টাঙ্গাইলে সাপের কামড়ে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। গত সাত মাসে জেলায় সাপের ছোবলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অন্তত ৫৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭২ জন রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে। এ সময়ে সাপের কামড়ে জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত সাত মাসে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫ জন, জেনারেল হাসপাতালে ১২২ , কুমুদিনী হাসপাতালে ৬৪, নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮, দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০, মিজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩, সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯৮, কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫, গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭, মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৮ জন এবং ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ে আহত হয়ে ২১ জন ভর্তি হয়।
তাদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭২ জনকে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুজন, বাসাইলে চারজন, মিজাপুরে একজন, সখীপুরে ১৭, কালিহাতীতে তিনজন, ঘাটাইলে ১৩ জন, ভূঞাপুরে তিনজন, গোপালপুরে একজন, মধুপুরে ৯ জন এবং ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৯ জন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, একই সময়ে সাপের কামড়ে আহত রোগীদের মধ্যে- টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৩ জন, জেনারেল হাসপাতালের ১২২ জন, কুমুদিনী হাসপাতালের ৬৪, নাগরপুরে ১৬, দেলদুয়ারে ৪, বাসাইলে ৬, মির্জাপুরে ২২, সখীপুরে ৮১, কালিহাতীতে ৪, ঘাটাইলে ১০, ভূঞাপুরে ১২, গোপালপুরে ১৬, মধুপুরে ২৯ জন এবং ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুজন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তারা হচ্ছেন- নাগরপুর উপজেলার মন্টুর স্ত্রী আসমা খাতুন ও ভূঞাপুর উপজেলার আমিনুর রহমান।
সাপের ছোবলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আসমা খাতুনের মেয়ে হামিদা খাতুন জানান, মাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের ১১ জুন ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই চিকিৎসকরা দ্রুত অ্যান্টিভেনম এনে দেওয়ার জন্য লিখে দেন। এটি কিনে এনে দিলে চিকিৎসক পুশ করে এবং মাকে স্যালাইন দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মা মারা যান।
আমিনুর রহমানের বোনের স্বামী পারভেজ জানান, সাপের ছোবলে আহত অবস্থায় আমিনুর রহমানকে টাঙ্গাইল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির ২ ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা জানান, সেখানে অ্যান্টিভেনম নেই। অ্যান্টিভেনম না থাকায় বাইরে থেকে কিনে আনতে পরামর্শ দেন। বাইরে থেকে অ্যান্টিভেনম কিনে এনে দিলেও আমিনুর রহমানকে বাঁচানো যায়নি।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কদ্দুছ বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম রয়েছে। এ ছাড়া অ্যান্টিভেনম নিয়ে কোনো চিকিৎসক রোগীকে বিভ্রান্ত করার কথা নয়।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুব আলম জানান, সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম ইঞ্জেকশন বর্তমানে জেলায় ১৩টি হাসপাতালে ৩৪৫টি রয়েছে।
মন্তব্য করুন