

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ওপর হামলায় ডিএডি আব্দুল মোতালেব নিহত হওয়ার ঘটনায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। সে ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন র্যাব সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ইকবাল কনভেনশন হল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ইকবাল কনভেনশন হল এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইউনুছ আলী হাওলাদারকে (৬২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন পতেঙ্গা থানার ওয়াসা গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার সন্দেহভাজন আরেক আসামি খন্দকার জাহিদ হোসেনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে র্যাব সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় একজন র্যাব কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাব-৭ -এর একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানের সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার থেকে পাঁচ শতাধিক দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধভাবে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ হামলায় চারজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশি সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিএডি মো. আব্দুল মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর ৩ র্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে একজন র্যাব কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় র্যাব-৭ বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা ও নাশকতার মামলা দায়ের করে। মামলায় ২৯ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ২ আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মন্তব্য করুন