আলী ইব্রাহিম
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫০ এএম
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধ সিগারেটে বাজার সয়লাব

রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
অবৈধ সিগারেটে বাজার সয়লাব

দেশের বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে বিদেশি সিগারেট। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে পাইকারি বাজারেও মিলছে অবৈধভাবে আমদানি হওয়া এসব সিগারেট। প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের সিগারেটের তুলনায় দাম কম হওয়া এসব সিগারেটে ঝুঁকছেন ধূমপায়ীরা। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় অবৈধ সিগারেটের আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধে সারা দেশে জেরা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে চাহিদা থাকায় ওরিস ও ইজি ব্র্যান্ডের সিগারেট হাত বাড়ালেই মিলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নকল সিগারেটও। এসব সিগারেট অবাধে আমদানিযোগ্য না হওয়ায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে দেশে আসছে। আর কিছু দেশীয় প্রতিষ্ঠানও নামে-বেনামে এসব সিগারেট তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে। যার প্রমাণ মেলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। এসব ব্র্যান্ডের দেশি ও বিদেশি সিগারেটে প্যাকেটপ্রতি দামের পার্থক্য একশ টাকারও বেশি। দেশি-বিদেশি এসব সিগারেট উচ্চ শুল্কের পণ্য হলেও

সরকার ন্যূনতমও রাজস্ব পাচ্ছে না। যার কারণে এরই মধ্যে এসব সিগারেট বিক্রি ও মজুত বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সূত্র জানায়, বাজারে অবৈধ সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করতে বারবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। যার কারণে বিষয়টি টাস্কফোর্সের কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। টাস্কফোর্স এসব অবৈধ সিগারেট বন্ধে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই আলোকে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, সিগারেট আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে গত বছর একটি বিদেশি সিগারেটও বৈধভাবে আমদানি হয়নি। অথচ বাজারে অরিস, মন্ড, ডানহিল, ইজি ব্র্যান্ডের সিগারেট সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। আমদানিযোগ্য সিগারেটের প্যাকেটে ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর শব্দটি স্পষ্ট বাংলায় লেখা থাকতে হবে। যেসব সিগারেটের প্যাকেটে এ কথাটি লেখা থাকবে না, সেটাই অবৈধ সিগারেট। এসব সিগারেটের বাজারজাত বন্ধে জেলা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থাও চেয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশে সাধারণত চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হয়। এর মধ্যে অতি উচ্চ স্তর, উচ্চ স্তর ও মধ্যম স্তরের সিগারেটে সরকার রাজস্ব পায় ৮১ শতাংশ। নিম্ন স্তরে সরকার রাজস্ব পায় ৭৪

শতাংশ। অথচ চোরাচালানের মাধ্যমে আসা বিদেশি সিগারেট বাজারে বিক্রি হলেও সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। এ ছাড়া যেসব দেশি প্রতিষ্ঠান নকল করে এসব পণ্য বিক্রি করছে, তাদের কাছ থেকেও সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, সুপারশপ, শপিংমল ও সাধারণ মুদি দোকানে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা অবৈধ বিদেশি সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান না মেনে আনা এসব সিগারেট বাজারজাতকরণের ফলে আইন ভঙ্গের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব হারাচ্ছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া কাস্টমস আইনের ধারা-২ (এস)-এ কোন ধরনের কার্যক্রম চোরাচালান হিসেবে বিবেচিত হবে, তার সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কাস্টমস আইন ও আমদানি নীতি আদেশের উল্লেখিত বিধিবিধান লঙ্ঘন করে বিদেশি সিগারেট আমদানি, উৎপাদন, সরবরাহ, বাজারজাত ও বিক্রয় করা চোরাচালান হিসেবে গণ্য হবে এবং তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসারে অনুযায়ী ব্যান্ডরোলবিহীন কিংবা জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট কিংবা বিড়ি তৈরি, মজুত, সরবরাহ বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

এর আগে দেশের বাজারে বিদেশি সিগারেট আমদানি ও বিক্রয় না করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর। এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, আমদানিকারক, উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, তারা যেন দেশের প্রচলিত আইন পরিপালন ব্যতীত বিদেশি সিগারেট আমদানি, উৎপাদন, সরবরাহ, বাজারজাত ও বিক্রয় না করেন। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে চোরাচালানকৃত বিদেশি সিগারেট পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাস্টমস আইন ১৯৬৯, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ ও বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় এনবিআর।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও কি গোল্ডেন বুটে অবদান রাখে?

সোলার পিভি আরইসি উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বিসিএস ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

রাতের আঁধারে কৃষকের শতাধিক লাউগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

একই দিনে দুই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার

জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সেদিন কী ঘটেছিল?

ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইরান

ঝিনাইদহে গাড়াগঞ্জকে নতুন উপজেলা ও পৌরসভার দাবিতে মানববন্ধন

অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় / বিআইডব্লিউটিএর চলমান প্রকল্পসমূহের ব্যয় সাশ্রয় ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের নির্দেশনা

আবারও ফিফা র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে আর্জেন্টিনা

১০

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় সেনা কর্মকর্তা আটকের বিষয়ে কী বলছে আইএসপিআর

১১

আলজেরিয়ার এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ নিহত ১১

১২

সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত: টিআইবি

১৩

সৈয়দপুরে বর্ণিল রথযাত্রা উদযাপন 

১৪

বিশ্বকাপ জিতলে কত টাকা পাবে চ্যাম্পিয়ন দল? বাকিরা কে কত পাবে?

১৫

এপস্টেইনের সঙ্গে গোয়েন্দাদের যোগাযোগ নিয়ে নতুন তথ্য ফাঁস করলেন ভ্যান্স

১৬

র‍্যাবের সাবেক এএসপি মাসুদুর বরখাস্ত

১৭

পে-স্কেলে ৪ ক্যাটাগরিতে মিলবে ইনক্রিমেন্ট, সচিব কমিটিতে সিদ্ধান্ত

১৮

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার

১৯

বিছানায় পড়ে ছিল স্বামী-স্ত্রীর লাশ, পাশেই মিলল শিশুসন্তান ও চিরকুট

২০
X