মিলটন খান, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ)
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

২৫ বিদ্যালয়ের জমি দখল করে দোকান মাদ্রাসা, গোয়ালঘর চালকল

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী
২৫ বিদ্যালয়ের জমি দখল করে দোকান মাদ্রাসা, গোয়ালঘর চালকল

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় অন্তত ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। এতে পাঠদান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানীতে মোট ১৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১১১টি সরকারি এবং ৫৩টি জাতীয়করণকৃত। সরকারি ১১টি বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি নেই; খাসজমির ওপর স্থাপিত। পাশাপাশি ২৫টি বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি থাকলেও প্রায় আট বিঘা জমি এখন বেদখলে। অথচ জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোর ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ জমি বরাদ্দের নিয়ম রয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে জমি দেওয়া হয়েছিল চাকরি পাওয়া, সভাপতি হওয়া বা স্থানীয় প্রভাব খাটানোর বিনিময়ে; কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই জমিদাতাদের উত্তরসূরির দখলে চলে গেছে, যাদের কেউ কেউ ওই জায়গায় ঘরবাড়ি, দোকান, মসজিদ, মাদ্রাসা, পুকুর এমনকি কবরস্থান পর্যন্ত তৈরি করেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। যেমন দোকানঘর, রান্নাঘর, ঈদগাহ, টিনের ঘর, টয়লেট ইত্যাদি। কোথাও আবার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও গড়ে উঠেছে।

অবৈধ দখলের কারণে কিছু বিদ্যালয় অন্যত্র সরে গিয়ে নামমাত্র স্থানে চলছে। কোথাও ভবনের বরাদ্দ থাকলেও জমির অভাবে নির্মাণ সম্ভব হয়নি। শিক্ষকরা থাকলেও শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে।

বর্ষাকালে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে যেতে হয় ভেলা, নৌকা বা সাঁকো দিয়ে। কোথাও আবার ক্লাসের পাশেই টয়লেটের খোলা ট্যাংকি। দুর্গন্ধে জানালা বন্ধ করে ক্লাস নিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয় পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার কালবেলাকে বলেন, ‘কিছু সরকারি স্কুলের জমি বেদখলে রয়েছে। আমরা জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাব। এরই মধ্যে কিছু মামলা হয়েছে। আরও জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যারা দখলে রেখেছে, তারা আমাদের অনুমতি নেয়নি বা জানানোর প্রয়োজনও মনে করেনি।’

বেদখলের চিত্র: ২৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় বেদখল চিত্র দেখা যায়—১৪৮ নম্বর চন্দ্রদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২৩ শতাংশ বেদখলে। প্রধান শিক্ষক মনিরা খানম বলেন, ‘অনেকবার বলেও জমি মুক্ত করা যায়নি। পুরো খাজনা দিচ্ছি, অথচ জায়গা পাচ্ছি না।’

৩৮ নম্বর পশ্চিম রাতইল বিদ্যালয়: ৮৭ শতাংশ জমির মধ্যে ২১ শতাংশ দখল করে গড়ে উঠেছে মাদ্রাসার টিনশেড ঘর ও টয়লেট। দুর্গন্ধে পাঠদান সম্ভব নয় বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান।

পিংগলিয়া ২৯ নম্বর বিদ্যালয়: ৩১ শতাংশ জমির মধ্যে ২৫ শতাংশ দখল করে গড়ে উঠেছে মাদ্রাসার মার্কেট ও ভবন। প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা জানান, জমি মিউটেশন হয়ে গেছে, মামলা চলছে।

২৭ নম্বর কাশিয়ানী মডেল বিদ্যালয়: ৩৫ শতাংশ জমির মধ্যে ১০ শতাংশ বেদখলে। শিক্ষক কামরুল ইসলাম জানান, ৪২০ শিক্ষার্থীর স্কুলে খেলাধুলার জায়গা নেই। অথচ জমি মুক্ত করা যাচ্ছে না।

