মাহমুদুল হাসান
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৪, ০২:৪১ এএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বজনের কান্না

পাঁচতলা থেকে ফেলে দেওয়া জালালের সাড়ার অপেক্ষায়

বিএসএমএমইউতে এখনো চিকিৎসাধীন ১১ জন
পাঁচতলা থেকে ফেলে দেওয়া জালালের সাড়ার অপেক্ষায়

চট্টগ্রামের একটি ভবনের পাঁচতলা থেকে ফেলে দেওয়া হয় জালালকে। সেটা গত ১৮ জুলাইয়ের ঘটনা। এরপর পেরিয়ে গেছে ১৩ দিন; কিন্তু জ্ঞান ফেরেনি তার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের কাচঘেরা কক্ষে শয্যাশায়ী অচেতন জালাল। চিকিৎসকরা অপেক্ষায় আছেন, প্রতীক্ষায় আছেন বন্ধুরা। আর স্বজনদের অপলক দৃষ্টি যেন সরছে না এক মুহূর্তের জন্যও। জোড়া জোড়া চোখে প্রশ্ন, কবে জ্ঞান ফিরবে, কবে সাড়া দেবে তাদের প্রাণপ্রিয় জালাল?

কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই হামলা হয় ছাত্রলীগ কর্মী জালালের ওপর। পরিবারের ভাষ্য, প্রাণের ভয়ে একটি ভবনের পাঁচতলায় আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা পাননি। সেখান থেকেই জালালকে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর পরই নেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। এরপর গত ১৩ দিন ধরে বিএসএমএমইউর আইসিইউতে। তবে এখনো শঙ্কামুক্ত নন। গত সোমবার রাতে জালালের দুই পা ও হাতে অস্ত্রোপচার করা হলেও কবে নাগাদ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

ছোট ভাই জাবের চিকিৎসকদের বরাতে জানান, ভাইয়ার (জালাল) অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়। হামলার ১০ দিন পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় একই দিনে হাত ও পায়ে তিনটি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তার পরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। কতদিন আইসিইউতে থাকতে হবে তাও জানি না। আদৌ কোনোদিন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন কি না, সেটিও কেউ বলতে পারছেন না। অজানা আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে আমাদের।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে একসময় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই এইচএসসি শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, কতটা বর্বর হলে একজন মানুষকে পেটাতে পেটাতে ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া যায়। তারপর নিচে পড়ে যাওয়ার পরও খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভাইয়ার চোখে ও শরীরে আঘাত করেছে ওরা। হয়তো ভেবেছিল ভাইয়া মরে গেছে।

একই ভবন থেকে ফেলে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনকেও (২৪)। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কেবিন ব্লকে স্থানান্তর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের আরেক কর্মী মো. সোহেলকেও (২৮) আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে।

জালালসহ চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের এই তিন নেতাকর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা ঐশিক পাল জিতু। ওইদিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছাত্রদল ও জামায়াতের কর্মীরা ছিল। তারাই এ নৃশংস হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন ওই ভবনে আশ্রয় নেয়। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে পড়ে। জালাল, ইকবাল ও সোহেলকে মেরে ফেলার জন্যই মূলত ভবনটি থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার ডা. রেজাউর রহমান বলেন, কোটা আন্দোলন চলাকালে আহত ১২২ জন এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১১ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে দুজন। বাকিরা কেবিন আছেন।

তিনি আরও বলেন, নিউরো, অর্থোপেডিক এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার এই তিন সমস্যা নিয়েই মূলত বিএসএমএমইউতে এসেছেন আহতরা। তাদের চিকিৎসার সব ব্যয় কর্তৃপক্ষ বহন করছে।

হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মিজানুর রহমান জনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৯ জুলাই ধানমন্ডি ৩/এ দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে ছিলেন জনি। হঠাৎ খবর পান সভানেত্রীর দলীয় কার্যালয়ে হামলা করতে সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। খবর শুনে জনিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের পথরোধ করতে ঝিগাতলা থেকে ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়ক ধরে সায়েন্স ল্যাবের দিকে এগোতে থাকেন। সেসময় আন্দোলনকারীরা জনিকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান তিনি। পরে কয়েক হাসপাতাল ঘুরে উন্নত চিকিৎসায় বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয় জনিকে। ভর্তির পর কয়েক দিন ছিলেন আইসিইউতে। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন এখন। গতকাল কেবিন ব্লকের নির্দিষ্ট কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, মাথায় এবং হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে শুয়ে আছেন জনি। নড়াচড়ার শক্তিও নেই। কথা বলতেও তীব্র যন্ত্রণা হয় বলে জানান তার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন।

গত ১৮ জুলাই। যুবলীগের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মাকসুদ রাজনৈতিক সভা শেষে বাসায় ফিরছিলেন। হঠাৎ অতর্কিত হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও আনা হয় বিএসএমএমইউতে। কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যায় থেকে এখন আছেন কেবিনে। গতকাল কথা হয় মাকসুদের বড় ভাই ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভাই (মাকসুদ) দলীয় পরিচয় গুরুত্ব না দিয়ে সমঅধিকারে গুরুত্ব দিত। কোটা আন্দোলন শুরু হলে তাকে সাবধানে থাকতে বলি। তবুও তার ওপর হামলা হয়েছে। এখন সুস্থতার জন্য দোয়া ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আকাশ বহুমুখী সমবায় সমিতি ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

শ্রীমঙ্গলে পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ 

মৌলিক সংস্কার শেষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে : ডা. তাহের

২০ বল করার জন্য ৩৪ হাজার কিলোমিটার উড়ে যাচ্ছেন অজি স্পিনার

সড়কে নিয়ম ভাঙার মহোৎসব / যানজট নিরসনে ভুমিকা নেওয়ায় সুবিধাভোগীদের রোষানলে পুলিশ কর্মকর্তা

বালু উত্তোলনের লাইভ প্রচার করায় নির্যাতন

দেয়াল-পিলারে ফাটল, মেঝেও ধসে গেছে সৈয়দপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের

কাকরাইল রণক্ষেত্র, পুলিশি প্রটোকলে কার্যালয় ছাড়লেন জিএম কাদের

‘প্ল্যান-বি হলো জাতীয় পার্টির ওপর ভর করে লীগকে ফেরানো’

বরইতলা নদীকে গলা চেপে ধরেছে অপরিকল্পিত বাঁধ

১০

নুরের ওপর হামলা, রাতেই বিক্ষোভের ডাক এনসিপির

১১

রাকসু নির্বাচনে মনোনয়ন বিতরণ শেষ রোববার

১২

ইউসিটিসিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান

১৩

হলুদ হেলমেট পরে হামলা করেছে কারা?

১৪

মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে যা বললেন ভারতীয় সাংবাদিক

১৫

‘জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা করেছে জাপা’

১৬

ভারতের দাপুটে জয়, সাফ শিরোপা হাতছাড়া বাংলাদেশের

১৭

গাজায় সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিচার দাবি

১৮

অশুভ শক্তি দমনে ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে : কামাল হোসেন

১৯

জাপা কার্যালয়ের সামনে ফের হামলা, গুরুতর আহত নুর

২০
X