

প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে আলোচিত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম আদালতে এসে বলেছেন, ‘৩৫ লাখ টাকা সম্পত্তি বাপ আমারে দিছে। একটা গাড়ি, একটা জায়গা। ৮ লাখ টাকার জায়গা, ২৫ লাখ টাকার গাড়ি। আমি কি কামাইছি। বাপে আমারে দিছে। এটার জন্য আমি কীভাবে দুদকের মামলার অন্তর্ভুক্ত হলাম।’
সিয়াম বলেন, ‘আমার বাবার রিমান্ড চলতেছে। দেখা করতে গেছিলাম। আমাকে ধরে নিয়ে আসছে।’
আপনার বাবা নির্দোষ কি না জানতে চাইলে সিয়াম বলেন, ‘দুদক থেকে চার্জশিট দিক। বাপ কয় টাকার দুর্নীতি করছে, বিচার করুক। আমার সমস্যা নাই। আমার বাবা যদি কোনো অন্যায় করে, সেটার বিচার হবে। আমার সমস্যা নাই।’
তিনি বলেন, ‘সে (বাবা) আমাকে জায়গা দিছে। এটার জন্য আমি জেল খাটব কেন? ৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই?’
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুদকের মামলায় সিয়ামকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে বিকেল ৩টা ৪৩ মিনিটে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করে প্রিজনভ্যানে নেওয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণে থাকা প্রিজনভ্যানের জানালার ফাঁক দিয়ে মাথা উঁচু করে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
পরে সিয়াম তার আইনজীবীদের বলেন, ‘রিমান্ড নিক সমস্যা নেই। বলব, আমি তো কোনো অন্যায় করিনি।’
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এসময় আদালতে সিয়ামের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের আইনজীবীদের মধ্যে পাবলিক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলামসহ অনেকে তার রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী ও ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
৩টি মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা ও ২০ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ৪১ কোটি ২৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া আবেদ আলীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে, ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা ও ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ৭৩১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
এ ছাড়া আবেদ আলীর ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
মন্তব্য করুন