৪০ নম্বর তিতাগ্রাম শিবপুর বিদ্যালয়: ৩৭ শতাংশ জমির মধ্যে ১১ শতাংশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকানঘর। প্রধান শিক্ষক রিনা খানম বলেন, জেলা প্রশাসক সাত দিনের সময় দিয়েছিলেন; কিন্তু জমি দখলমুক্ত করা যায়নি।

একইভাবে ১০২ নম্বর পশ্চিম দেবাসুর বিদ্যালয়ের ৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ শতাংশ বেদখলে, ৪৫ নম্বর আড়ুয়াকান্দি বিদ্যালয়ের ৪৫ শতাংশ জমির মধ্যে ২২ শতাংশ বেদখলে। ১১৪ নম্বর খাগড়াবাড়িয়া বিদ্যালয়ের ২৮ শতাংশ জমির প্রায় পুরোটাই বেদখলে। ১০১ নম্বর পূর্বপুইশুর বিদ্যালয়ের ৩৩ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ দখল করে গোয়ালঘর ও চালকল নির্মাণ করা হয়েছে। শব্দে পাঠদান ব্যাহত হয়।

একইভাবে ১০৪ নম্বর শিতারামপুর বিদ্যালয়, ৬০ নম্বর ঘোনাপাড়া বিদ্যালয়, ৯০ নম্বর কড়িগ্রাম বিদ্যালয়, সাজাইল ১১ নম্বর বিদ্যালয়, ১৭ নম্বর পদ্মবিলা বিদ্যালয়, ৩৫ নম্বর রাইতকান্দি বিদ্যালয়, ৩৭ নম্বর বাগঝাপা বিদ্যালয়, ১৫১ নম্বর ছোট পারুলিয়া বিদ্যালয়, ১১৯ নম্বর ভাদুলিয়া বিদ্যালয়, ৩২ নম্বর বিশ্বনাথপুর বিদ্যালয়, ৪১ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা বিদ্যালয়, ১১১ নম্বর সাফলীডাঙ্গা বিদ্যালয়, ৬৯ নম্বর রাজপাট বিদ্যালয়, ১০৩ নম্বর সিল্টা বিদ্যালয়, ২২ নম্বর চাপ্তা বিদ্যালয়ের জমি বেদখলে রয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় যত দ্রুত সম্ভব বেদখল জমিগুলো চিহ্নিত করে উদ্ধার করার পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

কালবেলা/এসআই
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মানবদেহ সম্পর্কে ১০ বিস্ময়কর তথ্য, যা জানলে অবাক হবেন আপনিও

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক, তদন্তের মুখে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

রয়টার্স/ইপসসের জরিপ / ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক

দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার

বিক্ষোভে এআই নজরদারি, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

মাতামুহুরীতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: আবদুল আউয়াল মিন্টু

রাবিপ্রবি ছাত্রদলের ৩ যুগ্ম আহ্বায়ক বহিষ্কার, সদস্য সচিবের পদ স্থগিত

১০

কালবেলার অনুসন্ধানে বদলে গেল বিউটি রানীর ভিডিও বিতর্ক, তদন্ত থেকেও সরে এলো শিক্ষা বিভাগ

১১

জুলাইয়ে সম্মিলিত চেতনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ: রিজভী

১২

কাউন্সিলর একরামুল হত্যা, সেনাবাহিনীর কাস্টডিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

১৩

৪৫ দিন পর আজ খুলছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, মিলবে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা 

১৪

ছাত্রলীগ করলেই মারধর গ্রহণযোগ্য নয়: অধ্যাপক মামুন

১৫

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, জায়গা পেলেন ওসমান হাদিও

১৬

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

১৭

জয়পুরহাটে সৎ মাকে হত্যায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

১৮

ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের আংশিক নতুন কমিটি ঘোষণা

১৯

‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব রেকর্ড চুরমার করবে সূর্যবংশী’

২০
X