বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি এবং পূর্ণিমার প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে বিভাগের ছয় জেলার গুরুত্বপূর্ণ ১০টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে ওইসব নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় জেলা এবং উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
বিশেষ করে বরিশাল নগরীর কোলঘেষে বয়ে চলা কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সদরে ঢুকছে। পানি বৃদ্ধিতে বহু ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ফসলি জমিতে পানি উঠে তলিয়ে গেছে। একদিকে বৃষ্টি এবং অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ১৪ মিটার অতিক্রম করে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে নগরীর নিম্নাঞ্চল পলাশপুর, বেলতলা, চরমোনাই, কেডিসি বালুরমাঠ এলাকায় হাটুসমান পানি জমেছে। এছাড়া নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ড্রেন হয়ে শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের ১০টি নদীর মধ্যে সর্বোচ্চ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ভোলা হেলার তজুমদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলাধীন মেঘনা ও সুরমা নদীতে। তজুমুদ্দিন উপজেলায় মেঘনা ও সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ২ মিটার ওপর দিয়ে দিয়ে এবং দৌলতখান পয়েন্টের এই দুই নদীর পানি বিপদসীমা ২ দশমিক ৭৫ মিটার অতিক্রম করে ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভোলা সদরে খেয়াঘাট পয়েন্টে তেতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার ছুয়েছে।
এছাড়া বরিশালের হিজলা উপজেলার ধর্মগঞ্জ নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৫০ মিটার অতিক্রম করে ৩৬ সেন্টিমিটার, বরগুনার বিষখালী নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯৭ মিটার অতিক্রম করে ৪৩ সেন্টিমিটার, একই নদীর আরও ৩টি পয়েন্ট যথাক্রমে পাথরঘাটায় বিপৎসীমা ১ দশমিক ৮৫ মিটার অতিক্রম করে ৫৭ সেন্টিমিটার, বেতাগী পয়েন্টের বিপদসীমা ১ দশমিক ৬৮ মিটার অতিক্রম করে ৩১ সেন্টিমিটার ও ঝালকাঠী জেলার বিষখালী নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে পিরোজপুরে বলেশ্বর নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার অতিক্রম করে ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টের বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ মিটার অতিক্রম করে ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ উপজেলাধীন বুড়িশ্বর ও পায়রা নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৮০ মিটার অতিক্রম করে ২৫ সেন্টিমিটার এবং আমতলী উপজেলাধীন বুড়িশ্বর নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৭ মিটার অতিক্রম করে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলাধীন বুড়িশ্বর নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, লোহালিয়া নদীর কাটিপাড়া পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ভরা পূর্ণিমায় নদ-নদীর পানি এমনিতেই স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তার ওপর কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণের কারণে নদ-নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানি কমতে আরও দুই-একদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে গত তিনদিন ধরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি, আবার কখনো ভাড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে।
মন্তব্য করুন