

দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্য সংযোগ রুট চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখনো দুই লেনের। যানজট ও দুর্ঘটনা এ সড়কের নিত্যদিনের সঙ্গী। গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে মহাসড়কের বড় এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
১৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অন্তত ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরেই এ মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ৪৪ কিলোমিটার অংশে অন্তত ২২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের প্রাণহানি হয়, আহত হন শতাধিক।
স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হলে দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে, পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং পর্যটন শিল্পের গতি বাড়বে। এ কারণে মহাসড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
রোববার সকালে ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর লোহাগাড়া স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের উভয় পাশে এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, প্রশাসনের আশ্বাসে দুপুর ১২টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, মহাসড়ক সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া চলমান এবং এটি দরপত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। আন্দোলনকারীদের কাছে এ তথ্য ছিল না।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সেতু এলাকায় গতকাল সকাল ১০টা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। প্রশাসনের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। পরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
চকরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুল কবির কালবেলাকে বলেন, মহাসড়কের চকরিয়া অংশে ৪৪ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে মানুষের জীবন অকালে শেষ হচ্ছে। তাই মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা এখানকার মানুষের প্রাণের দাবি।
চকরিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান কালবেলাকে জানান, সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে ২০১৩-১৫ সালে সুইডিশ কনসালট্যান্ট একটি সমীক্ষা করে। এ প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ১০ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে জাপানের মারুবেনি ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ আরও সমীক্ষা করে। যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদন শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে জাইকার অর্থায়নে আরেকটি সমীক্ষা চলছে।
এরই মধ্যে ৪৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে, ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে পুরো সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানা গেছে। বুয়েটের সমীক্ষা অনুযায়ী, ছয় লেনের বিদ্যমান সড়ক বা ভায়াডাক্ট সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যানবাহনের গতিবেগ বাড়ানো এবং দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন