

খুলনায় দায়রা জজ আদালতের সামনে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলির পর তাদের চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ফজলে রাব্বি রাজন (৩৮) ও হাসিব (৪৫)। তারা দুজন অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। নিহত দুজন একাধিক মামলার আসামি ও খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ পলাশ বাহিনীর সদস্য বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের সময় আদালত ভবনের বারান্দায় বহু মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদেরই একজন মোবাইল ফোনে পুরো দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন। গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে আসা ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আদালত চত্বরের সীমানা প্রাচীরের গা ঘেঁষে এক যুবক পড়ে আছেন।
আরেকজন রাম দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় পিস্তল হাতে আরও কয়েকজন যুবক আশপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পূর্বপাশের সড়ক দিয়ে দলবেঁধে চলে যাচ্ছে হত্যাকারীরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খুলনার পূর্ব রূপসার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা এজাজ শেখের ছেলে ফজলে রাব্বি রাজন (৩৮) এবং নগরীর সদর থানাধীন নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নাফের ছেলে হাসিব (৪৫) সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে খুলনার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এসেছিলেন।
হাজিরা দিয়ে বের হয়ে একটি মোটরসাইকেলে দুজন উঠে বসার সাথে সাথে ওঁৎ পেতে থাকা ১০ থেকে ১২ সন্ত্রাসী তাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা এ দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামিম হাসান তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান দুজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ মার্চ সন্ধ্যার পর খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন আরামবাগ এলাকায় যৌথবাহিনীর সাথে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ পলাশ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় বিপুল অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ পলাশসহ ১১ জনকে আটক করে যৌথবাহিনী। গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে ছিল ফজলে রাব্বি রাজন। ওই ঘটনায় সোনাডাঙ্গা করা অস্ত্র মামলায় ৬ নম্বর আসামি ছিল রাজন।
পরে পুলিশি তদন্তে আটক পূর্ব রূপসার আব্দুল মান্নাফের ছেলে তালিকাভুক্ত অপর এক সন্ত্রাসী হাসিবকে (৪৫) ওই মামলায় আসামি হিসাবে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়। রোববার এ মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন রাজন ও হাসিব।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র মামলায় প্রায় ৬ মাস জেল খেটে মাত্র আড়াই মাস আগে আদালত থেকে জামিনে বের হয়েছিলেন হাসিব ও রাজন। এদের প্রত্যেকের নামে হত্যা, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত ৬টি করে মামলা চলমান রয়েছে। নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ পলাশ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য এবং পলাশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তবে হত্যার সাথে কারা জড়িত এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, নগরীতে মাদক ও আধিপত্য নিয়ে পলাশের সাথে গ্রেনেড বাবু বা বি কোম্পানীর প্রকাশ্য দন্দ্ব রয়েছে। একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে এ গ্রুপ। উভয়গ্রুপের একাধিক সদস্য খুনও হয়েছে। সর্বশেষ জেলখানায়ও এই গ্রুপ দুটির সদস্যরা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা করলে চিহ্নিত কয়েকজনকে কাশিমপুরে হাইসিকিউরিটি জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মন্তব্য করুন