

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে ফেনীর মানুষের দাবি অনুযায়ী এখানে একটি মেডিকেল কলেজ ও ইপিজেড স্থাপন করা হবে। আমরা যুবকদের শুধু স্বপ্ন দেখাতে চাই না, তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ফেনীতে একটি ইপিজের স্থাপিত হলে হাজারো তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়া বিদেশে গমনেচ্ছুক যুবকদের কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য একটি কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। যাতে তারা উচ্চ আয়ের মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে পারে।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে একটি মহলের ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তের ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। বৃহত্তর নোয়াখালী ও ফেনী বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা, এর সম্মান আপনাদের রক্ষা করতে হবে। এজন্য আগামীতে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতা আনতে হবে। তবেই জনগণের সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কৃষকদের কল্যাণে ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। যার মাধ্যমে সার ও বীজ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। নারীদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ সুবিধা চালু করা হবে। পল্লী চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে হাসপাতালে যেতে না হয়।
গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষকে বিজয়ী করতে পারলে আমরা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে দেশকে একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করব।
সম্প্রতি ফেনীতে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষির সুবিধার্থে সারা দেশে পুনরায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে।
বিগত ১৫ বছরের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গত দেড় দশকে মানুষের সকল অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। ক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোর হাতে দুর্নীতি দমন করা হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়ে স্লোগান দেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশকে গড়তে হলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- বরকত উল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহাজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, জয়নাল আবেদীন ভিপি, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আশরাফউদ্দিন নিজান, রফিকুল আলম মজনু, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন সেলিম।
এ ছাড়া বিএনপি স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম রফিক, বিএনপি সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন, গ্রাম সরকারবিষয়ক সহসম্পাদক বেলাল আহমেদ, সহপ্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রেহানা আকতার রানু ও শাহাবুদ্দিন সাবু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, শাহানা আকতার সানু, অ্যাডভোকেট মেজবাউদ্দিন খান, আবদুল লতিফ জনি, তাবিথ আউয়াল, আবু তালেব ও জালালউদ্দিন মজুমদার বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন