

জেলার তিনটি আসনের মধ্যে মাদারীপুর-১ (শিবচর), মাদারীপুর-২ (সদর-রাজৈর) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির সঙ্গে বিএনপির। এ দুটি আসনে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলের বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর। তবে মাদারীপর-৩ (কালকিনি-সদরের একাংশ) আসনে বিএনপি অনেকটা নির্ভার। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
মাদারীপুর-১: এ আসনে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটারদের মাঝে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার সমর্থন বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি জাহাজ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপি থেকে প্রথমে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করে নাদির আক্তারকে দেওয়া হয়। এতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কামাল জামাল মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের তুলনায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে কামাল জামান মোল্লাকেই এগিয়ে রাখছেন এখানকার ভোটাররা।
মাদারীপুর-২: এ আসনেও মোট সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান। তবে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বিএনপির সাবেক নেতা মিল্টন বৈদ্য। তিনি রাজৈরের বাসিন্দা হওয়ায় এই উপজেলায় তার জনসমর্থন বেশি। রাজৈর পৌরসভা, আমগ্রামসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হিন্দুদের ভোটব্যাংক রয়েছে। সেখানে মিল্টন বৈদ্যের একচেটিয়া ভোট পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, রাজৈরের হিন্দু ভোট যে প্রার্থী বেশি পেয়েছেন তিনিই এমপি হয়েছেন। এদিক থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান সদরের কিছু ভোট পেলেও রাজৈরে তার জনসমর্থন একেবারেই কম। সেক্ষেত্রে তার বিজয়ের সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি।
মাদারীপুর-৩: এ আসনে বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার (খোকন) যেভাবে গণসংযোগ করছেন এবং অত্যন্ত এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটে বেড়াচ্ছেন তাতে তিনি অনেকটাই বিজয়ের পথে রয়েছেন বলে অনেকের ধারণা। তবে জামাতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ‘ক্লিন ইমেজের’ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে ভোটের হিসাবে আনিসুর রহমান তালুকদারই অনেকটা এগিয়ে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন