কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৪, ০৬:৫৫ পিএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০৮:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে চড়া মরিচসহ নিত্যপণ্যের বাজার

রাজধানীর বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। ছবি : কালবেলা
রাজধানীর বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। ছবি : কালবেলা

রাজধানীর বাজারে কাঁচামরিচের দাম নিয়ে চলছে যত কারসাজি। কয়েকদিনের ব্যবধানে হঠাৎ কেজিতে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা বেড়েছিল। তাতে প্রতি কেজির দর পৌঁছেছিল ৪০০ টাকার কাছাকাছি। গত এক সপ্তাহে দুশ থেকে তিনশ আশি টাকা ছাড়িয়েছে কাঁচামরিচের দাম। কাঁচামরিচের দাম একলাফে দ্বিগুণ বাড়ার কারণে কোরবানির পর সরকার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির। আর এই খবরে কিছুটা দাম কমেছিল গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন)।

কিন্তু শুক্রবার (২১ জুন) আবার তা বেড়ে চারশ টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। গতকাল হিলি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। তার প্রভাবে রাজধানীতে আবারও কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম।

শনিবার (২২ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে ২৬০-২৮০ টাকা। দুই-একদিনের ব্যবধানে দ্রুত দাম বাড়ায় ও কমায় চোখ কপালে উঠছে ক্রেতা-খুচরা ব্যবসায়ীদের। ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দুষছেন পাইকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে।

শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামরিচের মৌসুম প্রায় শেষ। অন্যদিকে ঈদের বন্ধের কারণে ভারত থেকে আট দিন মরিচ আসেনি। তা ছাড়া ঈদের ছুটির কারণে ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। এ জন্য কাঁচামরিচের সরবরাহ কমায় দাম বাড়ছে। তবে ভারত থেকে কাঁচামরিচ এলে দাম আরও কমবে।

শনিবার (২২ জুন) রাজধানীর কারওয়ানবাজার, শ্যামবাজার, রায়সাহেববাজার, নয়াবাজার, হাতিরপুল ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারে দেশি ছোট জাতের কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া হাইব্রিড জাতের বড় আকারের মরিচ বিক্রি হয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়।

তবে ডিমের দাম নতুন করে না বাড়লেও আগের সেই দরে ডজন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রায়সাহেববাজারের কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া বলেন, কোরবানি ঈদের আগে ২৯০-৩০০ টাকার মতো কেজি ছিল কাঁচামরিচের। এখন পাইকারি কিনতেই প্রতি কেজিতে খরচ পড়ে ২৪০-২৫০ টাকার মতো। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ তো আছেই। সব হিসাব করলে ২৬০-২৮০ টাকার কমে বিক্রি করা যায় না। শুক্রবার তো ৩৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। ওইদিন কিনেছি ৩৪০-৩৫০ টাকা কেজিতে।

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী কামাল শেখ বলেন, অনেক কৃষকের ক্ষেতের মরিচ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে লাগানো গাছে এখনও মরিচ আসা শুরু হয়নি। ঈদের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এতে ঢাকায় মরিচ সরবরাহ কমেছে। তা ছাড়া ঈদের ছুটির কারণে ভারত থেকে কয়েকদিন মরিচ আসেনি। এটাও দাম বাড়ার একটা অন্যতম কারণ।

এছাড়া ঈদের আগে পাইকারি ৭৫-৮০ টাকা কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আজ পাইকারিতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা। এছাড়া খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে গত সপ্তাহেও ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ।

বিভিন্ন জাতের এবং আমদানি করা রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায়।

এদিকে, আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা গত এক-দুই সপ্তাহে অনেক জায়গায় ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। স্থানভেদে পাকা টমেটোর কেজি ৭০-৮০ টাকা, পেঁপে ৫০-৬০ টাকা, জাত ও মানভেদে বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা ও পটল ৪০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

চিচিঙ্গা ৬০-৭০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা, কচুর লতি ৭০-৮০ টাকা, কচুরমুখী মানভেদে ৮০-১০০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা ও কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা।

নয়াবাজারে বাজার করতে আসা ইরফান খান বলেন, বাজারের সব কিছুর দাম বেশি। তবে মরিচের দাম এক সপ্তাহ ধরে যেভাবে বাড়ছে কমছে তাতে করে এর পিছনে যে সিন্ডিকেট আছে তা আমরা সাধারণ জনগণ বুঝে গেছি কিন্তু সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো বুঝছে না বলে আজ অসাধু ব্যবসায়ীরা আমাদের এভাবে বোকা বানাচ্ছে।

মাছের বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৩০ টাকা কেজি। আকার ও মানভেদে অনেকটা একই দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া। চাষের কই ২৮০-৩০০ টাকার নিচে মিলছে না। আকার ও মানভেদে রুই-কাতলার দাম হাঁকানো হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। আকারভেদে শিং মাছ ও বাইলা মাছ প্রতি কেজি ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০, পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০, মলা মাছ ৫০০, কাচকি মাছ ৬০০, বাতাসি টেংরা ৯০০, অন্য জাতের টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৭০০, পাঁচ মিশালি মাছ ৪০০-৫০০, বাইম মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ও রুপচাঁদার কেজি ১ হাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাংসের বাজার গিয়ে দেখা গেছে, মুরগির দাম বেড়েছে। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৭০০-৭৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। আর প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়।

এছাড়া, বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৮৫০ টাকায়। গরুর মাংসের কেজি ৭৮০-৮০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি স্থানভেদে ১৯০-২১০ টাকা। এছাড়া সোনালি ও লেয়ার জাতের মুরগির কেজি স্থানভেদে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা। খাসির মাংস আগের মতোই ১হাজার ১০০ থেকে ১হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দক্ষিণ সিরিয়ার গ্রামে ইসরায়েলি অভিযানে নিহত ১৩

ভাসমান সেতু নির্মাণ করে হাজারো মানুষের ভোগান্তি দূর করল যুবদল

খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে প্রত্যাশার কথা জানালেন তামিম

বিপিএলে ফিক্সিংয়ে বড় শাস্তি পাচ্ছেন ৮ ক্রিকেটার

মেয়েদের ইমপ্রেস করতে গিয়ে ছেলেরা যে ভুলগুলো করে

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তপশিল ঘোষণা : সিইসি

তৃতীয়বার বড়পর্দায় শুভ–মিম জুটি

বিদেশে পড়ার স্বপ্নপূরণে যা করতে হবে এখনই

ইজতেমায় বাঁধভাঙা স্রোত

হঠাৎ ফটিকছড়িতে সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল

১০

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্যকে একযোগে বদলি

১১

সকালের একটি মাত্র ছোট অভ্যাসেই কমবে মানসিক চাপ

১২

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

১৩

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্রিকেটারের তিন বছর জেল

১৪

ইনজুরি নিয়ে খেলে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স নেইমারের

১৫

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ?

১৬

হৃৎস্পন্দন ঠিক রাখতে প্রতিদিনের মেনুতে রাখুন এই ৬ খাবার

১৭

এখন হোয়াটসঅ্যাপ দিয়েই টাকা পাঠান

১৮

শ্রীলঙ্কায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য হাইকমিশনের সতর্কবার্তা

১৯

আর্জেন্টিনার কাছে পাত্তাই পেল না ব্রাজিল

২০
X