রাজশাহীর দুর্গাপুরে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বাবা-মাকে অত্যাচার ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও তা আমলে নেয়নি পুলিশ। পরে নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম মন্ডল (৭০) ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৬২)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের সুখানদিঘী গ্রামে। সোমবার (১৬ জুলাই) দুপুর এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার তিনজন ছেলে। সবাই নিজেদের মতো আলাদা আলাদা সংসার করেন। বড় ছেলে রহিদুল ইসলাম পল্টু জোরপূর্বক আমার অধীনে থাকা ১০ কাঠা ধানের জমি দখলের চেষ্টা করে। এ জমি থেকে বছরে যে ধান পাই তা দিয়ে স্বামী স্ত্রী সারাবছর ভাত খাই। হঠাৎ সেই জমির প্রতি আমার বড় ছেলে পল্টুর চোখ পড়ে। সে ওই জমি দখল নিতে আমাদের নানাভাবে অত্যচার শুরু করে।
সোমবার বেলা ১১ টার দিকে বল্টু কয়েকজন বখাটে লোক ভাড়া করে আমার ধানি জমিটুকু দখল করতে যায়। এ সময় আমার মেজো ছেলে মিঠুকে সেখানে পাঠালে পল্টু ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে তাড়া করে। সে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে গিয়ে কোনোরকম রক্ষা পায়।
নুরুল ইসলাম আরও বলেন, সোমবার দুপুরে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। পরে আমরা বাড়ি ফিরে যাই।
এ বিষয়ে থানার এএসআই ও দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার কামারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ নেইনি বিষয়টা এমনটা না। নুরুল ইসলাম বৃদ্ধ মানুষ, তাই তিনি বাদী না হয়ে তার মেজো ছেলেকে দিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে বলি। তারা এ বিষয়ে রাজি হননি। পরে অবশ্য তাদের ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা আর থানায় আসেননি।
অভিযোগ না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই কামারুজ্জামান বলেন, যেহেতু বিষয়টা পারিবারিক। বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ। তাই তাদের এ বিষয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম।
এদিকে অভিযোগকারী নুরুল ইসলামের বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম পল্টুর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে পল্টুর স্ত্রী কল রিসিভ করেন। এ সময় পল্টুকে চাইলে তিনি বাসায় নেই বলে জানান তিনি। আর ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টুর স্ত্রী এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খায়রুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল করা হলেও তিন কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছেলের বিষয়ে বাবা-মায়ের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুঠিয়া) সার্কেল রাজিবুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ মূলত ইউনিয়নের গ্রাম আদালতেই সমাধান হয়ে যায়। তারা না পারলে থানায় বিষয়টা ফয়সালা করা হয়। থানার পুলিশ কেন অভিযোগ নেননি, এ বিষয়টা আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।
মন্তব্য করুন