তামজিদ হোসেন
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

নিজের গানে স্বাধীনতা থাকে: নাদিম

শাহাদাত হোসেন নাদিম । ছবি : সংগৃহীত
শাহাদাত হোসেন নাদিম । ছবি : সংগৃহীত

জাদুর শহর ঢাকা। যেখানে প্রতিটি মানুষের বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকে ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্ন। কেউ তুলির আঁচড়ে আঁকতে চান পৃথিবী, কেউ শব্দের জাদুতে গড়েন গল্প, আবার কেউবা সুরের ভেলায় ভাসিয়ে দেন জীবন। সেই স্বপ্নবুনন শহরেই স্বপ্ন বুনে চলেছেন এক সুরের কারিগর শাহাদাত হোসেন নাদিম। তিনি একাধারে সংগীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। শুধু একক গানেই নয়, নাটকের আবহ সংগীতেও মুগ্ধ করছেন শ্রোতা-দর্শকদের। কালবেলার আজকের সাক্ষাৎকারে থাকছে নাদিমের সুরযাত্রার গল্প।

লিখেছেন তামজিদ হোসেন

সংগীতের প্রতি আগ্রহের শুরুটা কেমন ছিল?

আমার খুব ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ ছিল। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল আমি একদিন গান গাইব এবং আমার গান সবাই শুনবে। এ ইচ্ছাটা আমার খুব প্রবল ছিল। ছোটবেলায় বড় ভাইরা যখন গান গাইতেন, আমি তাদের সঙ্গে বসে থেকে গানগুলো শুনতাম এবং ক্যাসেট প্লেয়ারের গান শুনে সেটা গাইবার চেষ্টা করতাম।

পরিবার থেকে সংগীতচর্চায় কতটা প্রেরণা পেয়েছেন?

আমার মা খুব গান শুনতে পছন্দ করতেন। যখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি তিনি তখন আমাকে একটা গিটার কিনে দেন। গানের প্রতি উৎসাহ তখন থেকেই বেড়ে যায় এবং আমি পরিবারের অন্যান্য সবার থেকেই গান নিয়ে অনেক অনুপ্রেরণা পেয়ে আসছি ছোটবেলা থেকেই।

প্রথম গান বা সুর করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আসলে আমি প্রথমে যেই গানটা সুর করেছি, ওই গানটা আমি এখনো সম্পূর্ণ করিনি। তবে এর মধ্যেই আমি অন্যান্য গান সুর করেছি ও লিখেছি। গানগুলো আমার ইউটিউব চ্যানেলে আছে এবং সবাই এটা পছন্দও করছে। আমি খুবই এক্সাইটেড ছিলাম নিজের লেখা, সুর, কম্পোজ ও কণ্ঠও থাকবে আমার। এখনো আমি কোনো গান লিখতে শুরু করলে সেটা শেষ করার জন্য খুবই উৎসাহী থাকি। সুর করাটা খুব বেশি আনন্দের লাগে আমার কাছে।

কোন শিল্পী বা সুরকারকে আপনি সবচেয়ে বেশি অনুসরণ বা অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন?

গুরু আজম খান, আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, আশিকুজ্জামান টুলু, তাদের সুর ও গান আমার খুব ভালো লাগে। তবে বিশেষভাবে আমার লাকি আকন্দ ও হ্যাপি আকন্দের সুর বেশি ভালো লাগে। এ ছাড়া আরও অনেকেই আছেন যাদের নাম আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।

একটি গানের সুর ও মিউজিক অ্যারেঞ্জ করার সময় আপনার প্রক্রিয়াটা কেমন হয়?

আমি যে কোনো নাটকের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক করার ক্ষেত্রে সবার আগে কয়েকবার নাটকটা দেখি। দেখে আমি প্রত্যেকটা চরিত্র, প্রত্যেকটা মোমেন্ট কল্পনায় রাখি। তারপর আমি কয়েকটা ভাগে ভাগ করি। যেমন—সাসপেন্স, হ্যাপি মুড ও স্যাড মুড। এরপর প্রথমে হ্যাপি মুডের মিউজিক করি, তারপর বাকিগুলো করে ফেলি।

আপনার বানানো কোন কাজটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আপনাকে তৃপ্তি দিয়েছে?

