চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রাণ হারালেন পাহাড়তলী ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মান্না (৫০)। পুলিশ সূত্র বলছে, নির্বাচনের ৮ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারার দ্বন্দ্বে হাতাহাতির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে মো. হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া আশরাফ আলী রোডের এবতেদায়ি মাদ্রাসার মোড়ে পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
মো. হোসেন সরাইপাড়া আব্দুস সালাম দফাদার বাড়ির মৃত নুরু মিয়ার ছেলে। তাকে ছুরিকাঘাত করা জসিমও একই এলাকার বাসিন্দা। হোসেন ও জসিম সম্পর্কে বন্ধু।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২ জুন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আফছারুল আমীনের মৃত্যু হয়। এরপর ৩০ জুলাই সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় নির্বাচনের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে হোসেনের সঙ্গে তার বন্ধুর শত্রুতা তৈরি হয়। এর জের ধরে আজ রোববার তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হোসেনকে প্রতিপক্ষের লোকজন ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।
এ বিষয়ে জানতে পাহাড়তলী জোনের এসি আরিফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, সরাইপাড়া আশরাফ আলী রোডের এবতেদায়ি মাদ্রাসার মোড়ে দাঁড়িয়ে মো হোসেন মান্না ও জসীম কথা বলছিল। তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ছিল। এসব বিষয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জসীম ছুরি বের করে হোসেনের পেটে চালিয়ে দেয়। হোসেনের লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে আমাদের অফিসাররা সুরতহাল করছেন। এরপর তার লাশ মর্গে পাঠানো হবে।
মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও মামলা হয়নি। সবাই হাসপাতালে ব্যস্ত আছে। সেখান থেকে এলে আমরা মামলা নিব।
পাহাড়তলী থানার ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ছুরিকাঘাতে এক আওয়ামী লীগ নেতা খুন হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে তার মরদেহ পাঠানো হয়েছে। আমরা সুরতহাল করেছি এবং অভিযান করছি। অভিযুক্ত জসীম এবং ভুক্তভোগী হোসেন তারা উভয়েই সম্পর্কে ভালো বন্ধু ছিলেন। পূর্ববিরোধের জের ধরে ব্যক্তিগত ইস্যুতে একপর্যায়ে হত্যা করা হয়। অভিযুক্তরা পালিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক কালবেলাকে বলেন, পাহাড়তলী থানার একজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। পুলিশ সুরতহাল করছে। এরপর মর্গে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন