সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মুনাফার পথে না হেঁটে কৃষকের পাশে, আব্দুল আওয়াল মিন্টুর কৃষিযাত্রা

আব্দুল আওয়াল মিন্টু। ছবি : সংগৃহীত
আব্দুল আওয়াল মিন্টু। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের কৃষিখাতে নীরবে প্রভাব রেখে যারা কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম নাম আব্দুল আওয়াল মিন্টু। উন্নত ও নির্ভরযোগ্য বীজের মাধ্যমে কৃষকদের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করার যে উদ্যোগ, তার অন্যতম পথিকৃৎ তিনি।

১৯৯০ এর দশকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের আমন্ত্রণে নেদারল্যান্ডসের কৃষি বিজ্ঞানী সাইমন গ্রুট বাংলাদেশে আসেন। ঢাকার একটি হোটেলে কাকতালীয় সাক্ষাতে এক আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের কৃষি বাস্তবতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। উন্নত ও রোগসহনশীল বীজের অভাব, ভুল বীজে ভুল ফসল, অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের খরচে কৃষকের লোকসানের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অবস্থা কৃষকদের জন্য প্রায় দাসপ্রথার মতো।

এই কথাগুলো গভীরভাবে নাড়া দেয় তৎকালীন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ আব্দুল আওয়াল মিন্টুকে। পরবর্তীতে তিনি জাপান থেকে উন্নতমানের বীজ এনে বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। ফল আশাব্যঞ্জক হওয়ায় ১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বীজ উৎপাদন ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লাল তীর।

বর্তমানে লাল তীর দেশের মোট বীজ বাজারের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই সাধারণ কৃষকদের নাগালে বীজ পৌঁছে দেওয়ার নীতিতে কাজ করেছে। নিজস্ব গবেষণাগার, দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গবেষণা দল, মাঠপর্যায়ে বিনামূল্যে বীজ ও উপকরণ দিয়ে পরীক্ষামূলক চাষ সবকিছুই ছিল কৃষকের বাস্তব প্রয়োজনকে সামনে রেখে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লাল তীরের গবেষণা মাঠ রয়েছে। পাশাপাশি গরু ও মহিষের উন্নত সিমেন নিয়েও গবেষণা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে বাগেরহাটের রামপালে স্থাপিত গবেষণা কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নদীতে উজানের বাঁধের কারণে বাড়তে থাকা লবণাক্ততায় যে জমিগুলো চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে, সেগুলোকে আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এসব গবেষণার মাধ্যমে।

যেখানে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্রুত মুনাফার খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী, সেখানে আব্দুল আওয়াল মিন্টু বেছে নিয়েছেন ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু কৃষকের জন্য লাভজনক পথ। ফলে গ্রামবাংলায় 'লাল তীর' এখন ন্যায্য দামে নির্ভরযোগ্য বীজের প্রতীক। বীজ বপনের পর চারা না ওঠার অনিশ্চয়তা কিংবা ভুল ফসলের ভয় অনেকটাই কমেছে বলে জানান কৃষকরা।

টেক্সটাইল, রডসহ বিভিন্ন খাতে সফল ব্যবসায়ী হয়েও নিশ্চিত লাভের পথ ছেড়ে কৃষিখাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ তাকে আলাদা করেছে। যারা তাকে কাছ থেকে চেনেন, তাদের মতে তিনি প্রচারবিমুখ, ভদ্র ও বিনয়ী একজন মানুষ।

মাঠের কৃষকদের অভিজ্ঞতায় আব্দুল আওয়াল মিন্টু আজ কেবল একজন ব্যবসায়ী নন, বরং কৃষির প্রতি নীরব দায়িত্ববোধের প্রতীক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাবুলের ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের আশঙ্কা

চুরি করতে গিয়ে ২ যুবকের করুণ পরিণতি

‘২০০৪ সালে কেঁদেছিলাম, এবারো একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো’

ঢাকার আর্চবিশপ হাউসে রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বড়দিনের পুনর্মিলনী

চট্টগ্রামে র‍্যাবের ওপর হামলা, জিম্মি ৩ সদস্য

ইকুরিয়া বিআরটিএতে অভিযান, কারাগারে ২ দালাল

রাজশাহীতে স্কিন ক্যাফে ইয়ুথ কার্নিভাল 

ঋণ জালিয়াতি মামলায় পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

যে কৌশলে ৩৭ বছর পর ভারত-বধ

তারেক রহমানকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে হবে : রিজভী

১০

পাকিস্তানে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ২১

১১

র‍্যাবের অভিযানে ৭২০ পিস গুলিসহ এয়ারগান উদ্ধার

১২

জাহিদ মালেকের দুই মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

১৩

সিলেট-৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যিনি

১৪

বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নানের সম্পত্তি দেখভালে রিসিভার নিয়োগ

১৫

লঞ্চ থেকে জব্দ ৫০ মণ জাটকা গেল এতিমখানায়

১৬

জানা গেল শবে বরাত কবে

১৭

এস আলমের সম্পত্তি দেখভালে রিসিভার নিয়োগ

১৮

আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : জাতিসংঘ মহাসচিব

১৯

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক চাপ অনুভব করছি না : চীনা রাষ্ট্রদূত

২০
X