

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলীলার বয়স মাত্র ২৪। কিন্তু বয়সের সীমা পেরিয়ে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার মাঝেই তিনটি ভিন্নভাবে সক্ষম শিশুর দায়িত্ব নিয়ে শ্রীলীলা প্রমাণ করেছেন, খ্যাতির পাশাপাশি দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
‘ভগবন্ত কেশরি’ ও ‘ধামাকা’খ্যাত এ অভিনেত্রী সম্প্রতি প্রথমবারের মতো নিজের এ সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। গালাত্তা প্লাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এত বড় একটি দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে তার জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং কীভাবে তিনি ব্যস্ত শুটিং সূচির মধ্যেও শিশুদের খোঁজখবর রাখেন।
তিন শিশুর মুখ প্রথমবার প্রকাশ্যে আনার পর নীরবতা ভেঙে শ্রীলীলা বলেন, ‘এ বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে গেলে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলি। খুব নার্ভাস লাগে। তবে ওদের যত্ন ঠিকভাবেই নেওয়া হচ্ছে।’
শিশুদের দায়িত্ব নেওয়ার পেছনের গল্পটিও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। কন্নড় ভাষায় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে করা একটি সিনেমার শুটিংয়ের সময় ‘কিস’ চলচ্চিত্রের পরিচালক এ পি অর্জুন তাকে একটি আশ্রমে নিয়ে যান। সেখানেই প্রথম এ শিশুদের সঙ্গে তার পরিচয়। ‘ওরা সেখানেই থাকে। আমরা ফোনে কথা বলি আর সুযোগ পেলেই আমি গিয়ে ওদের সঙ্গে দেখা করি। অনেক দিন ধরে বিষয়টি গোপন রেখেছিলাম’—বলেন শ্রীলীলা। তার মতে, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ২১ বছর বয়সে শ্রীলীলা প্রথম দুই শিশুকে দত্তক নেন। তাদের নাম গুরু ও শোভিথা। তারা দুজনই ভিন্নভাবে সক্ষম এবং একটি প্রতিষ্ঠানে থেকে লালনপালন হচ্ছে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও একটি কন্যাশিশুর দায়িত্ব নেন। এতে তার দত্তক নেওয়া সন্তানের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে।
সেই সময় ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন একটি পোস্টের মাধ্যমে শ্রীলীলা ভক্তদের সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত ভাগ করে নেন এবং শিশুদের পরিচয় তুলে ধরেন।
অল্প বয়সে এমন সাহসী ও মানবিক সিদ্ধান্ত শ্রীলীলাকে শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নয়, বরং সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন