তানভীর চৌধুরী, ফুলগাজী (ফেনী)
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৮ এএম
আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বজনের কান্না

‘আমার নিষ্পাপ ছেলেকে কেন গুলি করে মারল’

‘আমার নিষ্পাপ ছেলেকে কেন গুলি করে মারল’

‘আমার ছেলে কী দোষ করেছে। আমার নিষ্পাপ নিরপরাধ ছেলেটাকে কেন গুলি করে মারল। আমি কার কাছে বিচার দেব।’ আদরের সন্তানকে হারিয়ে এভাবেই বুক চাপড়িয়ে কাঁদছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় নিহত মেধাবী শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন কাউছারের বাবা মাওলানা আনোয়ার হোসেন (৫০)। গত ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের পর বন্ধুদের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেন ফেনীর পরশুরাম উপজেলার

রাজেশপুর গ্রামের ইকরাম হোসেন কাউছার। মাথায় গুলি লেগে মারা যান তিনি। ইকরাম ঢাকার কবি নজরুল কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই ফারুক হোসেন জানান, গত ১৯ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে কবি নজরুল কলেজ সংলগ্ন লক্ষ্মীবাজার এলাকায় পুলিশের ছোড়া একটি বুলেট মাথায় লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কাউছার। সেখান থেকে এক ভ্যানচালক তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ওই ভ্যানচালক বাবার নম্বরে কল দিয়ে ভাইয়ার মৃত্যুর সংবাদটি জানান। মরদেহ পরদিন রাত ৯টায় পরশুরামের রাজেশপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত ইমরান হোসেন কাউছারের বাবা মাওলানা আনোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে ভারি বস্তু পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন, আশা ছিল। ঘাতক একটি বুলেট সব নিমিষেই শেষ করে দিল। আমার সন্তান হত্যার বিচার আমি কার কাছে দেব। ছাত্রদের এই আন্দোলনে আমার মতো অনেক বাবা তাদের সন্তান হারিয়েছে। আপনজন হারানোর বেদনা কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম, নিশ্চয়ই আল্লাহ সঠিক বিচার করবেন।’

নিহত কাউছারের প্রতিবেশী দন্ত চিকিৎসক আবদুল কাদের সম্রাট বলেন, ‘ছেলেটি আমাদের চোখের সামনে বড় হয়েছে। সে অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও মেধাবী ছিল। এভাবে ছেলেটার মৃত্যু হবে ভাবতেই বারবার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

এদিকে আদরের সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ কাউছারের মা রুমি আক্তার। সন্তানের শোকে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। যখনি হুঁশ ফিরছে, কাউছার কাউছার বলে বিলাপ করছেন। তার আর্তনাদ দেখে কাঁদছেন প্রতিবেশীরাও।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পৌরসভার পানির পাম্পে আসছে গ্যাস

নারী যাত্রীকে কুপিয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে যে বার্তা দিলেন ভিনিসিয়ুস

তেলবাজার নিয়ে নতুন সতর্কতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার

লেবাননে এক সপ্তাহে ২০টির বেশি হামলা, দাবি ইসরায়েলের

তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি

১১০৪ জনকে নিয়োগ দেবে বেসরকারি সংস্থা, এসএসসি পাসেই আবেদন

ইয়াবাসহ আটককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

গাজায় হাসপাতালেও ইসরায়েলের ড্রোন হামলা

কে হবে নতুন বিশ্বজয়ী, ভবিষ্যদ্বাণী করলেন কোর্তোয়া

১০

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মাঝেও কমলো জ্বালানি তেলের দাম

১১

মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারে ১০ গ্রাম প্লাবিত

১২

বুকে কোরআন জড়িয়ে বৃদ্ধার বাড়ি ছাড়ার নেপথ্যে

১৩

রাজনীতিকে দুর্বৃত্তের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে: হাসনাত 

১৪

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় ‘দুর্ধর্ষ’ ডাকাত

১৫

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দাবি

১৬

দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়

১৭

সড়কে ঝরল শিক্ষকের প্রাণ

১৮

১১ জুলাই / ইতিহাসের এই দিনে

১৯

ইরানসংশ্লিষ্ট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

২০
X