ঝিনাইদহ ব্যুরো
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৪, ০৬:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রদের তোপের মুখে কার্যালয় ছাড়লেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এসএম রফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এসএম রফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের তোপের মুখে ছুটি নিয়ে কার্যালয় ছাড়লেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান ও সদর থানার এসআই ফরিদকে ছাত্রদের দাবির মুখে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা পুলিশ।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের দুর্নীতি, দলীয়করণ, ঘুষ বাণিজ্য ও অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য পাচারের অভিযোগ এনে ছাত্ররা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। বিসিএস ২৫ ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে জেলা প্রশাসক দপ্তর, কালেক্টরেট স্কুল ও চক্ষু হাসপাতালসহ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তার দুর্ব্যবহারে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছিলেন অতিষ্ঠ। জেলা প্রশাসক হয়েও তিনি দলীয় নেতার মতো আচার আচরণ করতেন বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করে।

একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক এসএম রফিকুল ইসলাম বিক্ষোভের মুখে অফিস ছাড়তে বাধ্য হন। পরে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রজনতা ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান ও পুলিশের এসআই ফরিদকে অপসারণের দাবি জানাতে থাকেন। এ সময় পুলিশ সুপার আজিম উল আহসানের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপদেষ্টা সাবিক মোহাম্মদ আল হাসান, সমন্বয়ক আবু হুরাইরা ও সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে ছাত্র আন্দোলনের সময় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান ও পুলিশের এসআই ফরিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ছাত্রনেতারা দ্রুত এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঝিনাইদহ ছাড়ার আল্টিমেটাম দিলে পুলিশ সুপার ছাত্রদের দাবির মুখে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান ও পুলিশের এসআই ফরিদকে ছুটি দিয়ে কর্মস্থল ছাড়ার কথা জানান।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপদেষ্টা সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান, সমন্বয়ক আবু হুরায়রা, সাইদুর রহমান, এলমা খাতুন, রত্না খাতুন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এসএম সোমেনুজ্জামান সোমেন, সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক, ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ, ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন, বখতিয়ার মাহমুদ, মাহবুব আলম মিলু ও আব্দুস সালামসহ বিপুল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সমন্বয়ক আবু হুরায়রা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, প্রশাসনে হাসিনার কোনো দোসরকে রাখা হবে না। তারা প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থেকে আবারও আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান ও পুলিশের এসআই ফরিদ নিজেদের ছাত্রলীগের টোকাই কর্মী বলে পরিচয় দিতেন। ছাত্র আন্দোলনের সময় এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীর মতো।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিসিবিকে কি সময় বেঁধে দিয়েছে আইসিসি, জানা গেল আসল তথ্য

পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

তারেক রহমান সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়বেন : হাবিব 

রাজনীতি হওয়া উচিত দেশের মানুষের জন্য : তারেক রহমান

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন রুমিন ফারহানা

রাজনীতি হবে সেবার জন্য, কর্তৃত্বের জন্য নয় : রবিউল আলম

জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ৫, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত

দুইয়ে এমবাপ্পে, শীর্ষে রোনালদো

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির পুষ্পস্তবক অর্পণ

১০

চেকপোস্টে ধরা পড়ল ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র

১১

অমিতের সঙ্গে নাচলেন কালজয়ী গানে শাবনূর

১২

রাজধানীতে চালু হচ্ছে ই-টিকিট 

১৩

আফ্রিকায় গোপন কারাগারের সন্ধান, ২০০ অভিবাসী মুক্ত

১৪

তারেক রহমানের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

১৫

অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৬

গণঅধিকার পরিষদ নেতাকে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া

১৭

৩৫ বাংলাদেশি কর্মীকে ফেরত পাঠাল রাশিয়া

১৮

পরিচয় মিলল বস্তাবন্দি সেই মরদেহের

১৯

সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয় : অন্তর্বর্তী সরকার

২০
X