

বর্তমান সময়ে শিশুরা একদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে স্মার্ট ডিভাইসে ব্যস্ত। এর মধ্যে বয়স্কদের ভুলে যাওয়ার সমস্যা, মস্তিষ্কের অবসাদ বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষণীয়।
এ প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মস্তিষ্ক সক্রিয় ও সুস্থ রাখতে ঘি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিশেষ করে, বিশুদ্ধ গরুর দুধ থেকে তৈরি ঘি, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মস্তিষ্কের প্রধান গঠন উপাদান হলো ফ্যাট। মানব মস্তিষ্কের ৬০ শতাংশের বেশি অংশ ফ্যাট দিয়ে তৈরি। এ ফ্যাটের মান ও উৎস যদি খারাপ হয়, তখন স্নায়বিক সংকেত সঠিকভাবে পৌঁছায় না।
ঘিয়ের বিভিন্ন উপাদান মস্তিষ্কে সরাসরি শক্তি জোগায় এবং শিশুদের মস্তিষ্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুদের ক্ষেত্রে ঘি মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বাড়ায়। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার কার্যকরভাবে কাজ করে। শিশুরা পড়া মনে রাখতে ও ফোকাস করতে পারে সহজেই। প্রথম পাঁচ বছরে শিশুর মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ গঠিত হয়। ঘিতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের সেল মেমব্রেন শক্তিশালী করে। ঘিয়ের আরেক উপাদান জিএবিএ রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে, যা শিশুর অতিরিক্ত উত্তেজনা বা দুশ্চিন্তা প্রশমনে ভূমিকা রাখে।
তবে শিশুদের ঘি খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বয়স অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এক চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ ঘি খিচুড়ি বা ভাতের সঙ্গে খাওয়ানো যেতে পারে। ১ থেকে ৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে আধা চামচ খাবারে মিশিয়ে; ৬ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এক চামচ ঘি রুটি বা সকালের খাবারে সঙ্গে।
বয়স্কদের জন্যও ঘি যথেষ্ট উপকারী। বিশেষ করে স্মৃতিশক্তি ও কগনিটিভ ফাংশন সুরক্ষায়। বয়সের সঙ্গে নিউরন ড্যামেজ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ে। ঘিতে থাকা ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নিউরন রক্ষা করে। রাতে ঘি খেলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়ে। ফলে ঘুম ভালো হয়, স্মৃতি সংরক্ষণ উন্নত হয়। ঘিয়ের প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়, মস্তিষ্কের নিউরোইনফ্ল্যামেশন হ্রাস করে। ঘি হজমশক্তি ও অন্ত্র মস্তিষ্ক সংযোগ উন্নত করে।
সতর্কতা: দিনে ১ থেকে ২ চা চামচের বেশি নয়, বিশেষ করে হৃদরোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীদের ক্ষেত্রে। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রথমবার শিশুকে অল্প পরিমাণে খাওয়ানোর পর খেয়াল রাখতে হবে, অ্যালার্জির সমস্যা হয় কি না।
ঘি শুধু ঐতিহ্য নয়, এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টির উৎস। শিশুর মস্তিষ্কের বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বয়স্কদের কগনিটিভ স্বাস্থ্যে ঘিয়ের উপকারিতা বহুমুখী। তবে মনে রাখবেন, ঘি যে কোনো ডায়েটের সাপ্লিমেন্ট মাত্র, মূল খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য রাখা জরুরি।
পুষ্টিবিদ রেবেকা সুলতানা
বিভাগীয় প্রধান (পুষ্টি)
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল
মন্তব্য করুন