মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

মেহেরপুর শহরের বড় বাজারে অবস্থিত শতবর্ষী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। ছবি : কালবেলা
মেহেরপুর শহরের বড় বাজারে অবস্থিত শতবর্ষী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। ছবি : কালবেলা

শারদীয় দুর্গাপূজার দিনক্ষণ গণনা শুরু। এ উৎসবে প্রধান উপজীব্য প্রতিমা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে মেহেরপুরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। সম্প্রতি সরেজমিনে মেহেরপুর শহরের বড় বাজারে অবস্থিত শতবর্ষী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে গিয়ে কারিগরদের প্রতিমা তৈরি করতে দেখা য়ায়। নিভৃতে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় এখন চলছে খড় আর কাদামাটি দিয়ে প্রাথমিক কাজ। কিছুদিন বিরতি দিয়ে প্রতিমাতে দেওয়া হবে রংতুলির আঁচড়।

কোলাহল মুক্ত পরিবেশে মৃৎশিল্পী সজল কুমার পাল, সজীব কুমার পাল ও বনমালী কুমার পাল দলবদ্ধ হয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা এসেছেন মাগুরা জেলার মহম্মদপুর এলাকা থেকে।

জানা যায়, একটি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে এই মৃৎশিল্পীদের তিন থেকে চার দিন সময় লাগে। আর বড় মণ্ডপের হলে সেক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। মেহেরপুরে দুইটি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তারা। একটি মণ্ডপে প্রতিমার প্রাথমিক কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির প্রাঙ্গণের প্রতিমাটির প্রাথমিক কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। অন্য আরেকটি প্রতিমা তৈরি করে ১৫ দিন পর ফের মেহেরপুরে আসবেন তৈরিকৃত প্রতিমাগুলোতে রংতুলির আঁচড় দিতে। প্রতিবছরই তারা অধীর আগ্রহে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। শুধু জীবিকার জন্যই নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি, ভক্তি আর ভালোবাসা।

প্রতিমার কারিগর সজল কুমার পাল বলেন, ‘আমি ১২ বছর ধরে এই মন্দিরে প্রতিমার তৈরির কাজে নিয়োজিত আছি। প্রতিবছর আমরা ১০ থেকে ১২টি প্রতিমা তৈরি করি। এসব তৈরি করে পারিশ্রমিক হিসেবে যে অর্থ উপার্জন করি এটা মোটামুটি। তবে টাকার চেয়ে ধর্মীয় অনুভূতি ও ভক্তি আমাদের মধ্যে বেশি কাজ করে।’

অপর কারিগর সজীব কুমার পাল বলেন, ‘এখানে আমি এবারই প্রথম কাজ করছি। প্রতিমাটির কাজ সমাপ্ত হলে আমরা আরও তিন-চারটি প্রতিমার কাজ করব।’

মৃৎশিল্পী বনমালী কুমার পাল কালবেলাকে বলেন, ‘মেহেরপুর জেলায় আমরা দুটি কাজ করেছি, একটি হালদার পাড়ায় ও অন্যটি বড় বাজারে। এ বছর আমি আমার দল নিয়ে এ পর্যন্ত নয়টা প্রতিমা তৈরি করেছি। বাকি সময়ে আরও চার-পাঁচটা বানাব। প্রাথমিকভাবে প্রতিমা তৈরির ১০ থেকে ১৫ দিন পর আমরা সেগুলোতে রং করি।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কিছুদিন পরই দেবী দুর্গা আসবেন মর্তলোকে। তার এই আগমনকে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন সারা দেশের প্রতিমা তৈরির কারিগর মৃৎশিল্পীরা। বাঙালি হিন্দুর উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় মহাষষ্ঠী থেকে। আগামী ৯ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হবে আর শেষে হবে ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাদ্দামের মতো পরিণতি কোনো দলের কর্মীর না হোক : রুমিন ফারহানা

চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায় আজ

আজ থেকে রেকর্ড দামে বিক্রি হবে স্বর্ণ

জনগণই হবে ভোটের পাহারাদার : তারেক রহমান

মির্জা ফখরুলের জন্মদিন আজ

সাড়ে তিনশ মানুষ নিয়ে ফিলিপাইনে ফেরি ডুবি

বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩

ইথিওপিয়ায় এক প্রকল্পেই ১১ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি

আজ টানা ৭ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

হাসনাতকে সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠ ছাড়লেন আরেক প্রার্থী 

১০

খালেদা জিয়ার সম্মানে ধানের শীষকে জনগণ বিজয়ী করবে : রহমাতুল্লাহ

১১

আজ টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১২

যেসব কারণে অফিসে ব্যক্তিগত কথা বলবেন না

১৩

সোমবার রাজধানীতে যেসব মার্কেট বন্ধ

১৪

ধানের শীষকে বিজয়ী করে ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেব : নজরুল ইসলাম

১৫

সফল দিনের শুরু করতে যেসব কাজ করবেন না

১৬

এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ দিচ্ছে রূপায়ন গ্রুপ

১৭

২৬ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৮

বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের জন্য ভোটের প্রচারণায় ডা. বিটু 

১৯

ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

২০
X