রীতা ভৌমিক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৫৭ এএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩১ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে যমুনার কালীগঙ্গা মোহনায় হচ্ছে বেড়িবাঁধ

কালবেলায় প্রতিবেদনের পর নির্মাণকাজ শুরু
অবশেষে যমুনার কালীগঙ্গা মোহনায় হচ্ছে বেড়িবাঁধ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। যমুনায় বিলীন হওয়া ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, জমি, বাজার, দোকানপাট, অফিস ইত্যাদি নিয়ে গত বছরের ২৮ জুন ‘যমুনার গ্রাসে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ’ এবং ১৫ অক্টোবর ‘ভাঙছে নদী ভাঙছে ভবিষ্যতের স্বপ্ন’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয় দৈনিক কালবেলা সংবাদপত্রে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। এরপর চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি দপ্তিয়র ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রতিদিন বাঁধ নির্মাণের কাজ দেখতে বিভিন্ন পেশার হাজার হাজার মানুষ এখানে সমবেত হচ্ছে।

নিশ্চিন্তপুরে স্থায়ী বাঁধের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আহসানুল ইসলাম (টিটু) এমপি। আগামীতে যমুনা ব্রিজ থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে লিঙ্ক রোড নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই নতুন জনপ্রতিনিধি।

সরেজমিন দেখা যায়, চারটি ভেকু দিয়ে যমুনার মোহনা কালীগঙ্গার মুখে ৫০০ ফুটের বেশি গভীর খনন কাজ চলছে। জিওব্যাগও ফেলা হচ্ছে নদীর তীরে।

জালাই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সেতাব আলী। ইমামতির পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। কালবেলাকে তিনি জানান, তার বাড়ি থেকে নিশ্চিন্তপুর মাত্র তিন কিলোমিটারের পথ। তার ইউনিয়নের বাটকাটারিতে যমুনার মোহনা কালীগঙ্গা নাম হয়ে ঘিওরের তরার দিকে গেছে। পলি পড়ে সে মোহনার মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে নদীভাঙনে অনেক গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এখন কালীগঙ্গার মুখ খনন করে শুধু জিওব্যাগ ফেললে স্রোত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, সেজন্য ব্লকও দিতে হবে।

বাঁধ নির্মাণের তদারকিতে আছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মোহাম্মদ নাছির আহমেদ। তিনি কালবেলাকে জানান, ইউনিয়নের পুরো এলাকাই ডাম্পিং হচ্ছে। জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তাতেও ভাঙন রোধ না হলে ব্লক করা হবে।

ফৈয়জপুর গ্রামের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন যমুনাপাড়ের অস্থায়ী হাটে বাঁশ বিক্রি করেন। নদীভাঙনে কমপক্ষে ১৮ বিঘা জমি হারিয়েছেন ৬০ বছরের এই বৃদ্ধ। তিনি জানান, বাঁধ হচ্ছে দেখে গ্রামবাসী খুশি। এই বাঁধের কারণে এখন বাড়িটা বাঁচলেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। না হলে বাস্তুহারা হব।

বাঁধের কাজ দেখতে এসেছেন মোহাম্মদ খুলছান। তার বাড়ি মাত্র আধা মাইল দূরে। তিনি জানান, নদীভাঙনে আগেই সর্বস্বান্ত হয়েছি। বাঁধটা নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামের বাড়িগুলো রক্ষা পেলেই সবাই খুশি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এটার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে: নাহিদ ইসলাম

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পর্তুগালের কোচের পদত্যাগ

সেই বালোগানকে নিয়েই বেলজিয়ামের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র

কাভার্ডভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে পরীক্ষার্থী নিহত

বাস কাউন্টার থেকে গলাকাটা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

আপত্তিকর ভিডিও করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার নারী

তরুণ উদ্যোক্তা মোস্তাকিমের অনলাইনে বিষমুক্ত আমের সফল গল্প

অবশেষে মার্কিন ফুটবলারের ‘লাল কার্ড’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ট্রাম্প

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর ‘প্রেস কর্মকর্তা’ হলেন মাহফুজ কবির মুক্তা

ভেঙে গেল রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন

১০

বিশ্বকাপ শেষ রোনালদোর, পর্তুগালকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

১১

চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন নুনো মেন্দেস

১২

কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে আর্জেন্টিনার নতুন কৌশল

১৩

বিশ্বকাপে লাল কার্ডের আন-লাকি থার্টিন

১৪

সিডনিতে বাংলা হান্ড্রেড লিগে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

১৫

প্রথমার্ধে রোমাঞ্চকর লড়াই, গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে স্পেন-পর্তুগাল

১৬

উদযাপন করতে গিয়ে কবজি ভেঙে বিশ্বকাপ শেষ হেন্ডারসনের

১৭

মহরণে স্পেন-পর্তুগাল, শুরুর একাদশে রয়েছেন যারা

১৮

পদযাত্রায় হামলার জন্য সাভারের এমপিকে সন্দেহ নাহিদের

১৯

ডিজি ছাড়া ইসিতে এনআইডি সেবা বন্ধ, সেবা মিলবে মাঠে

২০
X