেয় রমজান

বৈষম্যমুক্ত জীবনের শিক্ষা দেয় রমজান

পৃথিবীতে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। সৃষ্টির পর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে তিনি রিজিক দান করেন। এর মাধ্যমে মানুষকে পরীক্ষা করছেন তিনি। ধনী-গরিবের সম্পর্ক, সহমর্মিতা, সাহায্য-সহযোগিতা ও মন-মানসিকতা কেমন হয় তা পরীক্ষা করছেন তিনি। রমজানে ক্ষুধার যন্ত্রণা দিয়ে তিনি পরীক্ষা করছেন। ধনীরা কীভাবে সময়টা অতিবাহিত করে তা দেখছেন। গরিবদের ক্ষুধা কতটুকু অনুভব করছে সেটাও পরখ করছেন। রোজা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্য ও সংহতির এক অনন্য উপমা স্থাপিত হয়। রোজার মাধ্যমে পরমতসহিষ্ণুতা ও হতদরিদ্রের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা লাভ হয়।

আল্লাহর রাসুল (সা.) এক হাদিসে রমজান মাসকে সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের মাস বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রমজান পারস্পরিক সহানুভূতি প্রকাশের মাস।’ (বায়হাকি)। ধনী বা সম্পদশালী মুসলিমরা রমজানে সারা দিন রোজা রেখে ক্ষুধার কষ্ট ও উপবাস থাকার জ্বালা উপলব্ধি করতে পারেন। ফলে অসহায় ও গরিব মানুষের কষ্টও তারা সহজে অনুধাবন করতে পারেন। এতে বিত্তহীন ও গরিব-দুঃখীর প্রতি তাদের মনে সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যবোধ তৈরি হয়। তাদের দায়িত্ববোধ জেগে উঠে। আল্লাহপাক ধনী বা সম্পদশালী লোকদের প্রতি কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনে কারিমে ধনীদের সম্পদে গরিবের অধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তাদের (ধনীদের) সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের অধিকার।’ (সুরা জারিয়াত: আয়াত ১৯)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে এবং রোজাদারের সওয়াবও কমানো হবে না। (তিরমিজি: ৮০৭)। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থভাবে ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করে, মহান আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানপাত্র থেকে, যার মিশ্রণ হবে কর্পূর। এমন এক ঝরনা, যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে, তারা এটিকে যথাইচ্ছা প্রবাহিত করবে। তারা মানত পূর্ণ করে এবং সে দিনকে ভয় করে, যার অকল্যাণ হবে সুবিস্তৃত। তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে। তারা বলে, ‘আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোনো প্রতিদান চাই না এবং কোনো শোকরও না। আমরা আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ংকর ভীতিপ্রদ দিবসের ভয় করি। সুতরাং সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা।’ (সুরা দাহর, আয়াত: ৫-১১)

মাহে রমজান মানুষকে দুঃখীজনের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা দেয়। সৃষ্টি জগতের প্রতি উদার, সহমর্মিতা ও দয়াশীল হতে শিক্ষা দেয়। সিয়াম সাধনার দ্বারা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক স্নেহ, ভালোবাসা, মায়া-মমতা, আন্তরিকতা, দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা, ক্ষমা, পরোপকারিতা, সহানুভূতি, সমবেদনা প্রভৃতি সদাচরণ জন্মায়। মাহে রমজানের যে মহান শিক্ষা, তা গ্রহণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন হয়ে উঠে ইমানের আলোয় আলোকিত।

লেখক : মুহাদ্দিস ও ইসলামী চিন্তাবিদ

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিউটিরত অবস্থায় পায়রা সেতুর টোল কালেক্টরের মৃত্যু

রান্নাঘরেও আছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবি-চোরাকারবারী গোলাগুলি, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

অবশেষে বিশ্বকাপের পর নীরবতা ভাঙলেন এমবাপ্পে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ১০ আগস্ট

ঋণ থেকে মুক্তির বিশেষ ৪ দোয়া

কোনো শিশু যেন বাংলা-ইংরেজি-গণিত শিক্ষায় পিছিয়ে না থাকে: ববি হাজ্জাজ

পলাশ মণি দাসের পরিচালনায় ‘কিপ্টুস আনলিমিটেড’

বন্যা-পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে স্বপ্ন

সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

১০

স্কুলে ঢোকার পথ নেই, দুর্ভোগে সব শিশু শিক্ষার্থী

১১

খল অভিনেতা হয়ে পর্দায় আসছেন সরকার রওনক রিপন

১২

শ্বশুরবাড়ির পুকুরপাড়ে মিলল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ

১৩

সার্ভেয়ার-কানুনগোদের ঘন ঘন বদলি নয়, একই কর্মস্থলে অন্তত ২ বছর রাখার নির্দেশ

১৪

শেষ আশ্রয়টুকুও গিলে খাচ্ছে ছোট ফেনী নদী

১৫

মিসওয়াকের গুরুত্ব ইসলামে এত বেশি কেন?

১৬

সলোমন দ্বীপপুঞ্জে স্বর্ণের খনিতে ধস

১৭

হরমুজ প্রণালিতে ৬টি জাহাজ থামাল ইরান

১৮

বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯

মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিসিয়াল সিলেকশনে ‘মাটি’

২০
X