কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪, ০৫:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘এনবিআর-কাস্টমসের হয়রানির বিষয় মন্ত্রিসভায় তোলা হবে’

পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি : সংগৃহীত
পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমসের হয়রানির বিষয় মন্ত্রিসভায় তোলা হবে বলে জানিয়েছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সোমবার (১৩ মে) সচিবালয়ে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এনবিআর ও কাস্টমসের যত সমস্যা আছে, তার মধ্যে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বড় একটি বিষয়। সামনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়গুলো তোলা হবে।

তিনি বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও প্রবাসে ব্যবসা করা বাঙালিরাও এনবিআর এবং কাস্টমসের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করেছি। সমস্যা যখন চিহ্নিত হয়েছে সমাধান হতে বাধ্য। সুতরাং আমরা সমাধানের সূত্রগুলো বের করব এবং সমাধানগুলো খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, রোববার কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন। তিনি এনবিআর এবং কাস্টমসের হয়রানি নিয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া সাংবাদিকরা অনেক কথা বলেছেন, যেগুলো আমি বলতে পারব না। সমস্ত জায়গা থেকে একটি অভিযোগ আসছে। আমি সম্প্রতি ওমরাহ হজ করে এসেছি। সৌদি আরবে ব্যবসায়ীরা জোর করেই আমার সঙ্গে বসেছিলেন। বাঙালি ব্যবসায়ীরা সেখানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকেও একই ধরনের অভিযোগ এসেছে।

তিনি জানান, দুটি বিষয় আছে, একটি হলো রেমিট্যান্স পাঠানো, আর আরেকটি তারা যে ব্যবসা করে, তারা যেসব মালামাল পাঠায় তা নিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসে ও এনবিআরে সমস্যা পোহাতে হয় তাদের। সর্বসাকুল্যে আমি বলব, এনবিআর এবং কাস্টমসের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এটা বড় সমস্যা। আমি সামনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।

পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, পোশাকশিল্পকে আমরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হিসেবে দেখছি না, সমাজ পরিবর্তনেও আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দারিদ্র্য বিমোচনেও আপনারা মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। প্রায় ৪২ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ শ্রমিক নারী। নারীরা স্বপ্ন দেখতে শিখেছে। কাজেই সেই শিল্পকে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত না করে বাইরে কোথাও শিল্প করতে দেওয়া যাবে না, এটা শিল্পনীতি হতে পারে না। আপনারা নগদ সহায়তা প্রদান ২০২৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ রাখার দাবি জানিয়েছেন। আমাদের টার্গেটে পৌঁছাতে হলে, বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে এই নগদ সহায়তার বিষয়টি থাকতে হবে।

এর আগে বিজিএমইএ সভাপতি এসএম মান্নান (কচি) বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হয়রানির জায়গা এনবিআর। এনবিআরের চেয়ারম্যান অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ। কিন্তু তার নিচে যারা আছে... আলোর নিচে যেমন অন্ধকার সেই অন্ধকার। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে অডিট হয় না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এতে করে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা আমাদের মাল আমদানি করতে পারছি না, রপ্তানিও করতে পারছি না।

তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আইনি কোনো বাধা থাকে না। কিন্তু যোগাযোগ না করলেই হয়রানির শিকার হতে হয়। আমরা যাতে আইন মেনেই সুন্দর সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা করতে পারি তার দাবি জানাচ্ছি। আমরা হয়রানিমুক্ত ব্যবসা করতে চাই।

এ সময় ২০২৬ সাল পর্যন্ত পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বহাল রাখার দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি। পাশাপাশি সোর্স ট্যাক্স ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে চেক সরকার

আগস্টেই ১০টি বিশেষ সুবিধা নিয়ে আসছে প্রবাসী কার্ড

সাপের কামড় খেয়ে নিজেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ‘বিষঝাড়া ওঝা’

গুচ্ছে চূড়ান্ত ভর্তির সময় বাড়ল ২১ জুলাই পর্যন্ত

জকোভিচকে চাপ সামলানোর মন্ত্র জানালেন মেসি

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বড় শয়তান’ বললেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার

পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

যুবদলের সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন নান্নু মারা গেছেন

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত ৫০

কান্নার স্মৃতি মুছে ইতিহাস লিখতে মেটলাইফে মেসি

১০

আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন / টানা ৪ বিশ্বকাপে মিলেছে পূর্বাভাস, ইএ স্পোর্টসের চোখে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কারা

১১

কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

১২

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন, যুক্ত হলো ৭ নতুন শর্ত

১৩

নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে: মামদানি

১৪

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া / আজ শুরু হচ্ছে ‘টাইগার লাইটনিং-২৬’

১৫

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙছে বসতভিটা ও ফসলি জমি

১৬

ইরানকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাল আরব লিগ

১৭

১৯ জুলাই / ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল 

১৮

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি ফুটবলার

১৯

এক মাসেও ফেরেনি মরদেহ, অপেক্ষায় প্রবাসীর বাবা-মা

২০
X