ওবাইদুর রহমান নয়ন, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:০৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নামানো হলো টেকনাফে

ট্রলার থেকে দেড় শতাধিক যাত্রী উদ্ধার
মালয়েশিয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নামানো হলো টেকনাফে

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগরপথে ভাসমান অবস্থায় থাকা মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার স্থানীয় জেলেরা উপকূলে টেনে নিয়ে আসায় রক্ষা পেলেন দেড় শতাধিক যাত্রী। তাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। তারা সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে উদ্ধারকারী নৌকার মাঝিরা জানিয়েছেন। সাগরে তিন দিন কাটানোর পর গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সৈকতের মহেশখালী পাড়া ঘাটে ট্রলারটি আসে। এরপর সেখানে থাকা রোহিঙ্গারা কান্নাকাটি করে নেমে পড়ে। তাদের স্থানীয় দালালরা জোরপূর্বক পাহাড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য জহির আহমদ বলেন, সাগরে যাত্রীবাহী একটি মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ভাসতে দেখে জেলেরা টেনে কূলে নিয়ে আসেন। ট্রলারে দেড়শর মতো যাত্রী ছিলেন। সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী। এর মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ঘাটে একটি ফিশিং ট্রলার ভাসমান রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, টেকনাফের মহেশখালী পাড়ার মেরিন ড্রাইভে শিশুদের কোলে নিয়ে বেশ কিছু রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ রাস্তায় বসে কান্নাকাটি করছেন। আবার অনেকে টমটমে করে ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। এ সময় কথা হয় ট্রলার থেকে নেমে মেরিন ড্রাইভে বসে থাকা হামিদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্যাম্পের পরিস্থিতি খুব খারাপ, প্রতিদিন খুনাখুনি হচ্ছে। সে কারণে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে উন্নত জীবনের আশায় সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিলাম। আমরা ট্রলারে প্রায় ১৫০ জন ছিলাম। সেখানে আমার শিশু সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য আছে। তার ভাষ্যমতে, জীবন রক্ষার জন্য সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। প্রথমে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে দালালদের মাধ্যমে টেকনাফের একটি পাহাড়ে পাঁচ দিন ছিলাম। সেখান থেকে ছোট নৌকায় করে সাগরে থাকা ট্রলারে উঠি। ট্রলারে আমার মতো অনেকে ছিল। এরপর মাঝিরা ইন্দোনেশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সাগরে তিন দিন ঘোরাঘুরি করে। একপর্যায়ে কূলের কাছাকাছি এসে মাঝিমাল্লারা ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ছোট দুটি নৌকা আমাদের ট্রলারটি টেনে কূলে নিয়ে আসে। মূলত আমরা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ইন্দোনেশিয়া যাত্রা করেছিলাম।

টেকনাফের মহেশখালী ঘাটের এক নৌকার মাঝি মোহাম্মদ আলম বলেন, প্রতিদিনের মতো ভোরে মাছ শিকারে যেতে ঘাটে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় ঘাটে একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ঝাঁপ দিয়ে অন্তত ১৫০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ সৈকতের কূলে উঠতে দেখা যায়। তখন রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা কান্নাকাটি করছিল। ওই ট্রলারে ৪-৫ জন ছাড়া বাকিরা সবাই নারী ও শিশু ছিল। পরে সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ছোটাছুটি করে পালিয়ে যায়।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার টেকনাফ উপকূলে ফিরে আসার খবর শুনেছি। তবে বিষয়টি কোস্টগার্ড দেখছে। কোস্টগার্ডের স্টেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সোলেমান কবির বলেন, এ ধরনের একটি সংবাদ আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রাণ গেল মায়ের, হাসপাতালে বাবা

হাত-পায়ের পর খণ্ডিত মাথা উদ্ধার

জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনায় কালা বাচ্চু গ্রেপ্তার

এমন কাজ করিনি যে সেফ এক্সিট নিতে হবে : প্রেস সচিব

কেন্দ্র দখলের চিন্তা করলে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন : হাসনাত

সীমান্ত থেকে ভারতীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি চলবে না : ব্যারিস্টার খোকন

জবি সাংবাদিকতা বিভাগের সরস্বতী পূজার ব্যতিক্রমী থিম

গাজীপুরের সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‌‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের, প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

১০

মাছের ঘের থেকে বস্তাভর্তি ফেনসিডিল উদ্ধার

১১

টিকটক করতে বাধা দেওয়ায় গৃহবধূর কাণ্ড

১২

জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

১৩

‘জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় চলছে, মৃত্যুকে ভয় করি না’

১৪

আন্দোলনে শহীদ জাকিরের মেয়ের বিয়েতে তারেক রহমানের উপহার

১৫

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড নিয়ে কবীর ভূঁইয়ার গণসংযোগ

১৬

ঢাকা কলেজে উত্তেজনা

১৭

প্রস্রাবের কথা বলে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালালেন আসামি

১৮

জনগণের দোয়া ও সমর্থন চাইলেন রবিউল

১৯

ব্র্যাক ইপিএল কর্পোরেট ক্রিকেটে সেনাবাহিনী ও ঢাকা ব্যাংকের জয়

২০
X