কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৩, ১০:০৪ এএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ১০:৫৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

হঠাৎ পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণ কী?

মাতামুহুরি নদী উপচে বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা। ছবি : কালবেলা
মাতামুহুরি নদী উপচে বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা। ছবি : কালবেলা

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু আর মাতামুহুরি নদী উপচে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি আর কক্সবাজারের বহু অঞ্চল তলিয়ে গেছে। এর আগে এমন বন্য আর দেখা যায়নি।

সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদী যেসব এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে, তার আশেপাশের সব এলাকাই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানা যাচ্ছে।

বান্দরবাননে সাব-স্টেশনগুলোয় পানি ঢুকে পড়ায় গত তিনদিন ধরে শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। চার্জ দিতে না পারায় সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না। সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, লামা উপজেলায় বিগত দিনে সবচেয়ে বড় বন্যা দেখা গিয়েছিল ১৯৮৭ ও ১৯৯৭ সালে। এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ১৯৮৭ সালের বন্যার চেয়ে এবার সাড়ে ৩ ফুট পানি বেশি উঠেছে। চার দিনের স্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল ৭ আগস্ট। ওই দিন মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা ১১.৯৬ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে ৬ ফুট উঁচু হয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

ভয়াবহ এই বন্যার পানিতে বহু মানুষের ঘর বাড়ি, গরু, ছাগল ভেসে গেছে। বাড়ির ছাদে আটকে থাকা অনেক পরিবারকে টিন কেটে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় প্রত্যেক ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা জানান, পানি ঘরের ভিতর ঢুকে গেছে। অনেকেই খাটের নিচে ইট দিয়ে উঁচু করে ঘরের মধ্যেই রয়েছে। বাইরে বের হওয়ারও কোনো সুযোগ নাই। আশেপাশের বহু মানুষ যেভাবে পারছে, অন্যদিকে চলে গেছে।

তবে আশার কথা হলো এসব এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে।

হঠাৎ এই বন্যার কারণ কী?

হঠাৎ করে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ইতিহাস সৃষ্টিকারী এরকম বন্যার পেছনে কারণ কী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যার পেছনে মূল কারণ হলো গত কয়েকদিনের বৃষ্টি। সাধারণত পুরো অগাস্ট মাসে বান্দরবানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয় গড়ে সাড়ে ৪০০ মিলিমিটার। কিন্তু গত চার দিনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮০০ মিলিমিটারের বেশি। অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাতামুহুরি এবং সাঙ্গু নদীর স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা পার হয়ে গেছে, যে কারণে এই বন্যা দেখা দিয়েছে।

অপর দিকে পাহাড়ের ঢল এবং বৃষ্টির পানি এক সঙ্গে নদীতে নামতে গিয়ে তা উপচে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে যেসব এলাকা দিয়ে এই দুটি নদী প্রবাহিত হয়েছে, তার আশেপাশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন : লামায় বন্যার ভয়াবহ রূপ, শতকোটি টাকার ক্ষতি

এসব ছাড়াও আরও কয়েকটি কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয়রা। তারা বলছে, প্রতিবছরই নানা কারণে বাংলাদেশের নদ-নদীর পানি বহন করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে অতীতে এসব নদী যে পরিমাণ পানি বহন করতে পারতো, সেটা হারিয়ে ফেলছে। ফলে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হলে বা নদীতে পানি বেড়ে গেলে সহজেই আশেপাশের এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত ৬০টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে বান্দরবানে বন্যার শিকার হয়েছে ২১ হাজারের বেশি মানুষ। সেখানে এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার পদ আবারও স্থগিত

কুমিল্লায় গুলিতে ২ জন নিহত

ছাত্রদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

একজন খালেদা জিয়া ছিলেন বলেই সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত ছিল : রিজভী

উত্তরায় আগুনের ঘটনায় জামায়াতে আমিরের স্ট্যাটাস 

কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার

মাছ ধরার জালে উঠে এলো ব্যাগভর্তি ককটেল

নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা

বিএনপির এক নেতাকে শোকজ

১০

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন : প্রেস সচিব

১১

রাজধানীতে বেড়েছে মুরগির দাম, সবজি বাজারের খবর কী 

১২

ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

১৩

র‌্যাবের অভিযানে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার

১৪

নিঃশব্দে বিদায় নিলেন একসময়ের মিস ক্যালকাটা

১৫

‘এইচআইভি’তে আক্রান্ত দিশা পাটানির প্রেমিক

১৬

আলোচিত পাশাতেই আস্থা ১১ দলীয় জোটের

১৭

তিন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, শীত নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস  

১৮

উত্তরায় বাড়িতে আগুন, নিহত বেড়ে ৬

১৯

পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ বন্ধু নিহত

২০
X