এনায়েত শাওন
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশেষ সাক্ষাৎকার মো. ফজলুল কাদের

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তিতে দরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তিতে দরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা

দেশে বিদ্যমান দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে গরিব মানুষের মুক্তির জন্য প্রয়োজন আয় বৃদ্ধি। আর এতে প্রধান বাধা স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয়। এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা। দেশব্যাপী প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারের মাধ্যমে দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে চায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় গরিব পরিবারের জন্য খুবই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে শিশুরা অপুষ্টিতে ভোগে, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা যদি দেশব্যাপী বিস্তৃত করা যায়, তবে ব্যয় হ্রাস পাবে, যা গরিব পরিবারকে ভঙ্গুর আর্থিক অবস্থা থেকে পরিত্রাণ করবে। সারা দেশের ৬৪টি জেলায় ১৭৬টি ইউনিয়নে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি পাইলট আকারে বাস্তবায়নে দেখা গেছে, এসব পরিবারের স্থাস্থ্য খাতে ব্যয় হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল রোগ নিরাময় নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ। প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। প্রতিকারমূলক স্বাস্থ্যসেবা মূলত সরকারের দায়িত্ব, আমাদের নয়। আমরা প্রতিরোধমূলক স্বস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করতে চাই, যাতে মানুষ রোগ হওয়ার আগেই সচেতন হয় এবং প্রতিরোধ করতে পারে। কারণ একবার রোগ হলে, খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমাদের এই উদ্যোগ কেবল স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। আমরা আর খোরপোষের অর্থনীতিতে থাকতে চাচ্ছি না।

ফজলুল কাদের বলেন, টেকসই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আমরা গরিব মানুষের প্রকৃত আয় এমনভাবে বাড়াতে চাই, যেখান থেকে তারা পুঁজি সৃষ্টি করতে পারে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে এসে সম্পদ সৃষ্টি করতে পারবে, ভঙ্গুর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবে। আয় বৃদ্ধিতে গরিব মানুষের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তাদের স্বাস্থ্যগত ব্যয়। তাদের আয়ের বিপরীতে স্বাস্থ্যগত খরচের হার খুবই বেশি। ফলে, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তাদের পিছিয়ে দেয়।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ২০১১ সাল থেকে কিছু বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখেছি, এ ধরনের স্বাস্থ্যবীমা মানুষকে দেওয়া সম্ভব কি না। আমাদের অনেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কিছু কিছু প্রকল্পের মেয়াদ ছিল মাত্র দু-তিন বছর, কিন্তু সেগুলোর কার্যকারিতার কারণে আজ একযুগ পরও অনেক জায়গায় এই সেবাদাতাদের সহযোগিতা ছাড়াই চালু রেখেছে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো।

কর্মসূচিতে অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, গরিব মানুষদের খয়রাত দিতে হবে, এটা ঠিক নয়। এরকম ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে চাই। এই কর্মসূচি কোনো দাতা নির্ভর হবে না, নিজেদের অর্থায়নেই বাস্তবায়ন করব। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা বাৎসরিক সামান্য অর্থ ব্যয় করবে, পরিমাণ বেশি নয়, ৫০ থেকে ১০০ টাকা ধার্য করা হয়। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা ও পরিবারের সদস্যরা এই সুবিধা পাবে, অন্যরা এই সেবার বাইরে থাকবে। কারণ, দেশে চার কোটি খানা রয়েছে, যার প্রায় দুই কোটি পিকেএসএফের সহযোগী সংগঠনের সদস্য। ফলে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এই সেবার অধীনে চলে আসবে, বাকিরা একটু উচ্চ শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে।

পিকেএসএফ যে কাজই করে সেটা সরকারের জন্য উপকারী উল্লেখ করে ফজলুল কাদের বলেন, পিকেএসএফের কাজগুলো সাধারণত জনবান্ধব হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেকে পিকেএসএফে কাজ করেছেন, প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। সরকারের অনুকূল নীতি ছাড়া এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ হওয়া সম্ভব না। এ যাবৎকালে আমরা সরকারের সেই সহযোগিতা পেয়ে আসছি। তা ছাড়া, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকার আমাদের ‘সিড মানি’ দিচ্ছে এবং আমাদের কার্যক্রমের প্রতি গভীর বিশ্বাস রাখছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইবনে সিনা ট্রাস্ট-হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের করপোরেট চুক্তি স্বাক্ষর

অভিবাসী ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকবেন মেসি?

চব্বিশের জুলাই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা: শাহরিয়ার কবির

শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে ইন্টারঅ্যাকটিভ আর্ট ওয়ার্কশপে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সহযোগিতা

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন 

প্রবাসে বাংলার ঐতিহ্যের মিলনমেলা, সিডনিতে জামালপুর-শেরপুর অ্যাসোসিয়েশনের পিঠা উৎসব

৫০ শতাংশ ছাড়ে মানারাত ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি মেলা

এক রাতে রাশিয়ার ২৮ জাহাজে হামলা ইউক্রেনের

জাপান গার্ডেন সিটির বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল নিজস্ব উপকেন্দ্রের ত্রুটিতে, জানাল ডিপিডিসি

১০

স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

১১

মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ রেগুলেটর গেট খুলে দিল পাউবো

১২

মহাখালীতে পরকীয়া প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, রেল কর্মকর্তার মৃত্যু

১৩

চ্যাটজিপিটি যেন কপি মেশিন না হয়: শিক্ষামন্ত্রী

১৪

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড

১৫

শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে জাগপা’র দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু

১৬

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে দুই ছাত্রী খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র, দেওয়া হলো না পরীক্ষা  

১৭

কারাগার থেকে পালানোর ২৩ মাস পর গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

১৮

বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃত্যু বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি

১৯

রয়টার্সের চোখে বাংলাদেশের বন্যা, নিহত ৪৪, পানিবন্দি ১০ লাখের বেশি মানুষ 

২০
X