

বিশ্ব ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে স্বর্ণ। সোমবার আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়াল মূল্যবান এই ধাতু। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।
রয়টার্স জানায়, সোমবার স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৮১ দশমিক ১৮ ডলারে। এর আগে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৯২ দশমিক ৭১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দাম ওঠে।
ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার্স মার্কেটের দামও ২ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৭৯ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছায়।
২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। নিরাপদ সম্পদ, মার্কিন মুদ্রানীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া, চীনের স্বর্ণ ক্রয়ের রেকর্ড ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ এই উত্থান বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছরেই স্বর্ণের দাম ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, মূলত মার্কিন প্রশাসন ও মার্কিন ডলারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের গত সপ্তাহের কিছু অনিয়মিত সিদ্ধান্ত থেকেই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে হঠাৎ সরে আসেন, যা তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের চাপ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে এগোয়, তবে দেশটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
এ ছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে নিজের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে যোগ দিতে চাপ দিতে ফরাসি মদ ও শ্যাম্পেইনে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি।
পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এই বোর্ড সংঘাত নিরসনে প্রধান বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে জাতিসংঘের ভূমিকা খর্ব করতে পারে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, এটি জাতিসংঘের সঙ্গেই কাজ করবে।
কাইল রোডা আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের কাজের ধরনে এক ধরনের স্থায়ী বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। ফলে এখন সবাই একমাত্র বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের দিকেই ছুটছে।’
মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, ‘আমরা সোনার দামে আরও ঊর্ধ্বগতি আশা করছি। আমাদের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের দিকে দাম প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ডলারে চূড়ায় পৌঁছাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘মুনাফা করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে দরপতন হতে পারে। তবে প্রতিটি ধাপই স্বল্পস্থায়ী হবে ও অধিক হারে কেনার ফলে তা সামাল দেওয়া যাবে।’
অন্যদিকে, রুপার দাম ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১০৮ দশমিক ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে; এর আগে রেকর্ড ১০৯ দশমিক ৪৪ ডলার ছুঁয়েছিল।
প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৮৭১ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছায়, যা শুরুতে রেকর্ড ২ হাজার ৮৯১ দশমিক ৬ ডলার ছিল।
প্যালাডিয়ামের দামও ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭৫ দশমিক ৩০ ডলারে উঠে তিন বছরেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
মন্তব্য করুন