মিনহাজ তুহিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৩ মাস ধরে তদন্ত, দায়ী শনাক্ত না করেই প্রতিবেদন!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো। ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো। ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

স্নাতকের (অনার্স) শেষ দিনের লিখিত পরীক্ষা দিতে বসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শুরুর অল্প কিছুক্ষণ বাকি। এর মধ্যেই ঘটে যায় বড় অঘটন। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সরাসরি বিভাগের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জানান প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। আগের দিন উড়ো চিঠিতে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার দিনের প্রশ্নের হুবহু মিল পান তারা।

পরীক্ষা স্থগিত করে একই দিন জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যে কমিটি তিন মাস ধরে তদন্তকাজ চালালেও প্রশ্নফাঁসের হোতাকে শনাক্ত না করেই জমা দিয়েছে প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনে পরীক্ষা কমিটির কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্ন ফাঁস করেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অসতর্কতার দায়ে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলী আজগর চৌধুরীকে সতর্ক করার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদন জমার পর প্রশ্নফাঁসের আলোচিত এই ঘটনার উত্তাপ আপাতত কমলেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক মাস আগে উপাচার্যকে দেওয়া এক চিঠি ঘিরে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ওই ঘটনার অধিকতর তদন্ত চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেন শাস্তি পাওয়া অধ্যাপক ড. আলী আজগর চৌধুরী।

চিঠিতে তিনি একজন সহকর্মীকে সন্দেহ করার কথা জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনাসহ প্রশ্ন প্রণয়ন-সংক্রান্ত আরও একটি ঘটনার দুটি সিসিটিভি ফুটেজ থাকার কথা উল্লেখ করেন। ওই চিঠির পর প্রশ্ন ফাঁসের হোতা কে, তা নিয়ে ফের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে চিঠি জমার এক মাসের বেশি পার হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অধিকতর তদন্ত চেয়ে উপাচার্যকে লেখা চিঠিতে অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী বলেছেন, এই তদন্তের বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে কে বা কারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন, সেটি উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি এবং অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি উদঘাটনের সুপারিশও করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যদি কোনো সীমাবদ্ধতা বা অস্পষ্টতা থাকে, তাহলে সিন্ডিকেট অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সেটি উদ্ঘাটনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি হয়তো কিছু সীমাবদ্ধতা ও সময় স্বল্পতার কারণে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিত করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের আলোকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও কে বা কারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটিয়েছে, তা অধিকতর তদন্তের ব্যবস্থা নেয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু তথ্য পেয়েছি, তার ভিত্তিতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। আমরা কাউকে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করিনি। এখন পরীক্ষা কমিটির সভাপতি যদি আরও কিছু তথ্যপ্রমাণ পেয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন। এতে কর্তৃপক্ষ প্রকৃত সত্য বের করতে পারবে।’

আর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার বলেন, ‘আমাদের অসংখ্য তদন্ত কমিটি হয়েছে। কতগুলো তদন্ত কমিটি হয়েছে আমি নিজেও মাথায় রাখতে পারি না। চিঠির বিষয়টি সামনে এলে আমরা দেখব কী করা যায়।’

কালবেলা/এনএএস
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছুটির দিনে দীর্ঘ সময় যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ

মধ্যরাতে রাস্তায় পুলিশ দম্পতির মারামারি

শুক্রবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

২৪ জুলাই  / ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার যুবক

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার

সকালের মধ্যে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

আজকের নামাজের সময়সূচি

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে এরপর কী? জেনে নিন সংবিধানের বিধান

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা, সফর সংক্ষিপ্ত করে আজই দেশে ফিরছেন স্পিকার

১০

অবশেষে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

১১

দুর্যোগ তহবিল আটকে দেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

১২

সকালের মধ্যেই ঢাকাসহ ১০ জেলায় হতে পারে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি

১৩

ইইউসহ ৬০ বাণিজ্য দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

১৪

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

১৫

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: সিসিক প্রশাসক

১৬

সিলেটে বিপৎসীমার কাছাকাছি নদ-নদীর পানি, আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা

১৭

রোড রোলার প্রশিক্ষণে সুইডেন সফরের খবর ভিত্তিহীন: চসিক মেয়র

১৮

ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ফের আদালত চত্বরে হামলার চেষ্টা

১৯

তদন্ত চলাকালেই বদলি চসিকের আলোচিত সেই প্রকৌশলী দম্পতি

২০
X