চলতি মাসে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তৃতীয় পর্যায়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একশ জনের নাম। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হরিদাস ঠাকুর জানান, সচিবকে সভাপতি ও কর্নেল সাজ্জাদ জহির বীরপ্রতীককে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটি গঠিত হয় ২০২০-এর নভেম্বরে। পরের বছর ৭ এপ্রিল প্রথম ধাপে ১৯১ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ২০২২ সালের ২৯ মে দ্বিতীয় ধাপে ১৪৩ জনের তালিকা করা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক লে. কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক বলেন, আশা করছি এ মাসেই তৃতীয় গেজেটটিও প্রকাশিত হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধা শহীদদের সংখ্যা ৮ হাজারের ওপরে। তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে। স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রকাশের লক্ষ্যে কাজ করছি।
শহীদ বুদ্ধিজীবী তালিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য (গবেষক) অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবী বা অন্য শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা কিছুটা অসম্ভব। ৫৫ বছর আগে তারা কোথায় ছিলেন, কী করেছেন এটা অনুসন্ধানের বিষয়। যে মন্ত্রণালয় কাজটি করবে তাদের সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে। যারা কাজ করবেন তাদের পারিশ্রমিকও দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় দেরিতে হলেও কাজটি হাতে নিয়েছে বলে অভিনন্দন।
তিনি আরও বলেন, একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে, তবে সেটিকে কখনো পূর্ণাঙ্গ বলা যাবে না। কারণ ওই সংখ্যার বাইরেও অজানা শহীদ থাকতে পারেন।
কমিটির আরেক সদস্য (গবেষক) ও গণহত্যা জাদুঘরের ট্রাস্টি সম্পাদক ড. চৌধুরী শহীদ কাদের বলেন, তালিকা প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তৃতীয় গেজেটে নতুন প্রায় একশ শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম যুক্ত করেছে উপকমিটি। শিগগিরই জাতীয় কমিটির সভা ডেকে তা প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও জানান, মূলত দুটি ভিত্তি ধরে তালিকার কাজটি করেছি। যারা ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্বীকৃতির জন্য। সেগুলো যাচাই-বাছাই করেছি। দ্বিতীয়ত, মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণা আছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন ও গণহত্যা জাদুঘর নিয়ে। সেখানে ৪০০ জনের তালিকা ছিল। সেখান থেকেও কিছু নাম নেওয়া হয়েছে। রাজাকার ও গণশহীদের তালিকার কাজও চলছে। সে তুলনায় এ তালিকাটি দ্রুত এগিয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তালিকায় সময় লাগবে।
এদিকে বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী, ১৩ সাংবাদিক, ৯ সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ প্রকৌশলী এবং অন্যান্য ২ জন নিয়ে মোট শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ১ হাজার ১১১ জন।
১৯৮৪ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা নিয়ে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারক গ্রন্থ’ প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি। নাম সংগ্রহের জন্য তখন সব জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেয় একাডেমি। সে সময় বাংলা একাডেমি নিজেরাই ঠিক করে যে, শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী, চলচ্চিত্রকার, প্রকাশকসহ বিশেষ কিছু পেশাজীবীকে ‘বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সে অনুযায়ী ১৯৮৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২৫০ জনের তালিকা নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের নাম-ঠিকানা ধরে তাদের নিকটাত্মীয়ের লেখা সংকলিত করে ১৯৮৮ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ‘স্মৃতি-৭১’ গ্রন্থ।
তখন মোট ৩২৫ জনের নাম একাডেমির হাতে আসে। পরে একাধিক ‘স্মৃতি-৭১’ প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ দশম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালের ৪ ডিসেম্বর। এ পর্যন্ত বাংলা একাডেমি ২৩৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবের স্মৃতিকথা প্রকাশ করে।