কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৫, ০৯:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশের ঘোর অন্ধকারে উদীচীই পারে মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে রাখতে

উদীচীর লোগো। ছবি : সংগৃহীত
উদীচীর লোগো। ছবি : সংগৃহীত

সব কালোমেঘ সরিয়ে উত্তর আকাশে জ্বলজ্বল করবে বাংলার প্রগতিশীল সংস্কৃতিমনা মানুষের দিশারী ‘উদীচী’। দেশের ঘোর অন্ধকারে উদীচীই পারে মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে রাখতে।

বুধবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় আমেরিকায় বসবাসরত উদীচী-শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’।

দেশের অন্যতম আদর্শিক সংগঠন উদীচী কেবলমাত্র একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনই নয় এটি বাংলাদেশের মানুষের ন্যায়বিচার ও মানবিক অধিকার আদায়ে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যে গুরুদায়িত্ব পালন করেছে তা অতুলনীয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে এই সংগঠনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা ঘাতপ্রতিঘাতকে প্রতিহত করতে প্রবল প্রত্যয়ে পথে নেমেছে। সারাদেশে বিস্তৃত শাখা কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌঁছে গেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে। কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবীদের পাশাপাশি ছাত্রদের সাথে একাট্টা হয়েছে, সামরিক-বেসামরিক স্বৈরশাসক উৎপাটনে, উগ্রধর্মজীবী জঙ্গী সংগঠনের উল্লম্ফন প্রতিহত করতে, ধর্ষণ-নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে, ইতিহাস-ঐতিহ্য-শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনাচারের বিরুদ্ধে উদীচী দিশারি হয়ে শুধু সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনকেই নয় পথ দেখিয়েছে রাজনৈতিক আন্দোলনকেও।

মানুষের অধিকার আদায়ের কণ্টকাকীর্ণ পথে উদীচীর বুক থেকে ঝরেছে রক্ত। যশোর, নেত্রকোনায় উগ্র-সাম্প্রদায়িক শক্তির বোমার আঘাতে শহীদ হয়েছে অসংখ্য উদীচী সদস্য। কিন্তু স্বৈরশাসকের, জঙ্গি ধর্মব্যবসায়ীদের চোখরাঙানি, বুলেট, বোমা স্তব্ধ করতে পারেনি উদীচীর কর্মকাণ্ড।

রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেনের প্রতিষ্ঠিত উদীচী যার লালিত বাণী ‘মানুষের লাগি ঢেলে দিয়ে যাব মানুষের দেওয়া প্রাণ’ সেই উদীচীর কর্মীরা জনসাধারণকে নিরন্তন অনুপ্রাণিত করেছে, কর্মীরা ছুটে গেছে মানুষের কাছে, মানুষের মননকে মুক্তির আদর্শে অনুপ্রাণিত করেছে। ফলে উদীচী বাংলার মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা আর সহায়তা পেয়েছে। সক্রিয় ও জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় লাখো কর্মীসহ উদীচী সদস্য না হয়েও অসংখ্য হিতৈষী মানুষ চেয়ে থাকে উদীচীর দিকে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিগত কিছুদিন ধরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত উদীচীসংক্রান্ত খবরাখবর আমাদের বিচলিত করেছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদীচীকে কেন্দ্র করে কোনো দুর্ঘটনা বিভেদ বিসম্বাদ বাংলাদেশের গ্রহণগ্রস্থ সাংস্কৃতিক আকাশে অমানিশা ডেকে আনবে বলে আমরা মনে করি। এমনতর সংবাদে লাখো কর্মীর বুকে যেমন রক্তক্ষরণ হয় তেমনই লাখ লাখ প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষীর হৃদয় ভেঙে যায়। দেশের এই ঘোর অন্ধকারে উদীচীই পারে মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে রাখতে। যে মশাল হাতে মুক্তিযুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশে উদীচী যাত্রা শুরু করেছিল তা ম্রিয়মাণ হলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ হেরে যাবে, কারা জয়ী হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তাই উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত উদীচী-শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ, উদীচীর বর্তমান নেতৃত্ব নিজেদের মাঝে সমস্ত মতপার্থক্য দূরে ঠেলে এক টেবিলে আলোচনার মাধ্যমে ‘রুচির আকালে’ নিপতিত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের হাল শক্ত হাতে ধরবে।

আমরা মনে করি, সব কালোমেঘ সরিয়ে উত্তর আকাশে জ্বলজ্বল করবে বাংলার প্রগতিশীল সংস্কৃতিমনা মানুষের দিশারী ‘উদীচী’।

জয় হোক উদীচীর, জয় হোক বাংলার মানুষের।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সৈয়দ হাসান ইমাম, রথীন্দ্রনাথ রায়, লায়লা হাসান, বেলাল বেগ, মুহম্মদ ফজলুর রহমান, সুব্রত বিশ্বাস, কাজী ইসলাম, কৌশিক আহমেদ, হুসনে আরা, হাসান মাহমুদ, ক্ল্যারা রোজারীও, আশীষ রায়, মো. আলীম উদ্দীন, মহিতোশ মজুমদার তাপস, সাগর লোহানী, আলপনা গুহ, ফরিদা ইয়াসমিন, মিথুন আহমেদ, আনোয়ার শাহাদাত, তাহমিনা শহীদ, কল্লোল দাশ, সুলেখা পাল, হিরো চৌধুরী, এজাজ আহমেদ, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর, ওবায়দুল্লাহ মামুন, মজিব বিন হক, কাশেম আলী, মোজাম্মেল লস্কর, মোকলেস মোনতাসির, সৈয়দ রেজাউল করিম, এবাদুল হক চৌধুরী, আবু মনসুর, মুহিবুল হক রুকন, আবদুল কুদ্দুস মাখন, গোলাম মর্তুজা, শরাফ সরকার, জেবু চৌধুরী, রতন কর্মকার, আব্দুল বারী, টিংকু দাস, মহিউদ্দিন মাসুম, নাসিম আহমেদ, শাহাব আহমেদ, প্রতাপ দাস, সৈয়দ জাকির আহমেদ রনী, কাজী আতীক, বাশিরুল হক, জুলফিকার হোসেন বকুল, আব্দুল হাফিজ চৌধুরী ইমু, সৌদ চৌধুরী, শীলা মোস্তাফা, রওশন আরা নীপা, নজরুল কবীর, সৈয়দ মুজিবুর রহমান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাবে ইসরায়েল : ট্রাম্প

যশোরে আ.লীগ-যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার পদত্যাগ

নিখোঁজের ৪ দিন পর প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

ক্যানসার শনাক্তে দেশে প্রথম রোবটিক প্রোস্টেট বায়োপসি হলো স্কয়ারে

আমার কথা বলে তাহেরী হুজুর আলোচনায় থাকতে চান : সামান্তা

অভিষেক ম্যাচেই ৪৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় ক্রিকেটার 

হার্ট ভালো রাখতে প্রতিদিন খাবেন যে পাঁচ খাবার

৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কেনার পর জানতে পারলেন ভবনটিই ৩২ তলা

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প

১০

পদত্যাগী মন্ত্রীর বাসায় খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রীর সভা শেষে বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন

১১

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : মির্জা ফখরুল 

১২

মৌচাকে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল খুন

১৩

মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

১৪

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু : সমাজের এক নির্মম আয়না

১৫

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে স্থায়ী বহিষ্কার 

১৬

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান

১৭

তনু হত্যা  / ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ ২ আসামির বিরুদ্ধে 

১৮

নাগরিকসেবায় অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

১৯

হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলের সাইবার হামলা, মামলা করবে মেটা

২০
X