আমার যে কাজটি আমাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিয়েছে, সেই গানটা আমি এখনো পর্যন্ত পাবলিস্ট করিনি। তবে খুব তাড়াতাড়ি গানটি সবাই শুনতে পাবেন।

শ্রোতা বা দর্শকের কাছ থেকে পাওয়া কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া কি আপনাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে?

এরকম অনেক ঘটনা আছে। তবে এই কিছুদিন আগে, আমার খুব কাছের এক ছোট ভাই তার প্লে-লিস্টে আমার গানের স্ক্রিনশট দেয় যেটা আমাকে অনেক তৃপ্তি দিয়েছে এবং কয়েক দিন আগে আমাকে অপরিচিত কয়েকজন, ফেসবুকে দেওয়া নাম্বারে কল দিয়ে আমার গান শুনে ভালোবাসা জানায়। যেটা আমাকে আরও নতুন গান সৃষ্টির দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

আপনার সংগীতযাত্রায় সবচেয়ে কঠিন সময়টা কখন এসেছিল আর কীভাবে তা কাটিয়ে উঠেছেন?

আসলে আমি মনে করি, কঠিন সময়ে গান করা যায় না। তাইতো যতদিন বিরত ছিলাম ওই সময়টা আমার কঠিন সময় পার হয়েছে। আমি গান নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরছি, অনেককে শুনিয়েছি এবং আশাও দিয়েছে তারা। পরে কিছুই করেনি। কালবেলা ড্রামার একটি নাটক ‘পাগলের সুখ মনে মনে’র ব্যাকগ্রাউন্ড ও গান করতে গিয়ে আমার এ ব্যাপারটাতে পরিবর্তন হয়েছে।

সামনে একক অ্যালবাম বা বড় কোনো প্রজেক্টে কাজ করার পরিকল্পনা আছে কি?

সামনে গান নিয়ে অনেক রকমেরই পরিকল্পনা আছে। এখন তো আর সিঙ্গেল অ্যালবাম হিসেবে গান আসে না। তাই সামনে আমার সরাসরি একটি ব্যানার এবং মিউজিক কম্পোজিশনে সুন্দর একটি গান আসছে। এ গানটা নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী, আশা রাখছি এটা সবার কাছেই ভালো লাগবে।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সূচি ঘোষণা, বড় সুযোগ টাইগারদের সামনে

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা

শুরুর আগেই শেষ মুস্তাফিজের দ্য হানড্রেড

ফেসবুকে তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট-পেজ, সতর্ক থাকার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবদল নেতার

সালমান শাহ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

৫ কোটি টাকার সড়ক কাজে ধীরগতি, যানজটে নাকাল মানুষ

মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিরসন হাইওয়ে পুলিশের অগ্রাধিকার

প্রিমিয়াম স্বাদের নতুন দুই আইসক্রিম বাজারে আনল পোলার

১০

৫০তম বিসিএস / লিখিত পরীক্ষার ছয় হাজার ১৬৫ জন উত্তীর্ণ

১১

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সঙ্গে কমেছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

১২

বিশ্বকাপ শেষ, ইউরো-কোপা আমেরিকা কবে কখন?

১৩

ভারত সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ককরোচ জনতা পার্টি

১৪

কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে ‘গ্লাসগো’ এখন উৎসবের নগরী

১৫

পদ্মা ব্যাংকের ১৪১ পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

১৬

গিফটি ফার্মা কাপ ২০২৬ / এক মঞ্চে দেশের ১২টি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি 

১৭

‘গ্রামে চিকিৎসার অভাবে আর কোনো প্রাণ ঝরবে না’

১৮

রাস্তার ইট চুরির মামলায় কারাগারে ৪ জন

১৯

বিশ্বকাপে ‘পাতানো ম্যাচ’ নিয়ে ফিফার প্রতিবেদন প্রকাশ

২০
X