চট্টগ্রামের আলোচিত পুলিশ হেফাজতে দুদক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। এবার ওই মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আদালত নিজেই মামলা করেছেন।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. অলিউল্লাহ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম প্রথম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিথ্যা মামলার বাদী রনি আক্তার তানিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ কালবেলাকে বলেন, দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ও মোহাম্মদ কায়সার আনোয়ারকে আসামি করে বাদী রনি আক্তার তানিয়ার দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা বলে তা প্রত্যাহারের আবেদন করেন বাদী নিজেই। এ দরখাস্তের বিষয়ে আজ আদালতের আদেশের দিন ধার্য ছিল। আদালত মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করে মিথ্যা মামলায় দায়ে বাদী তানিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রনি আক্তার তানিয়া গৃহপরিচারিকার বেতন না দিয়ে মারধরের অভিযোগে দুদকের সাবেক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ সদস্যদের দ্বারা হেনস্তার স্বীকার হন সাবেক দুদক কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ। পরে পুলিশ হেফাজতেই তিনি মারা যান। এরপর ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, আদালতের বেঞ্চ সহকারীর বিরুদ্ধে সমন গোপন করে ওয়ারেন্ট ইস্যুর অভিযোগ আসে। পরে গত ৮ অক্টোবর সেই বেঞ্চ সহকারীকে ষষ্ঠ থেকে চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশকার হিসেবে বদলি করা হয়। ৯ অক্টোবর তাকে চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী থেকেও সরিয়ে নেজারত শাখার ক্যাশিয়ার পদে বদলি করা হয়। মামলা তদন্তের আদেশ দেওয়া হয় পিবিআইকে। গত ১৬ অক্টোবর দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন মামলার বাদী রনি আক্তার তানিয়া। এস এম আসাদুজ্জামান, মো. লিটন ও মো. জসিমের প্ররোচনায় এ মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বলে আদালতে আবেদন জানিয়ে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী তানিয়া। মামলা প্রত্যাহারের দরখাস্তের বিষয়ে সোমবার আদেশের দিন ধার্য ছিল। আদালত মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং একইসঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় এ মামলার বাদীসহ এস এম আসাদুজ্জামান, মো. লিটন ও মো. জসিমের বিরুদ্ধে আদালতের বিচারক মো. অলিউল্লাহ বাদী হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে মামলা করেন। পরে মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন